প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোহাম্মাদ রুবেল: আওয়ামী লীগ বাঙালির স্বপক্ষের দল হলেও মেহনতি মানুষের দল হয়ে উঠতে পারেনি

মোহাম্মাদ রুবেল: সম্রাট বাবর তার আত্মজীবনী ‘তুজুক‘ই বাবরি’ তে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে লিখেছিলেন, ‘হিন্দুস্তানে প্রীতিকর কিছু নেই বললেই চলে। এর অধিবাসীরা দেখতে সুশ্রী নয়। বন্ধু-বান্ধবের সম্মিলন অথবা অবাধ মেলামেশার আনন্দের সঙ্গে তারা অপরিচিত। তাদের প্রতিভা নেই, মনের বিচার বিবেচনার শক্তি নেই, ব্যবহারে ভদ্রতা নেই, লোকের প্রতি সহানুভূতি অথবা সদয়ভাব নেই, যন্ত্রের সাহায্যে অথবা অন্যরূপে শিল্পকলার উন্নতি করার কোনো ক্ষমতা নেই, স্থাপত্যবিদ্যার জ্ঞান অথবা নৈপূণ্য নেই। তাদের ভালো ঘোড়া নেই, ভালো মাংস নেই, আঙুর অথবা খরমুজ নেই, ভালো ফল নেই, বরফ কিংবা ঠাণ্ডা জল নেই, ভালো খাবার নেই, বাজারে রুটি নেই, স্নানাগার নেই, বিদ্যাপীঠ নেই, মোমবাতি নেই, মশাল নেই, বাতিদান নেই। এছাড়া রমনীকূলের তলপেটে চর্বির বড়ই ছড়াছড়ি’।

তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুস্তানের প্রধানতম গুণ হলো, দেশটা খুব বড় এবং অজস্র পরিমাণে সোনা,রুপা পাওয়া যায়। প্রতি ব্যবসাতে কারিগরদের সংখ্যা অগণ্য। যেকোনো কাজের জন্যে সঙ্গে সঙ্গে লোক পাওয়া যায় যারা পিতৃ-পিতামহ ক্রমে তাদের ব্যবসায় শিখেছে। হিন্দুস্থানের ব্যাঙ লক্ষ্য করার মতো, যদিও আমাদের দেশি ব্যাঙেই মতো তবুও তারা জলের উপরে ছয় সাত গজ দৌড়ে যেতে পারে’। বাবরের এই মূল্যায়ন অমূলক নয়। কারণ যেদিন বাবর ইব্রাহিম লোদীর কর্তিত মস্তক বর্ষায় গেঁথে হিন্দুস্থান দখল করলো তখন আশেপাশের কোনো রাজা রাজপুত প্রতিরোধ করতে আসেনি। বাবর জানতো এই উপমহাদেশের মানুষকে সামান্য চালে উত্তেজিত করে কুপোকাত করা যায়। বাবরের ধারাবাহিকতায় ইংরেজরাও সিরাজের মৃতদেহ মুর্সিদাবাদের পথে পথে প্রদক্ষিণ করেছিলো, কেউ সিরাজের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। নবাব সিরাজের চরিত্রকে যারা প্রশ্ন করেন, তাদের কাছে বিনীত জিজ্ঞেস সিরাজ চরিত্র যদি খারাপও হয় কিন্তু তিনি যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ প্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন সেটা মিথ্যে হয়ে যায় কি? আমরা অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ হবে না নিশ্চয়ই।

আমাদের রাষ্ট্রের মালিকদের ভাবসাব দেখলে নেপোলিয়নের সেই উক্তির কথা মনে পড়ে। ফরাসি দেশের বুদ্ধিজীবীরা যখন নেপোলিয়নের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করলো, তখন নেপোলিয়ন তাদেরকে কটাক্ষ করে বলেছিলো বৈঠকখানা বিলাসি বাচালদের কথায় আমার কী আসে যায়। কিন্তু সেই নেপোলিয়ন কেই একদিন বলতে হলো আমার পতনের জন্য নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দোষ দেওয়া যায় না, আমিই আমার প্রবলতম শত্রু। গত তিন দশকের জীবনে অজুহাতের রাজনীতি ছড়া আর কিছুই দেখিনি। পলাশীর যুদ্ধে বাঙালি হেরেছে ষড়যন্ত্রের কারণে, তাহলে বক্সারের যুদ্ধে বাঙালি হারলো কেন? হারলো কারণ আমরা নিজেদের বৈশ্বিক তালে এগিয়ে নিতে পারিনি। যে আওয়ামী লীগ বাঙালির আশা আকাক্সক্ষার আঁতুরনিবাস, দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এই আওয়ামী লীগ বাঙালির স্বপক্ষের দল হলেও তারা মেহনতি মানুষের দল হয়ে উঠতে পারেনি। উগ্রবাদের সঙ্গে যে মিতালি তারা করেছে একদিন সেই উগ্রবাদীদের ছোবল তাকে দংশন করবেই, পৃথিবীর ইতিহাস সেটাই বলে। স্বাধীনতার আগে দেশ শাসিত হতো পাঞ্জাবি পাকিস্তানিদের দ্বারা, স্বাধীনতার পরে দেশ শাসিত হচ্ছে বাঙালি পাকিস্তানিদের দ্বারা। একই মডেল, একই সিস্টেম, একই তরিকা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত