প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে দেশে দেশে ‘বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

সালেহ্ বিপ্লব: [২] কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা আরও বলেছেন, নিদেনপক্ষে দূতাবাসে সাংস্কৃতিক শাখা স্থাপন করে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরার পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

[৩] কানাডার বাংলা পত্রিকা নতুনদেশ-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’-এ অংশ নিয়ে তারা এ কথা বলেন।

[৪] স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ‘প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনায় অংশ নেন কানাডার আলবার্টার ম্যাকুইয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এইচ এম আশরাফ আলী, সঙ্গীত শিক্ষক ও শিল্পী রনি প্রেন্টিস রয়, এবং  টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের বাংলার শিক্ষক  আরজুমান্দ জলিল।

[৫] আলোচকরা অভিবাসীদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় কানাডা সরকারের যে  পৃষ্ঠপোষকতা  আছে, তা কাজে লাগাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের  প্রতি আহ্বান জানান।

[৬] ড. এইচ এম আশরাফ আলী যে ছেলে মেয়েরা একাধিক ভাষা এবং সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, শিক্ষাজীবনে তারা অন্যদের চেয়ে ভালো ফলাফল করে। বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চায় নিবিড় মনোযোগ  প্রবাসে ছেলেমেয়েদের মেধা বিকাশের জন্য বিশেষ সহায়ক।

[৭] তিনি বলেন, কানাডার প্রতিটি শহরেই বাংলাদেশিদের  বাংলা স্কুল খোলা এবং সংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে আসা উচিৎ। এ জন্য কানাডা সরকারের নানা ধরনের তহবিল আছে। খরচের যোগান যখন কানাডা সরকার দিচ্ছে, তখন আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? তবে সরকারের এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

[৮] রনি প্রেন্টিস রয় বলেন, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি বিকাশের জন্য দেশে দেশে পৃথক সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। কানাডায় চাইনিজ কালচারাল সেন্টার, ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র আছে। বাংলাদেশ সরকারও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ধরনের সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

[৯] কানাডার বিভিন্ন শহরে সঙ্গীত শিক্ষা এবং কমিউনিটি আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত  দিবসভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চার মধ্যেই আমরা আটকে আছি। এর বাইরে বাংলা সংস্কৃতিকে মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার কাজ তেমন একটা হচ্ছে না। এই ব্যাপারে  উদ্যোগী হওয়া দরকার।

[১০] লায়লা আরজুমান্দ জলিল নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনেক বাচ্চার মধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের বই দিয়ে শেখাতে গেলে তারা তেমন আগ্রহ পায় না। ফলে শিক্ষা উপকরণ একটা সমস্যা তৈরি করে। তিনি বলেন, টিডিএসবির আওতায় বিভিন্ন স্কুলে বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সব ক্লাশে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। তিনি অভিভাবকদের এই ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

[১১] আরজুমান্দ জলিল বলেন, স্কুল থেকে অভিভাবকদের স্পষ্ট করেই বলে দেয়া হয়, তোমারা বাচ্চাদের ইংরেজী  শেখানোর চেষ্টা করোনা, তোমরা বরং তোমার ভাষা, সংস্কৃতি শেখাও। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে অভিভাবকরা বাচ্চাদের সঙ্গে পুরোপুরি বাংলায় কথা বললে বাচ্চারা সেগুলো সহজেই শিখে ফেলে।

[১২] নতুনদেশ-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, নাগরিকদের ট্যাক্সের অর্থে কানাডার ফেডারেল ও  প্রভিন্সিয়াল সরকার অভিবাসীদের নিজ নিজ ভাষা সংস্কৃতি চর্চার জন্য তহবিল বরাদ্দ দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলা সংস্কৃতিকে মূলধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ।

[১৩] তিনি বলেন,টরন্টোর ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডে বাংলা ক্লাশ থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। মহাদেব চক্রবর্তী নামে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি নিজে অর্থায়ন করে  টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কোর্স চালু করেছিলেন। কিন্তু সেটি টিকিয়ে রাখা যায়নি। টরন্টোয় এতো বাংলাদেশি বসবাসের পর এই  ধরনের চিত্র কমিউনিটির জন্য লজ্জাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত