প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

জেরিন আহমেদ: বিজয় দিবস উপলক্ষে সাউথ এশিয়ান মনিটর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে । সরকার আসে, সরকার যায়। দৃশ্যপটে যত উন্নয়ন দেখা যায় তার সব কৃতিত্ব সবাই নিতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের আসল শক্তি হলো এর জনগণ। যাই হোক না কেন তারা প্রাণবন্ত, সাহসী, প্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী। তারা সবসময় সব দুর্যোগ পারি দিতে সক্ষম। আর তা প্রমাণ করেছে যে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর অর্জন করা বিজয় ছিল সূচনা মাত্র।

প্রতিবেদনটি হুবহু আমাদের সময় .কম পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

বিকাশ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্রাকের একটি সাবসিডিয়ারি, যা অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিকাশের মাধ্যমে দেশের ভেতর টাকা আদান-প্রদান, মোবাইল রিচার্য, বিভিন্ন বিল দেয়া যায়। ফরচুন ম্যাগাজিনের ‘চেঞ্জ দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় শীর্ষ ৫০ কোম্পানির মধ্যে বিকাশের নাম রয়েছে। প্রতিদিন বিকাশের মাধ্যমে ৫০ লাখ লোক আর্থিক লেনদেন করে।

সাংবাদিক পারভিন আক্তার থাকে রাজধানীর উত্তরায়। কারওয়ান বাজারে তার অফিস। দূরত্ব ও যানজট মিলিয়ে তাকে অফিসে পৌছাতে দুই ঘন্টা লাগে। তার সময় নেই। তাকে এক রাজনীতিকের সাক্ষাতকার নিতে এক ঘন্টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে। অনেক যিনি কিনা পিড়াপিড়ির পর সাক্ষাতকার দিতে রাজি হয়েছেন। ফলে সুযোগ হারানো চলবে না। সে মোবাইলে পাঠাও কল করে। তিন মিনিটের মধ্যে একটি মটরবাইক দরজায় হাজির। আর ঢাকার যানজট পাশ কাটিয়ে ৪০ মিনিটে সে অফিসে পৌছে যায়। ভাড়াও বেশ সহনীয়। রহমতুল্লাহর মতো পারভিনের মুখেও হাসি।

পাঠাও হলো বাংলাদেশের চাহিবা-মাত্র ডিজিটাল রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম। তিনটি শহরে এই সেবা পাওয়া যায়: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে। নেপালের কাঠমান্ডুতেও সেবাদান শুরু করেছে পাঠাও। বাংলাদেশের উঠতি তরুণদের কর্মসংস্থান করছে এটি।

এগুলো হলো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কয়েকটি উদাহরণ। বন্যা, সাইক্লোন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও গরিবের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি এখন অতীতের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে দেশটি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সফলতার গল্প অনেক ও বৈচিত্রপূর্ণ। অনেক অসুবিধার পরও বহু কিছু নিয়ে গর্ব করতে পারে বাংলাদেশ। পারে বিশ্বে তার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।

ব্রাকের আবিষ্কারক ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বব্যাপী তার অবদানের জন্য ‘নাইট’ খেতাব পেয়েছেন। ব্রাক নি:সন্দেহে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের চেহারাই বদলে দিয়েছে। অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে শুরু করে, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অর্থনীতি, দারিদ্র বিমোচনাসহ আরো অনেক ক্ষেত্রে চালকের আসনে রয়েছে ব্রাক। আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশের এর কার্যক্রম রয়েছে। এসব দেশে ব্রাকের মডেল গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ক্ষুদ্রঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বে ‘সামাজিক ব্যবসা’র ধারণা প্রচার করছেন। আফ্রিকার কোন দারিদ্রপীড়িত গ্রাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস, বিশ্বের সর্বত্র গ্রামীণ মডেল সুদৃঢ় শেকড় গাড়তে পেরেছে।

‘গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামে আসার আগে আমি কখনো টাকার নোট ছুঁয়েও দেখিনি’, বললেন ৫০ বছর বয়সী রংপুরের মেয়ে হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু দরকার হলে তা স্বামীই কিনে আনতো। গ্রামীণের ঋণ নিয়ে আমি এখন একজন উদ্যোক্তা, গবাধিপশু পালনের ব্যবসা করি। আমি নিজেই টাকা-পয়সা লেনদেন করি। পরিবারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই।’

হ্যা, বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন দৃশ্যমান। প্রতিদিন সকালে যখন মেয়েরা পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করতে যায় তখন তারা শুধু কিছু অর্থই উপার্যন করে না। তারা রফতানি বাড়াচ্ছে, দেশের রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এই রিজার্ভ এখন যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের রিজার্ভে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানও বিপুল। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকরা নিজেদেরকে দুর্দান্ত শ্রমশক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে, তারা বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশের শিল্পপতি ও উদ্যোক্তারাও তাদের শক্তিমত্তা জানান দিচ্ছে। রফতানিমুখি গার্মেন্ট শিল্প, ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আরো অনেক কিছুতে বাংলাদেশ ক্রমাগত নতুন উচ্চতায় উঠছে।

দেশটিকে প্রতিবেশী ‘বিগব্রাদার’ ভারতের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা একজন বাংলাদেশীর জন্য আত্মতৃপ্তির বিষয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষিতের হার, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার ও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে ভারতের জিডিপি-কে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এখন বাংলাদেশের দৃশ্যপটে আবির্ভুত হয়েছে পদ্মাসেতু। প্রমত্তা পদ্মার বুকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু এখন বাস্তব। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বাকি অংশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোকে সংযোগকারী এই সেতু দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে বহুদূর এগিয়ে নেবে। বিশ্বের বুকে একটি গর্বের স্থান করে নিতে বাংলাদেশ কীভাবে সব বাধা পার হচ্ছে এটা তার প্রতীক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত