প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুদ আদান-প্রদান, লেখক ও সাক্ষীদ্বয়ের ভয়ংকর পরিণাম

ইসলামি ডেস্ক: আরবী ভাষায় সুদের প্রতিশব্দ রিবা। বাংলাভাষায় ‘সুদ’ শব্দটি যেমন সুপরিচিত, তেমনি আরবী ভাষায়ও ‘রিবা’ শব্দের ব্যবহার বহুলপ্রচলিত। সুদ একটি মারাত্মক পাপ, যার দ্বারা ক্ষতি সাধন হয় মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের, সামাজিক জীবনের এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের। সুদ খাওয়ার ৭০টি গুনাহের মধ্যে ১টি হচ্ছে নিজ মায়ের সঙ্গে যিনা করা।

হাদিসে উল্লেখ আছে: রাসূল (সা.) লা’নত করেছেন, সুদখোরের ওপর, সুদদাতার ওপর, এর লেখকের ওপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের ওপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান (মুসলিম/জাবির (রা.), আবূ দাউদ, তিরমীযী)।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সুদ হলো সত্তর প্রকার পাপের সমষ্টি । তার মাঝে সবচেয়ে নিম্নতম হলো-আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা। (ইবনে মাজাহ/আবূ হুরাইরা (রা.)

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُواْ اللّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

‘হে ইমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না, আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করবে।’
(সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-১৩০)।

আল্লাহ আরো বলেন, যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মমান হয় ওই ব্যক্তি যাকে শয়তান আছর করে উন্মাদ বানিয়ে দিয়েছে। তাদের এই অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে ক্রয়-বিক্রয় তো সুদ নেয়ারই মতো। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে পুনরুজ্জীবিত করবেন, তখন সবাই কবর থেকে উঠে দ্রুত বেগে দৌড়াতে থাকবে। কিন্তু সুদখোররা  অন্য সবার মত দৌড়াতে পারবে না। তারা মাতাল ব্যক্তির ন্যায় একবার উঠবে একবার পড়বে। যখনই উঠবে অমনি পড়বে। কেননা তারা দুনিয়ায় নিষিদ্ধ সুদ খেয়েছিল। আর সেই হারাম খাদ্যকে আল্লাহ পেটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এভাবে কিয়ামতের দিন তারা এত ভারি হয়ে যাবে যে তারা যখনই উঠতে যাবে তখনই পড়ে যাবে। অন্য সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা দৌড়াতে চাইবে কিন্তু পারবে না।

ইমাম কাতাদা (রহ.) বলেন, কিয়ামতের দিন সুদখোর উন্মাদ অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। এ উন্মাদ অবস্থা সুদখোরীদের আলামত হিসেবে কিয়ামতের দিন সকলের কাছে পরিচিত থাকবে। হজরত আবু সাইদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, মিরাজের রাত্রে আমাকে যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তখন একদল লোকের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাদের পেট এক একটি ঘরের মত বৃহৎ আকৃতির। অত বড় পেট নিয়ে তারা ভালোভাবে চলা-ফেরা করতে পারে না। ফলে তারা চলতে গিয়ে নিজেদের পথ হারিয়ে চলে যাচ্ছিল। যে পথ দিয়ে ফেরাউন ও তার দলবলকে সকাল-বিকাল জাহান্নামের কাছে নেয়া হয়, ওই সুদখোর লোকগুলো এক একবার সেই পথের ওপর চলে আসে এবং নির্বোধ ও শ্রবণশক্তিহীন বিপথগামী উটের মত চলতে থাকে।

এই বড় ভুড়িওয়ালা লোকগুলো যখন টের পায় যে ফেরাউন ও তার দলবলকে এ রাস্তা দিয়ে আনা হচ্ছে তখন তারা উঠি পড়ি করে পালাতে চায়। কিন্তু তল পেট নিয়ে রাস্তা ছেড়ে সরে যেতে পারে না। ফলে ফেরাউন ও তার দলবল এসে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং একবার সামনের দিকে আরেকবার পেছনের দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত তারা এভাবে শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। রাসূল (সা.) বলেন, আমি জিবরাঈল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম এরা কারা? তখন হজরত জিবরাঈল (আ.) বললেন- ওরা সুদখোর, যারা শয়তানের ছোঁয়ায় উন্মাদ হয়ে যাওয়া লোকের মত চলে। (ইবনে কাসির,ইবনে জারীর,বায়হাকী)।

ইমাম আহমদ বর্ণিত হাদীসে রাসূল (সা.) বলেন, মিরাজের রাত্রে ভ্রমণকালে আমি আমার মাথার উপরে সপ্তম আকাশে প্রচন্ড তর্জন-গর্জনের শব্দ শুনতে পেলাম। চোখ মেলে দেখলাম সেখানে কিছু লোকের পেটের ভুড়ি তাদের সামনের দিকে বেরিয়ে রয়েছে। ভুড়িগুলো বড় বড় ঘরের মতো। সেই সব ঘরে হাজার হাজার সাপ ও বিচ্ছু রয়েছে। যা পেটের বাহিরে থেকেই দেখা যাচ্ছিল। আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম এরা কারা? তিনি বললেন- ওরা সুদখোর।

হজরত আব্দুর রহমান ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জনপদের মধ্যে ব্যভিচার ও সুদ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তায়ালা সেই জনপদকে ধ্বংসের নির্দেশ দেন।’ (আবু ইয়া‘লা হাকেম)।

হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন কোনো জাতি কৃপণতা করতে থাকে, সুদের ভিত্তিতে কায়কারবার চালাতে থাকে, ষাঁড়ের দৌড়ের প্রতিযোগিতা করে এবং আল্লাহর জিহাদ বর্জন করে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর এমন গজব নামান যে, তারা দ্বীনের পথে ফিরে না আসা পর্যন্ত তা থেকে রেহাই পাবে না। (আবু দাউদ)। ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বাধিক পঠিত