প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিষাক্ত পানীয় খেয়ে দাঁত কালো করার বিপদজনক রীতি তাদের

ডেস্ক রিপোর্ট: সারাবিশ্বেই নারীদের সৌন্দর্যচর্চায় রয়েছে নানান পদ্ধতি। প্রথা বা সেদেশের প্রচলিত সৌন্দর্যচর্চার উপকরণের কথা জানলে অবাক হবেন বৈকি! একটু যেন বাড়াবাড়িই করে ফেলেছেন তারা। জাপানি নারীদের কথাই ধরুন না। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মানুষের দেশ বলা হয় একে। জাপানিদের শরীরিক সৌন্দর্য অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
নরম, কোমল ও দাগমুক্ত সুন্দর ত্বকের জন্য জাপানে বহু বছর ধরে নারীরা ভাতের মাড় ব্যবহার করে আসছেন। ভাতের মাড়ে আছে প্রচুর অ্যান্টিওক্সাইড, ভিটামিন ‘ই’ যা ত্বককে করে তুলে লাবণ্যময়ী ও উজ্জ্বল। কথিত আছে বহু বছর আগে জাপানের রানিরা ভাতের মাড় দিয়ে তাদের মুখ ধুতেন। তবে এই দেশে সৌন্দর্যের কিছু আলাদা সংজ্ঞা রয়েছে। যেমন ধরুন ছোট পা। জাপানের বিভিন্ন প্রদেশে এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। এখানে কন্যা শিশু জন্মানোর কয়েকমাস পরই এক ধরনের বিশেষ জুতা পরিয়ে রাখা হয়। শিশুটি যতই বড় হোক না কেন এই জুতা কখনো খোলা হবে না। সারা জীবন ছোট এমন জুতা পড়ে থাকতে হবে।

তাদের মতে, যার পা যত ছোট হবে বিয়ের পাত্রী হিসেবে তার কদরও তত বেশি। পা নরম রাখতে প্রথমে উষ্ণ ভেষজ ও পশুর রক্তে পা ভিজিয়ে রাখা হতো কন্যাশিশুদের। কেটে ফেলা হতো নখ। তার পর ঘটত সেই পৈশাচিক কাণ্ডটি। কোমলমতি কন্যাশিশুদের পায়ের আঙুলগুলো নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভেঙে ফেলা হতো। এর পর পরিয়ে দেয়া হতো লোহার জুতা, যেন পা আর না বাড়ে।

এছাড়াও থাইল্যান্ডের চিয়াং মে-তে যেসব নারী থাকেন তাদের গলা বিশ্বের অন্য সব নারীর তুলনায় অনেক লম্বা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ওই এলাকাটিই এখন লম্বা গলা মহিলাদের গ্রাম হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। গলা অদ্ভুত রকমের লম্বা হওয়ায় অনেকে আবার এই নারীদের ‘জিরাফ ওম্যান’ বা ‘ড্রাগন ওম্যান’ও বলে থাকেন। এ গ্রামে মূলত কায়েন সম্প্রদায় মানুষই থাকেন। জন্ম থেকেই এ সম্প্রদায়ের নারীদের ‘জিরাফ’-এর মতো লম্বা গলা হয় না। বংশপরম্পরায় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষা করতেই আসলে নিজেদের গলা লম্বা করে নেন এরা নিজেই।

এ জন্য গলায় তারা পেঁচানো রিং পরেন। গ্রামে কোনো কায়েন কন্যা জন্ম হলে, তার ৫ বছর বয়স থেকেই গলায় সোনালি রঙের পেঁটানো রিং পরিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবছর রিংঙের প্যাঁচ বাড়তে থাকে। এ ভাবে একটার পর একটা রিং যোগ করা হয় ২১ বছর পর্যন্ত। এই ২১ বছরে একবারের জন্যও কিন্তু কায়েন মহিলারা ওই রিং গলা থেকে খোলেন না। ২১ বছর পর যখন এই রিং তাদের গলা থেকে খোলা হয়, গলায় রিংয়ের কালো দাগ বসে যায়। গলাটা অদ্ভুত রকমের সরু আর লম্বা দেখায়। লম্বা গলা কায়েন সম্প্রদায়ের কাছে গর্বের বিষয়। যার গলা যত লম্বা, কায়েনদের কাছে তিনিই তত সুন্দরী।

এছাড়াও জাপানে রয়েছে অদ্ভুত এক প্রথা। ওহাগুরো বা দাঁত কালো করা। এখানকার নারীরা তাদের সৌন্দর্য বাড়াতে দাঁতের রং কালো করে রাখে। এখন খুব বেশি এই প্রথা মানতে দেখা না গেলেও ১৯ শতকের শেষেও এই রীতির চল ছিল দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে। দাঁত কালো করতে তারা ব্যবহার করত এক ধরনের পানীয়। যা তৈরি করা হয় বিশেষ পদ্ধতিতে। কিছু লোহা প্রথমে চা বা ভিনেগারের জন্য ভিজিয়ে রাখা হয়। লোহা যখন জারণ হয়ে যায় তখন তরলটি কালো হয়ে যেত। এর স্বাদ খুব একটা ভালো না হওয়ায় মেশানো হত দারুচিনি, লবঙ্গ। এই পানীয় তারা দিনে দুই তিনবার পান করেন। দুই তিনবার সম্ভব না হলে একবার পান করতেই হবে। এই পানীয় কিছু কিছুটা বিষাক্ত ছিল। কেননা অনেকেই মারা যেতেন এর বিষক্রিয়ায়।

ওহাগুরোর প্রচলন কখন এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল তা অজানা। ধারণা করা হয়, হিয়ান আমলে অর্থাৎ ৮ম থেকে ১২ ম শতাব্দীর কোনো এক সময়ে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সময়ে শুধু অভিজাত নারীরাই দাঁত কালো করতেন। নিম্ন শ্রেণির নারীদের জন্য দাঁত কালো করার অনুমতি ছিল না। তাদের দাঁত কালো করার আরেকটি যুক্তি ছিল। তা হলো- চোখের মনি যেহেতু কালো তাই দাঁত সাদা থাকলে হাসি সুন্দর লাগে না। কালো দাঁত ছাড়াও সাদা মুখ হিয়ান আমলে আরেকটি পছন্দের ব্যাপার ছিল। প্রচুর পরিমাণে সাদা মেকআপ করতেন নারীরা। যা তৈরি করা হলো চাল গুঁড়া করে।

তবে যে কারণেই দাঁত কালো করা হোক না কেন। এর কিন্তু নানান উপকারিতা ছিল। এই নারীরা দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতেন। পরবর্তিতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত নারীদের দাঁত কালো থাকত। এতে সহজেই মানুষ বুঝতে পারতেন এই নারী বিয়ের জন্য প্রস্তুত। তারও অনেক পরে দাঁত কালো করা হত শুধু পতিতাদের।

তবে মেইজি সময়কালে এই প্রথার বিলুপ্তি হয়। জাপানকে আধুনিকায়নের দেশ হিসেবে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৮৭০ সালে ওহাগুরো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত