প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জীবন যুদ্ধে হার মানেনি প্রতিবন্ধী রোজিনা

সোহাগ হোসেন:[২] জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক সংগ্রামী নারী প্রতিবন্ধী রোজিনা। বয়স ত্রিশ কিংবা বত্রিশ। আগৌলঝারা উপজেলার বাগদা গ্রামে জন্ম তার। শিশু বয়সে টাইফয়েডে বাম পা’টি বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। কিশোরী বয়সেই বরিশালে মুলাদী গ্রামের গরীব মোঃ সুমন এর সাথে বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে স্বামীর সাথে ছুটে আসে ঢাকায়।

[৩] ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে সন্তানের মা রোজিনা। ছয় বছর পূর্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যায়। মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার। একদিকে নিজে অসহায় প্রতিবন্ধী অন্যদিকে ছোটো ছোটো দুটি বাচ্চা। কীভাবে চলবে তাদের জীবন? কি করে জীবিকা নির্বাহ করবে? জীবন যুদ্ধে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। ভিক্ষাভিত্তি পেশায় জড়াননি নিজেকে। হার মানেনি জীবন সংগ্রামে। তখন থেকে ঢাকার শহরে ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা উপার্জন করতো।

[৪] তিন বছর আগে মির্জাগঞ্জে এক দুঃসর্ম্পকের আত্মীয়ের বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে ঋন করে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরাতন রিকশা ক্রয় করেন। তিন বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

[৫] ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উপজেলার সুবিদখালী কলেজ রোড একটি ভাড়াটিয়া বাসায় থাকেন। ছেলে হৃদয় (১০) স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। টানাটানির সংসারে মেয়ে রিতু (১৩) কে পড়াশুনা করাতে পারছেননা। রোজিনা বেগম বলেন, একটি পা পঙ্গ হয়েছে তাতে কি।দুটি হাত ও একটি পা আল্লাহ তায়ালা সবল রেখেছেন। এদিয়ে পরিশ্রম করে সংসার ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা চালিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।

[৬] প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাই নায়। মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, সমাজে অনেক সুস্থ মহিলাকে দেখেছি কাজ না করে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছে। সে সমস্ত মহিলাদের জন্য রোজিনা একটি দৃষ্টান্ত। নতুন সমাজসেবা অফিসার যোগদান করলে তাকে সহযোগিতার জন্য জোর সুপারিশ করা হবে। সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

সর্বাধিক পঠিত