প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, নারীরা এগিয়ে যাবেই : খুশি কবীর

মাসুদ হাসান: [২] এই মানবাধিকারকর্মী আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা কী পেয়েছি কিংবা না পেয়েছি তার চেয়েও বড় পাওয়া বাঙালির জন্য আমরা একটা নিজেদের রাষ্ট্র পেয়েছি, এর চেয়ে আর কী পাওয়ার থাকতে পারে এই জাতির জন্য। বাঙালি একটি স্বাধীন জাতি। পরাধীনতার শিকল দিয়ে এই বাঙালিকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও নিরস্ত্র বাঙালিকে দমাতে পারেনি। বাঙালির বুকের তাজা রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির বিজয় দিবস। এ বিজয় ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। নিপীড়িত জাতির গ্লানি থেকে সোনার ভূখন্ড পেয়েছে, যার নাম সোনার বাংলাদেশ। এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য আনন্দের, গৌরবের সঙ্গে মনে করে থাকি। বিশ^মানচিত্রে বাংলা নামক দেশের লাল সবুজের পতাকা আত্মপ্রকাশ পেয়েছে। বাঙালি জাতি পেয়েছে নিজ ভূখন্ড। বাঙালি জাতি পরাধীন থাকার জাতি নয়। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্তি পেতে দলমত নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে অর্জন করেছেন আজকের এই দেশ।

[৩] স্বাধীন এই জাতি পেয়েছে শিক্ষার অধিকার, মতপ্রকাশ, সামাজিক, অন্নর, বস্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ পেয়েছে জাতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় চেয়েছেন জাতির কল্যাণ। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। তিনি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাপ্রদায়িক। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এই দেশ হচ্ছে সবার। রাজনীতি হচ্ছে ধর্ম, বর্ণ, কামার-কুমার-কৃষক- শ্রমিক নির্বিশেষে সকল বাঙালির জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে এই দেশের মানুষ কিছুটা পিছিয়ে আছি। বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজে বা মসজিদে একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে মূর্তি ভাঙা। আমরা বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির জন্য স্মরণ রাখার জন্য, ভালোবেসে জাতির পিতার ভাস্কর্য তৈরি চেয়েছি। সেটা নিয়েও কথা বলতে দেখি। কিন্তু আমরা স্বাধীনতার গৌরবকে ধরে রাখার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন, তার বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

[৪] দেশের নারীরা এখন অনেক স্বাধীন। পুরুষের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া উচিত। নারীরা এখন শিক্ষিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নারীরে অধিকার দিয়েছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল মা-বোনেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে ইজ্জতহানি হয়েছেন, সেসমস্ত বীরঙ্গনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, তোমাদের যদি পরিচয় লাগে, তাহলে বলে দেবে আমার বাড়ি ধানন্ডি ৩২ নাম্বারে। বলবে, তোমাদের পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন সুন্দর আদর্শের একজন মানুষ। স্বাাধীনতার পরপর অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে এখনো নারীদের প্রতি পুরুষ সহনশীল হতে পারেনি। আজকে নারীরা রাস্তায় একা বের হতে ভয় পায়, নারীরা বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলা-অবক্ষয়। আইন কারও কারও পক্ষের হয়ে কাজ করে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে তা প্রমাণ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। যাতে মানুষ একবাক্যে ভরসা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে কেনা। এখানে সকল শ্রেণির সকল, ধর্মের মানুষের সমান অধিকার। আমাদের উচিত শুধু বিজয় এলেই শহীদদের স্বরণ করলেই হবে না, সারা বছরই তাদের আদর্শের চর্চা করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত