শিরোনাম
◈ তিন বছর পর ভার‌তে ফিরছে আইপিএল নিলাম, ভেন্যু গোয়া ◈ ভারতকে নিয়ে ব্রা‌জিল কোচ আনচেলত্তি, প্রীতি ম্যাচ বলতে কিছু নেই ◈ বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১১ উড়োজাহাজ, বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সই ◈ পাকিস্তান ছেড়ে ২ বছ‌রের চু‌ক্তি‌তে নেদারল্যান্ডসের কোচ অ‌্যাশ‌লি নফকে  ◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪৯ দুপুর
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তাসনিম জারা:  বাংলাদেশিরা সুস্থ থাকার উপায় জানে, তবে পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে

তাসনিম জারা: [১] কয়েক সপ্তাহ আগে প্রফেসর ট্রিশ গ্রিনালজকে যখন ইন্টারভিউ করছিলাম, তখন সে মাথায় কাপড় দিয়ে আসে। প্রথমে মনে করি তার হয়তো ঠাণ্ডা লেগেছে। দ্রুতই আসল কারণটা পরিষ্কার হয়। ট্রিশ জানে তার ইন্টারভিউয়ের অধিকাংশ দর্শক হবে মুসলমান। তার মনে হয়েছে যে মাথা ও বাহু ঢেকে কথা বলতে এলে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তাই এটা করেছে। যখন ট্রিশকে বললাম যে বাংলাদেশে টিকা নিয়ে মানুষের অনাগ্রহ দেখে আমি চিন্তিত, ট্রিশ দুইটা পরামর্শ দিলো। [এক] ধর্মীয় নেতাদের সাথে কিছু করা যায় কিনা দেখ। [দুই] বাংলাদেশে এর আগে ভারতে তৈরি কোনো টিকা দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা খুঁজে বের কর। ট্রিশের পরামর্শ যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় আমি ধর্মীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ইতোমধ্যে কয়েকজন তাদের অনুসারীদের টিকা নিতে উৎসাহ দিয়েছেন ও হাজার হাজার মানুষ তাতে এনগেজ করেছেন।

[২] ট্রিশ লক্ষ্য করে যে লন্ডনের বাংলাদেশিদের মাঝে টাইপ টু ডায়াবেটিস অনেক বেশি। একটা গবেষণা তৈরি করে এটা খুঁজে বের করতে যে, টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে বাংলাদেশিরা কীভাবে দেখে এবং এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কোনো উপায় আছে কিনা। গবেষণায় রোগীদের প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীদের (নার্স, ডায়েটিশিয়ান, হেলথ এডভোকেট) মনোভাবও দেখার চেষ্টা করে। গবেষণায় উঠে আসে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীর ধারণা বাংলাদেশিরা ফেটালিস্টিক ধারণা পোষণ করে, অর্থাৎ তারা মনে করে যে আল্লাহ যদি চায়, ডায়াবেটিস হবে, আমার কিছু করার নেই। প্রফেসর ট্রিশের গবেষণায় উঠে আসে যে এই ধারণা আসলে বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশিরা সুস্থ থাকার উপায় জানে। তবে পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাজ হবে সঠিক পলিসির মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশিদের সাহায্য করা।

[৩] ট্রিশ আবার একটু ঝগড়াটে স্বভাবের। টুইটারে খুব অ্যাক্টিভ সে। তার টুইটার ঘাটলে দেখবেন সে স্পষ্ট কথা বলতে পছন্দ করে। মহামারির শুরুর দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন মাস্ক পরিধান করতে পরামর্শ দিচ্ছিল না, তখন ট্রিশ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা সব এভিডেন্স বুঝতে পারছে না। একথা বলে সে ক্ষান্ত থাকেনি। সে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কমিটির সাথে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাই যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মাস্ক নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এখন ট্রিশের ধ্যান-জ্ঞান হচ্ছে ব্রিটিশ সরকারের কাছে এটা প্রমাণ করা যে করোনা ভাইরাস বাতাসে উড়ে। টুইটারে তার নাম পরিবর্তন করে হ্যাশট্যাগ যোগ করেছে - #COVIDisAirborne ট্রিশ এটা প্রমাণ করতে পারলে আমরা করোনা থেকে বাঁচতে যে সতর্কতা অবলম্বন করি, সরকার তাতে পরিবর্তন আনবে। যা অন্যের জন্য কল্যাণকর মনে হয় তা প্রমাণ করতে দিনের পর দিন প্রয়োজনে ঝগড়া করা, স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে যে আমরা ভুল করতে পারি এটা মেনে নেওয়ার মনোভাব, মানুষকে আন্তরিকতার সাথে বুঝতে চেষ্টা করা - প্রফেসর ট্রিশের কাজ গত কয়েক বছর ধরে ফলো করে আমি এটা শেখার চেষ্টা করছি। ট্রিশের সঙ্গে আমি যে ইন্টারভিউ করেছি, আপনারা সেটা দেখতে পারবেন এই লিঙ্কে গিয়ে: "> ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ