প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরাইলে অটোরিকশা চালক হত্যার জেরে গ্রামে আতঙ্ক

এএইচ রাফি: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক অটোচালক খুনের ঘটনায় গ্রামজুড়ে এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লুটপাটের।

[৩] স্থানীয়রা জানায়, গত ৭ এপ্রিল উপজেলার পাকশিমুল দক্ষিণ পাড়া গ্রামের কাসেম মিয়ার জমিতে কাজ করতে যায় শাহ আলী ও সিদ্দিক গ্রুপের দু’ দল শ্রমিক। পরে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। জানতে পেরে রাতেই স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বিষয়টির মিমাংসা করে দেন। ওই রাতেই গ্রামের হান্নান মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে ছুরিকাঘাত হত্যার ঘটনা ঘটে।

[৪] এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোলোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পাকশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৩৮জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার আতংকে প্রতিপক্ষের লোকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের প্রতিপক্ষের লোকজন। তারাও এই ঘটনায় চেয়ারম্যান সাইফুলকে দায়ী করছেন। হত্যা মামলা দায়েরের পর বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সমর্থকদের বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গৃহপালিত প্রানীও নিয়ে যায়। পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।

[৫] নিহত দেলোয়ারের মা জানান, আমার ছেলে একজন অটোরিক্সা চালক। এসব দ্বন্দ্ব সংঘাতের সাথে সে জড়িত ছিল না। দিনভর অটো চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

[৬] পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শামসুন্নাহার ববি জানান, গ্রামে দুটি প্রতিদ্বন্ধী গ্রুপ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে আমার স্বামী সেটি মীমাংসা করে দেন। খুনের ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিপক্ষের লোকজন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার স্বামীকে মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছে।

[৭] এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, আমার গোষ্ঠীর লোক খুন হলো, উল্টো আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মিথ্যা মামল দিয়ে হয়রানি করছে। আমাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে তারা অপপ্রচারসহ হামলা, মামলা করে হয়রাণি করছে। এর পেছনে সাবেক চেয়ারম্যান কাসম আলীর হাত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তিনি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

[৮] এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.এম.এম নাজমুল আহমেদ জানান, খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকার অরাজকতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন আছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত