প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শত বছরের পুরাতন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লাপুরের শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীরা আবারোও শঙ্কায়

তৌহিদুর রহমান:[২] দেশের কয়েকটি শুটকি পল্লীর মাঝে শতবছর ধরে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর শুটকি পল্লীতে। এ পল্লী থেকে বছরে ১৫০- ২০০ কোটি টাকার শুটকি বাজারজাত করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৩] কিন্তু আবারও করোনার সংক্রমণ হারে ঊর্ধ্বগতির কারণে শঙ্কায় পড়েছেন শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীরা। তবে গেল বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ব্যবসা না হওয়ায় মজুদ করা শুটকি নষ্ট হয়ে অন্তত ১২ কোটি টাকার লোকসান হয় ব্যবসায়ীদের।

[৪] যদিও মহামারির প্রভাব কাটিয়ে গত ডিসেম্বর মাস থেকে স্বাভাবিক হয়ে উঠছিল লালপুর শুটকি পল্লী, চলতি বছর বিক্রির জন্য প্রায় শতাধিক কোটি টাকার শুটকি মজুদ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আবারও করোনার সংক্রমণ হারে ঊর্ধ্বগতির কারণে শঙ্কায় পড়েছেন শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ীরা।

[৫] খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামটিতে শতবছর ধরে শুটকি তৈরি হওয়ায় গ্রামটিকে এখন শুটকি পল্লী হিসেবে চেনেন সবাই। এ পল্লীর কয়েকশ পরিবার শুটকি তৈরি ও বিক্রির সাথে যুক্ত।

[৬] লালপুর শুটকি পল্লীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিনশব্যবসায়ী আছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ এনে প্রক্রিয়াজত করে শুটকি তৈরি করা হয় এখানে। শুটকিগুলো গ্রামের মেঘনা নদীর পাশে মাচায় শুকানো হয়।

[৭] দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাতকরণের পাশাপাশি ভারতেও রপ্তানি হয় লালপুরের শুটকি। বর্তমানে আকার ও মানভেদে শুটকি পল্লী থেকে প্রতি কেজি পুঁটি শুটকি বিক্রি হচ্ছে ১০০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা আড়াইশ থেকে ৬০০ টাকা, চান্দা ৩৫০-৪৫০ টাকা, গইন্না ৩০০-৬০০ টাকা, বুজুরি আড়াইশ থেকে ৩৫০ টাকা এবং তারাবাইম শুটকি বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকা পর্যন্ত দামে।

[৮] মূলত অক্টোবর- মার্চ পর্যন্ত মাছ সংগ্রহ করে শুটকি তৈরির কর্মজজ্ঞ চলে শুটকি পল্লীতে। এসময় শুটকি তৈরি করে বেচাকেনার পাশাপাশি মজুদও করা হয়। পরবর্তী সময়ে মজুদকৃত শুটকিগুলো এপ্রিল- সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।

[৯] লালপুর শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ী বিমল দাস বলেন, ‘বছরে আমি ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শুটকি বিক্রি করতে পারি। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে আমাদের পল্লী থেকে শুটকি নিয়ে যান। করোনার কারণে মজুদকৃত শুটকি নষ্ট হয়ে আমার ৪-৫ লাখ টাকার লোকসান হয়।

[১০] গত জানুয়ারি মাস থেকে আবারও শুটকি বেচাকেনা শুরু হেয়েছিল। এখন আবারও করোনায় প্রকোপ বাড়ায় আমার মজুদ করা শুটকি নিয়ে শঙ্কায় আছি। লালপুরে আরেক শুটকি পল্লীর ব্যবসায়ী নারায়ন দাস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সময় বেচাকেনা না হওয়ায় গুদামে মজুদ করে রাখা বিগত বছরের অধিকাংশ শুটকি নষ্ট হয়ে যায়।

[১১] এতে করে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীদেরকেই লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু এখন করোনার যে হাল দেখছি, যদি টানা লকডাউন চলে তাহলে আমারা বিপর্যয়ে পড়বো,’ যোগ করেন তিনি।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

সর্বাধিক পঠিত