প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাঈদ তারেক:মানব সভ্যতা কোন পথে!

সাঈদ তারেক : আমরা কি পেছনের দিকে হাঁটছি! গত শতকে দুই দশকের ব্যবধানে দুইটি বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংশলীলার পর শান্তি ও সম্প্রীতির পথে চলবার যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিলো এই শতকে এসে তা কি মুখ থুবড়ে পড়ছে! পঞ্চাশ ষাট সত্তর আশি- এমনকি নব্বই দশকেও দেশে দেশে গণতন্ত্র মানবতার মূল্যবোধকে উর্ধ্বে তুলে ধরা হতো। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলো স্বৈরাচারের পরিবর্তে গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছিলো। তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত কিছু দেশেও সে ঢেউ এসে লাগে। কিন্তু দুই দশকের ঘটনা পরম্পরায় দেখা যাচ্ছে গোটা বিশ্বেই সে মূল্যবোধ যেনো ক্রম অপসৃয়মান। শান্তি সম্প্রীতি সহনশীলতা, গণতন্ত্র মানবিকতা নীতি-নৈতিকতার স্থান দখল করছে হিংসা বিদ্বেষ, চরমপন্থা স্বেচ্ছাচারিতা স্বৈরাচার। সমাজতন্ত্র নাম দিয়ে রাশিয়া এক শ’ বছর আগেই এক ধরনের স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করেছিলো। শেষ পর্যন্ত সে ব্যবস্থা টেকেনি। এখনও চীন উত্তর কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশে তা বহাল। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, খোদ বাড়ির পাশে বার্মায় সামরিক স্বৈরাচার, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় রাজতন্ত্র শেখতন্ত্র নামে মধ্যযুগীয় শাসন। গনতন্ত্রের পীঠস্থান বলে খ্যাত ইংল্যান্ড, ইওরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গনতান্ত্রিক দেশ ভারত এমনকি প্রায় আড়াই শ’ বছরের পুরনো আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রেও আজ চরমপন্থার উদ্ভব! উগ্র জাতীয়তাবাদ একটা জাতীকে ধ্বংশের কোন অতলে নিয়ে যায় হিটলার তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ থেকে শিক্ষা নিয়ে গোটা ইউরোপ যে নতুন পথে হাঁটতে শুরু করেছিলো মাঝেমাঝে তারাও হোচট খাচ্ছে! দেশে দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদ অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ইংল্যান্ড ইওরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে এসেছে। স্পেনের এক অংশ স্বাধীনতার দাবীতে সোচ্চার। এখানে ওখানে মানবতা উদারনৈতিকতার পরিবর্তে রক্ষণশীলতা এবং গোড়ামির প্রাদুর্ভাব। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চরমপন্থার উত্থান। বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার শক্ত ভিত গড়ে ওঠা, বার্মায় জাতিগত নিপীড়নের রাষ্ট্রীয় নীতি, উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধসাজ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা, সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পকে শিখণ্ডি হিসেবে দাঁড় করিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ- এসব আলামত খুব একটা ভাল কিছুর ইঙ্গিতবাহী নয়। গত শতক পর্যন্ত দেশে দেশে গনতন্ত্র মানবিকতা নীতি-নৈতিকতার যে চর্চা চালু ছিলো দুই দশকে অনেক দেশই সেখান থেকে সরে এসেছে। তৃতীয় বিশ্ব বা অনুন্নত দেশগুলোয় একবার যে ক্ষমতায় বসছে সেখান থেকে আর নামছে না। স্বৈরাচার কায়েম করছে। আফ্রিকার দেশগুলোয় বরাবরই অস্ত্র যার মুল্লক তার, মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যযুগীয় শাষন এবং সমাজব্যবস্থা, সমাজতন্ত্রের নাম দিয়ে চীনসহ কিছু দেশে ‘গোষ্ঠী স্বৈরাচার’- গোটা বিশ্ব থেকেই যেন শুভবুদ্ধি ন্যায় নীতি- নৈতিকতা শান্তি সম্প্রীতি মানবিকতা ক্রম অপসৃয়মান। জয়জয়কার চরমপন্থা উগ্রতা গোড়ামি অসহিষ্ণুতার! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতিকালে যে ঘটনাগুলো ঘটে গেল নানা জনে নানাভাবে তা বিশ্লেষনের চেষ্টা করছেন। আমি দেখছি, এই বাড়াবাড়ি উচ্ছৃঙ্খলতা শুধুমাত্র ব্যক্তি ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বা সহমর্মীতার জন্য নয়, এ হচ্ছে ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসী’ বা ‘আমেরিকা ইজ ফর হোয়াইটস’ ক্যাম্পেইনের আড়ালে উগ্র জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন ধরেই সুপ্ত এ জাতিবোধ ট্রাম্পের প্রশ্রয় বা পৃষ্ঠপোষকতায় চার বছরে পোক্ত হয়েছে। ট্রাম্প এখানে শিখণ্ডিমাত্র। উগ্র জাতীয়তাবাদী বা রেসিস্টদের একজন জাতীয়ভিত্তিক নেতা দরকার ছিলো, ট্রাম্পকে তারা সে আসনে বসিয়েছে। ট্রাম্প এখন প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অবিসংবাদিত নেতা। তার সামান্য ইঙ্গিতে যারা সংসদ ভবন আক্রমণ করতে পারে, স্পিকার এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে তারা কতোটা কট্টর এবং জঙ্গি বলার অপেক্ষা রাখে না। এফবিআইয়ের আশংকা ২০ তারিখে এই অপশক্তি সারা দেশেই জঙ্গি হামলা চালাতে পারে। ভারতে যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থানে প্রতিবেশি দেশগুলো শংকিত তেমনি আমেরিকায় বর্ণবাদ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান গোটা বিশ্বের শান্তি-সম্প্রীতি ও গনতন্ত্রকামী মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এতে করে দেশে দেশে উগ্রতা চরমপন্থা জঙ্গিবাদ এবং স্বৈরাচাররা উৎসাহিত হবে। জন্ম নেবে আত্মকেন্দ্রিকতা,দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতার। আর এভাবে চললে সভ্যতার অর্জনগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। ভুতগ্রস্থের মত মানব জাতি হাঁটতে থাকবে পেছন দিকে! ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত