প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দিনাজপুরে ধানের দাম কমলেও কমেনি চালের দাম

তাহেরুল আনাম: [২] ভারত থেকে চাল আমদানীতে শুল্ক কমানোর সরকারী সিদ্ধান্তের খবরে দিনাজপুরে কমতে শুরু করেছে ধানের দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানেই বাজারে ধানের দাম কমেছে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২শ টাকা।তবে সে তুলনায় কমেনি চালের দাম। ধানের দাম কমলেও বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।

[৩] দিনাজপুরের অন্যতম বড় ধানের বাজার সদর উপজেলার রানীগঞ্জ ধানের হাটে গিয়ে দেখা যায়,হাটে ধানের সরবরাহ বেশ বেড়েছে।হাটের ধান ক্রেতারা জানান, আগের তুলনায় হাটে এখন ধান বেশি আসছে আগে যেখানে ২ হাজার বস্তা উঠতো সেখানে এখন তার চেয়ে অনেক বেশি ধান আসছে। বাজারে খোজ নিয়ে জানা যায়,কয়েক দিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা দাম কমেছে।

[৪] ধান ক্রেতা নির্মল বসাক বলেন, কয়েক দিন আগেই বস্তাপ্রতি গুটি স্বর্ণ বিক্রি হতো ২হাজার ১শ ৮০টাকা থেকে ২২শ’টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১হাজার ৯৫০ টাকায়।বিআর-৫১ ধান ২হাজার ৩’শ টাকা থেকে নেমে ২ হাজার ১শ’ টাকায়।তিনি জানান বাজারে সরবরাহ বাড়লেও মিল মালিকরা ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ায় এই দাম কমতে শুরু করেছে। মোটা ধানের দাম কমলেও সুগন্ধিযুক্ত চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। কাঠারি ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতিবস্তা (৭৫ কেজি) ৩হাজার ২শ টাকা।

[৫] আর চিনিগুড়া ধান বিক্রি হচ্ছে ৩হাজার ৫শ’ টাকা থেকে ৩হাজার ৬শ’ টাকায়।বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক গুলজার জানান, ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিল মালিকরা তারা ইচ্ছে মতো ধানের দাম নির্ধারণ করে থাকেন,বাদ্ধ হয়েই সেই দামে ধান বিক্রি করতে হয়। খোজ নিয়ে জানা গেছে,সরকার চাল আমদানীর সিন্ধান্ত নেওয়ায় এবং চালের আমদানী শুল্ক কমিয়ে নিয়ে আসায় মিল মালিকরা ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছে এই কারণেই কমতে শুরু করেছে ধানের দাম।

[৬] এদিকে চালের প্রধান বাজার বাহাদুর বাজারে ধানের দাম কমার প্রভাব পড়েনি। বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান তারা শুনেছেন ধানের দাম কমেছে কিন্তু মিল মালিকদের কাছে আগের দামে চাল কিনতে হচ্ছে তাই বাজারে চালের দাম কমেনি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত থেকে চাল আমদানী হলে হয়তো আগামীতে বাজারে চালের দাম কমতে পারে।

[৭] তিনি জানান বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকায়। গুটি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪৩টাকা,সুমন স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ৪৪টাকায় এবং প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় আগেও এই দামে চাল বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।

[৮] দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির নেতা মানপ্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, সরকার চালের আমদানীতে শুল্কহার কমানের জন্য বাজারে ধানের দাম কমেছে, চালের বাজারেও বস্তাপ্রতি কমেছে। চালের বাজার দাম তেমন না কমার প্রশ্নে তিনি বলেন, আমদারী নীতির উপর কিছু শর্ত আছে,যেমন-আবেদন করতে হবে,অনুমতি নিতে হবে। এই কারণে বাজারটা আর থামেনি, এখন স্থিতিশীল আছে।সরকার যদি আমদানী আরও সহজ প্রক্রিয়ায় করে, তাহলে বাজার আরো নিম্নমুখী হবে। এতে ধানের বাজার আরো কমবে এবং কমবে চালের দাম। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

সর্বাধিক পঠিত