প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সড়কে কঠোর পুলিশ, মুভমেন্ট পাস না থাকলে বাসায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে

সুজন কৈরী ও শিমুল মাহমুদ: [২] করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত আট দিনের বিধিনিষেধ চলাকালে বুধবার সকাল থেকে পাল্টে গেছে রাজধানীর চিরচেনা চিত্র। সড়কে কোনো যানবাহন নেই, দোকানপাট বন্ধ, ফুটপাতগুলোও ফাঁকা। তবে অনেক কৌতূহলী মানুষ বিধিনিষেধ ঠিকমতো পালিত হচ্ছে কি না তা দেখতে খুবই আগ্রহ নিয়ে বাইরে বের হয়েছেন। খোলা রয়েছে ওষুধ এবং নিত্যপণ্যের দোকান, কাঁচাবাজার।

[৩] সড়কে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, ওয়াসার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, সরকারি কর্মকর্তাদের বহনকারী যানবাহনসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

[৪] সড়ক এবং অলিগলিতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু রিকশা, ঠেলাগাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া লোকজনেরও চলাচল রয়েছে। কোথাও কোথাও তিন চারজন মিলে আড্ডা ও খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেছে। সকালে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের কাছে দেখো গেছে, দুই রিকশা চালককে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন। তাদের দেখে পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত গলিতে ঢুকে যায়। আবার বিভিন্ন অলিগলির প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে রাখতে দেখা গেছে।

[৫] রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। বাজার ও জনবহুল স্থানগুলোতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের টহল রয়েছে। এলাকাভিত্তিক গলির ভেতরের দোকানিরা টহল পুলিশের দিকে নজরদারি করেন। পুলিশ দেখলেই তারা দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করছেন। পুলিশি চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে। যারা জরুরি সেবার আওতায় কর্মরত তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মুভমেন্ট পাস থাকলে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে না হলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলে ছিলেন। বিভিন্ন মোড়ে মাইকিং করছেন, ‘অযথা কেউ বাসার বাইরে আসবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় থাকুন। মাস্ক পড়ুন।’

[৬] অনেক সড়কে কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। তবে সড়কগুলোতে জরুরি সেবা সংস্থার যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা খোলা রয়েছে।

[৭] শান্তিনগর ও মালিবাগ রেল গেইটের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচাবাজার করতে গিয়েছেন কেউ কেউ। শান্তিনগরের বাজারের সামনে বাজার ব্যবসায়ী সমিতি মাইকে প্রচার চালায়, ‘সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার খোলা থাকবে। বাজার শেষ করে দ্রুত বাসায় চলে যান। ভিড় করবেন না।’

[৯] জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। বুধবার দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু ও নয়াবাজার চেকপোষ্টে ২০টি পরিবহণের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

[১০] গাবতলীর চেকপোস্টে সার্জেন্ট শামসুদ্দিন শামস জানান, এখানে অপ্রয়োজনীয় চলাচলের জন্য ১৫টি যানবাহনকে মামলা দেওয়া হয়েছে।

[১১] ভাটারা থানার এসআই সাইদুল ইসলাম বলেন, বিধিনিষেধ যেন সবাই মেনে চলে সেলক্ষ্যে কাজ করছি।

[১২] যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার আগের সড়কে পুলিশের অবস্থান চোখে পড়ে। দেখা যায়, ফ্লাইওভার ও এর নিচে দিয়ে সায়দাবাদ, গুলিস্তান ও চানখারপুল যাওয়া প্রতিটি গাড়িকে আটকে চলাচলের কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। দায়িত্বরত যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই সাত্তার বলেন, সবাইকে থামিয়ে প্রথমেই আমরা তাদের কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাচ্ছি। অল্প সংখ্যক লোক পাস দেখাতে পারছেন। অনেকে আবার পুলিশকে ‘কিসের পাস’, ‘কোথায় দেয় এই পাস’ ইত্যাদি প্রশ্ন করছেন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির বাড়ি দনিয়া। তার মুভমেন্ট পাসে প্রয়োজনের জায়গায় ‘মুদি পণ্য কেনাকাটা’ উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি ঢাকা মেডিকেলে রোগী দেখতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠাচ্ছি।

[১৩] মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্দেশনা উপেক্ষা করে দোকান খোলায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। সম্পাদনা : রাশিদ

সর্বাধিক পঠিত