প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আজ আমেরিকার দিন, আজ গণতন্ত্রের দিন, গণতন্ত্র আজ সুসংহত হলো: জো বাইডেন

আসিফুজ্জামান পৃথিল: [২] প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই দেওয়া ভাষণের শুরুতেই জো বাইডেন বলেন, কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের উপর আঘাত এসেছিলো। কিন্তু সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও এবার তার ব্যতয় ঘটেছে।

[৩] বাইডেন তার ভাসনে স্পিকার পেলোসি, সিনেট সংখ্যাগরিষ্ট নেতা মিচ ম্যাককনেল আর সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র আর সংবিধানের প্রশ্নে সবাই দল-মতের উপরে অবস্থান নিয়েছেন।’ বিশেষত বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

[৪] বাইডেন বারবার একতার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘২য় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র কঠিনতম পরিস্থিতি পার করছে। লাখ লাখ মানুষ তো মারা গেছেই, চাকরি হারিয়েছেন কোটি কোটি মানুষ।’ এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ঐক্যের ডাক দেন তিনি।

[৫] তিনি বলেন, ‘মৃত্যুকে অপেক্ষা করে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন, রাজনীতিবীদদের এবারও ততটাই শক্ত হতে হবে।’ বারবার ছাইভস্ম থেকে জেগে উঠা যুক্তরাষ্ট্র আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

[৬] তিনি বলেন, ‘গতো কিছুদিন উন্নয়ন নয়, দমবন্ধ করা পরিস্থিতি ছিলো। রাজনীতি নয়, ছিলো বিশৃঙ্খলা। এটাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্ত। একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে, একে অন্যকে শক্তি জোগাতে হবে, একে অন্যকে ভালোবাসতে হবে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্র আবার একটি ইউনাইটেড রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

[৭] তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আর বর্ণবাদের স্থান নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনও ন্যাশনাল অফিসের প্রথম নির্বাচিত নারী হিসেবে কমলা হ্যারিস তা প্রমাণ করেছেন। এখনই যদি বর্ণবাদ দূর না হয়, আর কখনই হবে না। এখনই লড়াই করার সেরা সময়।’

[৮] তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমার কথা হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। এরপরেও আপনি একমত না হলে আমি আপনাকে অভিনন্দিত করবো। এই সুন্দর জিনিসটাই গণতন্ত্র। এটাই আমেরিকা।’

[৯] ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সত্য। সত্য নিয়ে আছে দায়িত্ব। আমরা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবোই। আমরা মিথ্যাকে পরাজিত করবো। আমি আপনাদের জন্য লড়বো। আমি সেই পরিবারগুলোর কথা ভাবছি, যারা অতিমহামারিতে নিজ সদস্যদের হারিয়েছেন। এরমধ্যেও আমরা বিভক্ত। ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানরা, নারীর বিরুদ্ধে পুরুষেরা, কালোর বিরুদ্ধে সাদারা, প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীলরা। কিন্তু না, সব ভুলে যাই। আমরা একটা সমৃদ্ধ দেশের জন্য লড়াই করি।’

[১০] ‘আমাদের একে অপরকে দরকার। আসুননা, আমরা তা সত্য করে দেখাই। একটা দেশ হয়ে দেখাই। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, নতুন ভোর আসবে, আমরা জয়ী হবো। আমরা একসঙ্গে, আবার বলছি একসঙ্গে এটা করবো। আমরা যতোবার ধাক্কা খেয়েছি, ততোবার আরও শক্তি অর্জন করেছি। আমরা আবারও করে দেখাবো।’

[১১] তিনি করোনা ভাইরাসকে একটি জান্তা ভাইরাস বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের বিপদের সময় নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হযেছে। সারা বিশ্বই এজন্য হতাশ। তিনি কথা দেন, এই কঠিন সময়ের উপর যুক্তরাষ্ট্র ছড়ি ঘোরাবে। এমন এক গল্প তৈরি হবে, যা নাতি-নাতনিদের শোনানো যাবে। একটি গল্প তৈরি হবে। যা যুগযুগ ধরে শোনানো যাবে।’

[১২] সবশেষে বাইডেন বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রকে রক্ষা করবো, আমি আমেরিকাকে রক্ষা করবো। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, সবাই আমরা আবার এক হবো। যে গল্প আমরা লিখবো, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বলার মতো গল্প লিখবো। ইশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন। ইশ্বর আমাদের সন্তানদের রক্ষা করুন। ধন্যবাদ আমেরিকা।’ সম্পাদনা: ফরহাদ বিন নূর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত