প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশ্বনেতাদের চোখে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক : শুক্রবার (২৬ মার্চ) জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশের রাষ্ট্রপতি ও পাকিস্তানসহ দুটি দেশের সরকার প্রধান অনলাইনে ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকার প্রধান বাংলাদেশে সফরে এসে প্রশংসা করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের পাশাপাশি অনেক দেশের বিরোধী দলের নেতারাও বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন।

অনলাইন ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। গত ৫০ বছরে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভবিষ্যতের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মানোন্নয়ন করতে চান তিনি। ইমরান খানের পক্ষে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বার্তা পড়ে শোনান।

বন্ধুপ্রতীম রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তা পড়ে শোনান দেশটির রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আই ইগনিটভ। পুতিন বলেছেন, সামনে আরও অনেক কাজ করার আছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান তার বার্তায় বলেন, কোভিডের কারণে আসতে না পারলেও, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন নিজের চোখে দেখতে আসবেন শিগগিরই। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও জানিয়েছেন শুভেচ্ছা বার্তা। তার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার পাঠ করে বলেন, বাংলাদেশ একটু নতুন আশা জাগানিয়া দেশ।

এরআগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী তার বার্তায় বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন রয়েছে। অন্য ক্ষেত্রে অগ্রগতিও অভাবনীয়, যা বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে।’

ভিডিওবার্তায় জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার বলেন, ‘উদ্ভাবনী উন্নয়ন নীতি ও কৌশল গ্রহণ করে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হয়েছে।’

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘গত ৫০ বছরে দেশটি অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দারিদ্র্য কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। এর ফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের জনগণ একের পর এক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এসেছে। প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় তাদের সাফল্য আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি এবং তা অব্যাহত আছে। সরকার তার জনগণের জন্য সংগ্রাম করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখছে। উল্লেখযোগ্য হারে দারিদ্র্য কমিয়েছে। বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের এই সাফল্যে আনন্দিত।’

শুভেচ্ছাবার্তায় রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘বাংলাদেশে ভিন্ন ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করছে। এমন বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রজ্ঞার ফসল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক জীবন দেশটির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। পাশাপাশি এটা বিগত সময়ের সংলাপ ও বৈচিত্র্যের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি বাংলাদেশের আরও অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। বাংলাদেশের জনগণকে আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

বিশ্বের অন্যতম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স চার্লস বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখার সুযোগ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখ করার মতো। ১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশের দেড় কোটি মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে উত্তরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, মৃত্যুহার কমিয়ে আনা এবং বিশ্বের অন্যতম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া প্রশংসনীয়।’

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জন এবং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেছে। ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে গ্রাজুয়েশনের যোগ্যতা পূরণে বাংলাদেশ সক্ষম হয়েছে।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করে জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। যার মাধ্যমে দেশের জনগণের সহনশীলতা ও নেতৃত্বের প্রজ্ঞা প্রতিফলিত হয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী, শান্তি বজায় রাখা, আরও উন্নয়ন এবং জনগণের সক্ষমতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি অগ্রগতি অর্জন করবে বাংলাদেশ।’

প্রত্যেক নেতার কণ্ঠে ছিল, আগামীর উজ্জ্বল বাংলাদেশের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নে কাজ করা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত