প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামনে রোজা,বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট: পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ছোলা, খেজুর, গরু ও মুরগির মাংসের পর এবার পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। পাশাপাশি আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে দুই টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার এই চিত্র শুক্রবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় লক্ষ্য করা গেছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে দেশি পেঁয়াজ ২৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাড়তি দরে। রাজধানীর খুচরা বাজারে শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা। দুই দিন আগে যা ছিল ৩৫ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা। দুই দিন আগে যা ছিল ১৮-২০ টাকা।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা পড়েছেন বিপাকে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি।

দিনাজপুরের বিরল বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসিনুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুক্রবার সেই পেঁয়াজ বিক্রি করেন ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে। তিনি জানান, পাইকাররা হঠাৎ দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে বাধ্য হয়ে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দিনাজপুর শহরের প্রধান কাঁচাবাজার বাহাদুরবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান জানান, গত ৪ থেকে ৫ দিন আগে তারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ২২ থেকে ২৩ টাকা। চার দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি করছেন ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা। তিনি বলেন, স্থানীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এখন নিত্যপণ্যটি আনতে হচ্ছে নাটোর, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। সেসব স্থানে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারের এই পরিস্থিতি। তিনি বলেন, এই অবস্থা চললে রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ২ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। কিন্তু দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম থাকায় গত ২৭ জানুয়ারি থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। এরপর গত বৃহস্পতিবার থেকে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আবার আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কামাল হোসেন জানান, বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার আমদানি শুরু করেছি। আগামী সপ্তাহে আমদানি আরও বাড়তে পারে। এতে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হবে। সূত্র:যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত