প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এদেশে সন্ত্রাস-হত্যা-দুর্নীতি-জঙ্গীবাদ-বিদেশে অর্থপাচারের জনকই বিএনপি: সংসদে সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যরা

মনিরুল ইসলাম: [২] রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের নেতাদের চাপের মুখে তিনি ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। হাওয়া ভবন খুলে ঘুষ-দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। যে দলের শীর্ষ দুই নেতা দুর্নীতির কারণে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে. ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন করেছে- সেই দলের নেতাদের মুখে গণতন্ত্র, সন্ত্রাস বা দুর্নীতির কথা মানায় না। এদেশে সন্ত্রাস-হত্যা-দুর্নীতি-জঙ্গীবাদ-বিদেশে অর্থপাচারের জনকই হচ্ছে বিএনপি।

[৩] রোববার প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সরকারি দলের আবু জাহির, মোহাম্মদ হাছান ইমাম খাঁন, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, শামীমা আক্তার খানম, হাবিবা রহমান খান, বেগম মনিরা সুলতানা, জাকিয়া পারভীন খানম, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, বাসন্তি চাকমা ও খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও লুৎফুন নেসা খান এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।

[৪] আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীনত হতো না, এখনো আমরা পাকিস্তানের দাসত্বের বেড়াজালে বন্দী থাকতে হতো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, জেলখানার পাশে কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছিল- কিন্তু জাতির পিতা কোনদিন আপোষ করেননি। বলেছেন, আমাকে হত্যা করা হলে লাশটা শুধু বাংলাদেশের মাটিতে ফেরত দিও।

[৫] তিনি বলেন, করোনায় সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে আমরা করোনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। তাই বঙ্গবন্ধুর আত্মাকে শান্তি দিতে হলে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে, মুজিববর্ষে এটাই হোক সবার অঙ্গীকার।

[৬] প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, আমাদের প্রবাসী কর্মীরা বিদেশের মাটিতে কষ্ট করে উপার্জন করে দেশের উন্নয়নে শরীক হচ্ছেন, অবদান রাখছেন। করোনার দুঃসময়ে ও লকডাউনে যেসব প্রবাসীরা দেশে ফেরত এসেছে তাদের আমরা অর্থ সাহায্য করেছি। অর্থের কারণে যারা বিদেশে আটকে পড়ে ছিলেন, সরকারি খরচে তাদেরকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। দেশে ফেরত আসা শ্রমিকদের পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। নতুন নতুন শ্রম বাজারে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছে। আর যারা এ সময় বিদেশে যাবেন সেসব প্রবাসী কর্মীদের সর্বাগ্রে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

[৭] পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, পৃথিবীতে মাত্র ২২টি দেশ ভ্যাকসিনেশনের কার্যক্রম শুরু করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর মাত্র ২৫টি দেশ ভ্যাকসিন কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে পেরেছে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নেতৃত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত উন্নত দেশ হাঙ্গেরী আমাদের কাছে আবেদন করেছে ৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি দিয়েছেন।

[৮] নিজে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের কথা জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ভ্যাকসিন আমিসহ মন্ত্রিসভার অনেকে নিয়েছেন, কোন পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সম্পূর্ণ নিরাপদ এই ভ্যাকসিন। অথচ এটা নিয়ে বিএনপি গুজব ও মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

[৯] জাতীয় পার্টির মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী করোনা ভ্যাকসিন বন্টন নিয়ে যেন কোন অব্যবস্থা না হয় সেজন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, করোনা সঙ্কটের মধ্যেও সরকারিভাবে এতো বিপুল সংখ্যেক গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দেওয়ার বিশ্বের কোথায় নজীর নেই।

[১০] ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, করোনার মধ্যে সারাবিশ্বেই ২৫ শতাং দারিদ্র্যতা বেড়েছে, বাংলাদেশ এর বাইরে না। এই সঙ্কটকালে নব্য ধনিকের সংখ্যা বেড়েছে, মুখ দেখে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ না করা গেরে সরকারের এতো উন্নয়ন বিফলে যাবে।

[১১] সরকারি দলের সদস্য আবু জাহির তাঁর নিজের ওপর বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়া স্বামীর সঙ্গে না গিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বসে আমোদপূর্তি করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এই জেনারেল জিয়া। ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জী দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে এই জিয়া পরিবার। যে দলের দুই শীর্ষ নেতাই দুর্নীতির কারণে সাজাপ্রাপ্ত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত