শিরোনাম
◈ বিদেশে ইউনূস-আখতার-বাঁধনসহ বাংলাদেশিদের হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে দূতাবাসের ভূমিকা ◈ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ ◈ ভিউ-লাইক আর টাকার লোভে অন্যকে অপমান, বিবেক কোথায় আমাদের? এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন চৌধুরী ◈ পশু জবাই নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি, দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের ◈ হালান্ডের রেকর্ডের রাতেও ইতিহাদে পিএসজির জয় ◈ এক পদে দুই বেতন, ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ◈ নারীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে আফগান লিগ ছাড়লেন তিন ইংলিশ ক্রিকেটার ◈ ধরা পড়ে কিশোররা, আড়ালে থেকে যায় ‘বড়ভাইয়েরা’: অপরাধ থামবে কীভাবে ? ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪৯ দুপুর
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তাসনিম জারা:  বাংলাদেশিরা সুস্থ থাকার উপায় জানে, তবে পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে

তাসনিম জারা: [১] কয়েক সপ্তাহ আগে প্রফেসর ট্রিশ গ্রিনালজকে যখন ইন্টারভিউ করছিলাম, তখন সে মাথায় কাপড় দিয়ে আসে। প্রথমে মনে করি তার হয়তো ঠাণ্ডা লেগেছে। দ্রুতই আসল কারণটা পরিষ্কার হয়। ট্রিশ জানে তার ইন্টারভিউয়ের অধিকাংশ দর্শক হবে মুসলমান। তার মনে হয়েছে যে মাথা ও বাহু ঢেকে কথা বলতে এলে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তাই এটা করেছে। যখন ট্রিশকে বললাম যে বাংলাদেশে টিকা নিয়ে মানুষের অনাগ্রহ দেখে আমি চিন্তিত, ট্রিশ দুইটা পরামর্শ দিলো। [এক] ধর্মীয় নেতাদের সাথে কিছু করা যায় কিনা দেখ। [দুই] বাংলাদেশে এর আগে ভারতে তৈরি কোনো টিকা দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা খুঁজে বের কর। ট্রিশের পরামর্শ যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় আমি ধর্মীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ইতোমধ্যে কয়েকজন তাদের অনুসারীদের টিকা নিতে উৎসাহ দিয়েছেন ও হাজার হাজার মানুষ তাতে এনগেজ করেছেন।

[২] ট্রিশ লক্ষ্য করে যে লন্ডনের বাংলাদেশিদের মাঝে টাইপ টু ডায়াবেটিস অনেক বেশি। একটা গবেষণা তৈরি করে এটা খুঁজে বের করতে যে, টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে বাংলাদেশিরা কীভাবে দেখে এবং এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কোনো উপায় আছে কিনা। গবেষণায় রোগীদের প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীদের (নার্স, ডায়েটিশিয়ান, হেলথ এডভোকেট) মনোভাবও দেখার চেষ্টা করে। গবেষণায় উঠে আসে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীর ধারণা বাংলাদেশিরা ফেটালিস্টিক ধারণা পোষণ করে, অর্থাৎ তারা মনে করে যে আল্লাহ যদি চায়, ডায়াবেটিস হবে, আমার কিছু করার নেই। প্রফেসর ট্রিশের গবেষণায় উঠে আসে যে এই ধারণা আসলে বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশিরা সুস্থ থাকার উপায় জানে। তবে পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাজ হবে সঠিক পলিসির মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশিদের সাহায্য করা।

[৩] ট্রিশ আবার একটু ঝগড়াটে স্বভাবের। টুইটারে খুব অ্যাক্টিভ সে। তার টুইটার ঘাটলে দেখবেন সে স্পষ্ট কথা বলতে পছন্দ করে। মহামারির শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন মাস্ক পরিধান করতে পরামর্শ দিচ্ছিল না, তখন ট্রিশ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা সব এভিডেন্স বুঝতে পারছে না। একথা বলে সে ক্ষান্ত থাকেনি। সে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কমিটির সাথে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাই যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মাস্ক নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন ট্রিশের ধ্যান-জ্ঞান হচ্ছে ব্রিটিশ সরকারের কাছে এটা প্রমাণ করা যে করোনা ভাইরাস বাতাসে উড়ে। টুইটারে তার নাম পরিবর্তন করে হ্যাশট্যাগ যোগ করেছে - #COVIDisAirborne ট্রিশ এটা প্রমাণ করতে পারলে আমরা করোনা থেকে বাঁচতে যে সতর্কতা অবলম্বন করি, সরকার তাতে পরিবর্তন আনবে। যা অন্যের জন্য কল্যাণকর মনে হয় তা প্রমাণ করতে দিনের পর দিন প্রয়োজনে ঝগড়া করা, স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে যে আমরা ভুল করতে পারি এটা মেনে নেওয়ার মনোভাব, মানুষকে আন্তরিকতার সাথে বুঝতে চেষ্টা করা - প্রফেসর ট্রিশের কাজ গত কয়েক বছর ধরে ফলো করে আমি এটা শেখার চেষ্টা করছি। ট্রিশের সঙ্গে আমি যে ইন্টারভিউ করেছি, আপনারা সেটা দেখতে পারবেন এই লিঙ্কে গিয়ে: "> ফেসবুক থেকে