প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ফের পিছনে নিয়ে যাচ্ছে কোভিড

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে কোভিড সংক্রমণের দ্বিতীয় ওয়েভে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমকে ফের পিছনে টানছে। দিনে দেড় লক্ষাধিক কোভিড সংক্রমণের হার মানুষের গতিশীলতাকে স্থির করে দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন শহরে এ গতিশীলতা রুদ্ধ হয়ে পড়ছে মারাত্মকভাবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন কোভিডের সঙ্গে লড়াই ও লকডাউনের শঙ্কা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সার্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে চলতি মাসে ক্রমাগত নতুন নতুন কোভিড সংক্রমণ রেকর্ড হওয়ায় ভাইরাসটি অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে বেকায়দায় ফেলে দেওয়ায় ২০২২-২২ সালের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আবারও কমবে। বিভিন্ন রাজ্যে ঘটনাক্রমে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে বিরূপ প্রভাবিত করে ফেলায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি ফের নিম্নহারের সংশোধনে চলে গিয়েছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে আইএমএফ আগামী অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়। গত জানুয়ারিতে আইএমএফ এ ধরনের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১১ শতাংশ হবে বলে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সংস্থা ফিচ রেটিংস, মুডি ও এসএন্ডপি ভারতের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির আভাস দেয়।

কিন্তু এসব পূর্বাভাস উল্টে দিয়েছে কোভিড সংক্রমণ। গত সোমবার ভারতে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়। ফলে ভারত সরকারকে কোথাও কোথাও আংশিক লকডাউন আরোপ করতে হয়। রাতে কার্ফিউ জারি ছাড়াও চলাফেরায় বিধিনিষেধ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। একই দিন গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ফার্ম নোমুরা ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে আগের চেয়ে ১ শতাংশ কমিয়ে তা সাড়ে ১১ শতাংশ হবে বলে। কোভিড সংক্রমণের হার হ্রাস না পেলে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি অন্তত ২ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাক্স। গত সপ্তাহে গোল্ডম্যানের এ পূর্বাভাস ছিল ৩১.৩ শতাংশ। গত মার্চে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ওঠে ৫.৫২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে শিল্প খাতে উৎপাদন হ্রাস পায় ৩.৬ শতাংশ। গত ১২ এপ্রিল বার্কলেস ইন্ডিয়ার প্রধান অর্থনীতি রাহুল বাজোরিয়া বলেন সর্বশেষ লকডাউন বা শাটডাউনে ভারতের অর্থনীতিতে ক্ষতি হবে ৮ হাজার কোটি রুপি বা সোয়া বিলিয়ন ডলার। এঅবস্থা আরো দুই মাস অব্যাহত থাকলে তা ভারতের জিডিপির শূণ্য দশমিক ২ শতাংশ গিলে খাবে। মানুষের চলাচলে গতিশীলতা হ্রাস পাওয়ায় দেশটির অর্থনীতির ৬০ শতাংশ স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির হাব বলে বিবেচিত মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিল নাড়ু ও রাজস্থানে কোভিড সংক্রমণ বাড়তে থাকায় লোকজনের চলাফেরা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে।

রাহুল বাজোরিয়া আরো বলেন, মানুষের চলাফেরা বা অর্থনৈতিক গতিশীলতার উপর কিছু বিধিনিষেধ সত্ত্বেও, যা বেশিরভাগ উচ্চ যোগাযোগের পরিষেবাগুলিকে প্রভাবিত করে এবং এরফলৈ উৎপাদন, আর্থিক পরিষেবা, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ক্রিয়াকলাপের মাত্রা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজোরিয়ার অনুমান হচ্ছে আগামী মে মাসের শেষ পর্যন্ত যদি বর্তমান বিধিনিষেধগুলি বজায় থাকে তাহলে এর ধাক্কা সামলাতেহবে ভারতের অর্থনীতিকে প্রায় ৭৫,০০০ কোটি রুপি (১০.৫ বিলিয়ন ডলার) বা ভারতের জিডিপির ০.৩৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ১.৪ শতাংশ পয়েন্ট, এরপরও রাহুল বাজোরিয়া চলতি বছর জিডিপি ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে এখনো আশা করছেন।

গত সপ্তাহে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ডত দাসও কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন যে ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি পুনরায় স্বাভাবিকতায় ফিরে আসতে পারে। গভর্নর বলেন যে লকডাউনগুলি চাহিদার অবস্থার মধ্যে দেখা পুনরুদ্ধারকে হ্রাস করতে পারে এবং দেশীয় প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গিতে অনিশ্চয়তা যুক্ত করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া অবশ্য পরবর্তী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধি দশমিক দশমিক পাঁচ শতাংশ ধরে রেখেছে। গত জানুয়ারিতে উপস্থাপিত অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২১-২২ সালে ভারতের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ভারতের অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই সংখ্যাগুলি রক্ষণশীল এবং অর্থনীতি আরও উচ্চ গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে। দি প্রিন্ট

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত