শিরোনাম
◈ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় ১০ নেত্রী ◈ মেয়ের নিখোঁজে বাবা-মায়ের উদ্বেগহীনতা সমাজের গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ◈ রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ, বিকল্প হিসেবে দাম্মাম ও মদিনায় পাঠানো হবে যাত্রীদের: বিমানমন্ত্রী ◈ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর চেয়েও বেশি আয় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রদের ◈ যে কারণে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের দোকান বন্ধ ঘোষণা ◈ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুন করে ৯৯৯–এ কল, ঘটনাস্থলে পুলিশ দেখল লাশের পাশে ধূমপান করছেন স্বামী ◈ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের কয়লা উত্তোলনে জোর, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ফুলবাড়ী খনি ◈ চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা ◈ প্রথম ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি, পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি ◈ ‘নাশতা করার সময় চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়’, উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসায় হামলা-ভাঙচুর

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী, ২০২১, ০৬:৫৪ সকাল
আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০২১, ০৬:৫৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিষবৃক্ষ তামাক ছেড়ে আলু চাষে ঝুঁকছে কৃষক

ডেস্ক রিপোর্ট: বিষবৃক্ষ তামাক চাষের পরিবর্তে এবার আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা।

লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বিষবৃক্ষ তামাক চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

জানা গেছে, জেলার ৪২টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা মিলে গত বছর তামাক চাষ হয়েছিল ৮ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে। এ বছর তা কমে তামাক চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে।

তামাক চাষে পরিশ্রম ও খরচ বেশি হওয়ায় বিগত কয়েক বছরে লাভের মুখ দেখতে পায়নি কৃষক, গুনতে হয়েছে লোকসান। তামাকসহ অন্যান্য রবি ফসলের চেয়ে আলু চাষ করে বিগত কয়েক বছরের তামাক চাষে লোকসান পুষিয়ে লাভের আশায় আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষমাত্রা অতিক্রম করে আলু চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে। চারদিকে শুধু আলু ক্ষেতের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে আলু গাছের সবুজের সমারোহ।

কৃষি অফিসের পরামর্শে অধিক ফলনশীল জাতের কাটিনা, ডায়মন্ড, উপশি ও স্থানীয় জাতের আলু চাষ করা হচ্ছে। যদিও এখনো পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় প্রতি হেক্টর জমিতে ২০ থেকে ৩০ টন আলুর ফলন পাবেন বলে আশা করছে কৃষকেরা। এ বছর পাকরি, ফাঁটা পাকরি, দেশি হাগরাই, ললিতা, কার্ডিনাল, ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন জাতের আলু আবাদ করা হচ্ছে।

বর্তমান বাজারে আলুর চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় চাষিরা কয়েক দফা বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কাশিয়াবাড়ী এলাকার কৃষক ইমতিয়াজ আলম বলেন, বিগত কয়েক বছরে তামাক চাষ করে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর লোকসান গুনতে চাইনা।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর বন্যার পর নদীর তীরবর্তী জমি গুলোতে আলু, ভুট্টা, সরিষা ও বাদামের ফলন খুব ভালো হয়। এবারো ৭ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলুর গাছ দেখে বাম্পার ফলন হবে বলে  আশা করছি।

আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউপির কৃষক আলু চাষি ফজল বলেন, কয়েকদফা বন্যায় আমন ধানসহ আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে এবারেও আলুর গাছ আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আলুর বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে আশা করছি।

কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, আগাম জাতের আলু বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি বিঘা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ আরো ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ মণ আলু পাওয়ার আশা করছেন। পাইকারি বাজারে প্রতিমণ আলো বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা।

জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা কয়েকদফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে কৃষকরা যাতে রবি শস্য চাষ করে ভাল ফলন পায় এজন্য জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষি অফিসের তৎপরতায় কৃষকদের আগাম প্রস্তুতির কারণে ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতে আলু ক্ষেতের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। সব মিলে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।ডেইলি বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ