প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীজগৎ বড়ই রহস্যময় !

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা শহরে আজকাল অত্যাধুনিক কিছু বিল্ডিং হয়েছে। এসব বিল্ডিং এ ঢোকা আর এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন পার হওয়া মোটামুটি একইরকম।
নিচতলায় বিল্ডিং কর্তৃপক্ষের একটা ডেস্ক থাকে। সেখানে শুধু নাম পরিচয় দিলেই হয় না – ছবিও তুলতে হয়- স্মাইল সহ । এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন ডেস্ক এর মত এইসব ডেস্কেও একটা ক্যামেরা থাকে। সেটার দিকে তাকিয়ে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে হয়।

সেই ছবি ততক্ষনাৎ আপনি ওই বিল্ডিং এর যে অফিসে যেতে চান, তাদের কাছে চলে যাবে। তারপর সেই অফিস থেকে পারমিশন পাওয়া গেলে আপনার নামে গ্রীন-কার্ড ইস্যু হবে। সেই কার্ড গলায় ঝুলিয়ে আপনাকে লিফটে উঠতে হবে।

এরকম একটা অফিসে গেছি, নিরাপত্তার লেপ-তোষক-চাদর পার হয়ে, গলায় কার্ড ঝুলিয়ে লিফটে উঠলাম।
ফোনে কথা বলতে বলতে আমার সঙ্গে লিফটে উঠলেন এক ‘অপরূপা আধুনিক তরুণী’। খুবই আনন্দের বিষয়।
আমি মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলে লিফটের ৮ এ চাপ দিলাম। মনে হয় তরুণীও ৮ এই যাবেন। কারণ তিনি কোনো বাটনে চাপ দিলেন না।

আমি আড়চোখে ‘অপরূপা আধুনিক তরুণী’কে একটা কুইক পর্যবেক্ষণ করে নিলাম।
মেয়েটি বেশ সুন্দর। পরনের ড্রেসটাও অনেক সুন্দর।
কানের দুলটাও বেশ। নাকে একটা নথ পরা। মুখের মাস্কটা এমনভাবে থুতনিতে আটকানো যেন নথটা দেখা যায়।
রে-ব্যান সানগ্লাস। হাতে আইফোন। সেই আইফোনে তিনি কথা বলছেন।
আমার কুইক পর্যবেক্ষণ শেষ। এবার আমি তার কথোপকথনে মনোযোগ দিলাম।

তরুণীর খুব সম্ভবত পার্লার জাতীয় কিছু একটার মালিক। কারণ তিনি যার সাথে কথা বলছেন সে মনে হয় ইয়োগা-টিয়োগার ইন্সট্রাক্টর। সেই ইন্সট্রাক্টরকে তিনি হিসেবে বোঝাচ্ছেন। তিনি যে হিসেবে ‘অনেক পাকা’ সেটা তার কথা শুনেই বুঝতে পারলাম।

তিনি বলছেন, শোন, প্রতি ক্লায়েন্টের জন্য আমি তোমাকে ৫০০ টাকা করে দিবো। তাহলে, দশ জন ক্লায়েন্ট হলে তোমার দশ হাজার টাকা, বিশজন হলে বিশ হাজার টাকা। বুঝেছো ? ওকে তাহলে – নেক্স ফ্রাইডে থেকে শুরু করে দাও।
এই বলে তিনি ফোন কেটে দিলেন।
কী মারাত্মক হিসেবে ! তার এই মারাত্মক হিসেব দেখে আমি মনে মনে খুশি হলাম। কারণ – এই হিসেবের সূত্র ধরে তার সাথে আমার কথা বলার একটা সুযোগ তৈরী হলো।

বললাম, এক্সকিউজ মি, আপনার হিসেবে একটু ভুল হয়েছে। পার হেড ৫০০ টাকা করে হলে ১০ জনের জন্য ১০ হাজার হবে না, ৫ হাজার হবে আর ২০ জনের জন্য ১০ হাজার হবে।

উনি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ভাবলাম, ভ্রু কুঁচকে মনে মনে আবার হিসেবে করে তিনি হয়তো তার ভুলটা বুঝতে পারবেন এবং আমাকে ধন্যবাদ দিবেন।
কিন্তু না।

তিনি ধন্যবাদের ধারে কাছেও গেলেন না।
তিনি বললেন, যাকে বললাম, তার তো কোনো সমস্যা হয়নি। আপনার সমস্যা হচ্ছে কেন ?
অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কথা। আমার কেন সমস্যা হবে ? আমি আর কথা বাড়ালাম না।
দেখতে দেখতে লিফট ৮ এ এসে থামলো।

আমি তাকে আগে নামার সুযোগ দিলাম। তিনি নামছেন না। মনে হয় তিনি অপরিচিত পুরুষ লোকের আগে নামতে চান না। অগত্যা আমি নেমে এলাম।
আমি নামতেই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। তিনি নামলেন না।
আশ্চর্য হলাম।
না নেমে কোথায় যাবেন ? তিনি তো কোনো ফ্লোরের বাটন চাপেন নাই।
আমি লিফটের মনিটরের দিকে তাকালাম। লিফট আবার নিচে নামছে। ৮…৭….৬…. শেষ করে ৫ এ গিয়ে থামলো।
ঘটনাটা বুঝলাম না।

‘অপরূপা আধুনিক তরুণী’ কি ৫ তলায় নামছেন ?
তাহলে আগেই কেন ৫ বাটনে চাপ দেন নাই ?
ভুলে গেছিলেন ?
নাকি, উনি কোন ফ্লোরে যাবেন সেটা উনি আমাকে জানতে দিতে চান নাই?
নাকি লিফটে উঠানামা করা উনার হবি?

মনে আছে ঢাকায় যখন প্রথম ‘ইস্টার্ন প্লাজা’ নামের মার্কেটটা চালু হয় আমরা প্রায়ই ইউনিভার্সিটি থেকে সেখানে যেতাম চলন্ত সিঁড়িতে উঠতাম আর নামতাম। ব্যাপারটা কিছুটা শিশুপার্কের ট্রেনে উঠার মতো আনন্দদায়ক ছিলো।
উনিও কি শিশুপার্ক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ?
নাকি লিফটের বাটনের হিসেবেও ভুল করেছিলেন?
আমি সেই ‘অপরূপা আধুনিক তরুণী’ মতো কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে থেকে মনে মনে বললাম – নারীজগৎ বড়ই রহস্যময় !
©Jobaed Ahsan

সর্বাধিক পঠিত