প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশি থাকলে কোনোভাবেই বিদেশি জনবল নিয়োগ নয়, নীতি গ্রহণ জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় দক্ষ জনবল থাকলে কোনোভাবেই তার বদলে বিদেশি জনবল নিয়োগ নয় এমন নীতি ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বিশেষ সুবিধায় ইস্যু করা এ৩ ভিসার আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অদক্ষ শ্রমিক আনা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে। আর দেশে দক্ষ জনবল পাওয়া না গেলে বিদেশিদের নিয়োগ দিতে হবে ওয়ার্ক ভিসার আওতায়। সর্বপরি একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় দক্ষ জনবলের একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে হবে। আর শিল্প, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে চাহিদা নির্ভর দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে হবে। আর এটার জন্য একটি পৃথক জনশক্তি উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি। নইলে উচ্চ আয়ের দেশের কাতারে ওঠার দৌড়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত “ইপি টকস অন হিউম্যান রির্সোস ডেভলপমেন্ট: স্টাটাস অব বাংলাদেশ এন্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড” অংশ নিয়ে বক্তারা উপরের মতামত তুলে ধরেছেন। এনার্জি এন্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভারমেন্টাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ইঞ্জি. মোহাম্মদ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব অপারেশন ড. মোহা. শের আলী, দীপন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জি. রাশেদ মাহমুদ, স্যাপকন বিডির পরিচালক মোসাদ্দেক শহীদ লাইলাক ও ইপি কনটিবিউটিং এডিটর ইঞ্জি খন্দকার আবদুল সালেক।

গোলাম সাব্বির সাত্তার চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা চালুসহ ৮ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিপুল ব্যয়ে ভবন বানালেও বিশ্বমানের ল্যাব বানাচ্ছে না। কার্যত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন মানসম্মত জনবল তৈরি করতে পারছে না। ২ থেকে ৩ শতাংশ ছাত্র নিজস্ব মান দিয়ে ভালো করছে। বলতে বাধা নেই আজ শিক্ষার মান অনেক নেমে গেছে। শিল্প, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করে চাহিদামাফিক জনবল তৈরির কাজে হাত দেয়া না হলে এটা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না। এই পদে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে সঠিক নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ইঞ্জি. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় না থাকলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য একটি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। বুয়েটসহ আমাদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা আসছে তারা সরাসরি কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে না। ফলে প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারপর কাছে আসতে হচ্ছে। এখন দেশীয় প্রকৌশলী বসে বসে ব্যবস্থাপকের কাজ করছে আর কারিগরি কাজের জন্য আনা হচ্ছে বিদেশি জনবল। এখন থেকে জয়েন্ট ভেঞ্চারসহ যে কোনো চুক্তি করতে হলে সকল পর্যায়ে নিজস্ব জনবল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতের ১৪টি প্রতিষ্ঠানেরই আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। শতভাগ মানসম্মত না হলে তা কাজ করছে। এর বাইরে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট জনবল উন্নয়নে কাজ করছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং বাস্তবে তার প্রয়োগের বিষয়টি মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

ড. মোহা. শের আলী বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটকে কিভাবে আন্তর্জাতিক মানের করা যায় তা উপর সুপারিশ দেয়ার জন্য কমিটি কাজ করছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এটিকে ঢেলে সাজানো হবে। দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু তা কতটা মানসম্মত তা যাচাই করতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চাহিদামাফিক জনবল তৈরি ও গবেষণার কাজ শুরু করতে হবে। শিল্পের সাথে অংশীদারিত্ব ছাড়া এটা সম্ভব নয়। ২০৪১ সালকে সামনে রেখে যথাযথ প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি বিভাগ সরকারের পরিকল্পনার আওতায় এই কাজ করে যাচ্ছে।

ইঞ্জি. রাশেদ মাহমুদ দেশীয় কর্মশক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে মালয়েশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো নীতিগত সমর্থন দেয়া জরুরি। বর্তমানে এ৩ ভিসার অপব্যবহার করে চীন এবং ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাব ঠিকাদার হিসাবে কাজ করতে গিয়ে হাজার হাজার অদক্ষ শ্রমিক আনছে। আবার দক্ষ জনবলও আনা হচ্ছে এই ভিসার আওতায়। শুনেছি চীনারা জেলখানার কয়েকদিদের এনে এখাতে শ্রমিকের কাজ করিয়েছে। তাদের কারো এখানে বেতন হয় না, তারা বাংলাদেশে করও দেয় না। সর্বপরি কোনো শ্রম নীতি না মেনে তারা বছর জুড়ে কাজ করে। ফলে দেশীয় শ্রমিক ও জনশ্রক্তির তুলনায় তাদের উৎপাদনশীলতা বেশি। কিন্তু সরকারের উচিত অদক্ষ শ্রমিক আনা পুরোটা বন্ধ করা। আর দক্ষ লোকবল আসলে দেশীয় বিধান ও শ্রম আইন মেনে তাদের কাজের বিষয় নিশ্চিত করা। নইলে দেশীয় প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে যাবে। কাজের সুযোগ হারাবে স্থানীয় কর্মশক্তি।

মোসাদ্দেক শহীদ দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ধারাবাহিকভাবে তা কাজে লাগানোর জন্য একটি পৃথক জনসম্পদ মন্ত্রণালয় স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, জনশক্তি উন্নয়নের সকল কাজ সমন্বিতভাবে করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৭তম বড় অর্থনীতির দেশ। ফলে এর আগামী দিনের উন্নয়ন এবং তা ধরে রাখার জন্য টেকসই জনবল উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। একটি নীতি এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে এটা অর্জন করা সম্ভব। সর্বপরি প্রশিক্ষণের জন্য কেবল বিদেশ নির্ভর থাকলে চলবে না। প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে তাদের দিয়ে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে হবে স্থানীয়ভাবে।

খন্দকার আবদুস সালেক বলেন, দেশে দক্ষ জনবল থাকলে ঐ কাজে কোনোভাবেই সরকারি বা বেরকারি খাতে বিদেশিদের নিয়োগ দেয়ার বিষয় আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে দক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশীদের এনে ঐ কাজের সুযোগ দিতে হবে। সর্বপরি কোনো বিদেশি কোম্পানির বাস্তবায়ন করা শিল্প ও ইউনিট পরিচালনা ৩ বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ ৫ বছরের মধ্যে ৭৫ শতাংশ এবং ৭ বছরের মধ্যে শতভাগ দেশীয় জনবল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত