প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশ

কামরুল হাসান মামুন: ২০২০ সালের শেষে এসে এই দুঃসংবাদটা শুনতে হলো। তাও আবার বিজয় দিবসের মাসে। কিন্তু আমরা না উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি? আমি এটাই আঁচ করছিলাম অনেকদিন ধরে এবং এটা নিয়ে লিখেছিও অনেকবার। তবে এখন এটা অফিসিয়াল যে শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। শ্রীলংকায় ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং-এ ভালো অবস্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার ফলাফল অনেক শ্রীলংকান বাংলাদেশে মোটা বেতনের বড় বড় চাকুরী করছে। আর ভারততো শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার উপরে তাই সঙ্গত কারণেই প্রচুর ভারতীয় বাংলাদেশে মোটা বেতনের চাকুরী করছে। বেশ অনেক বছর আগে রহিম-আফরোজ কোম্পানিতে গিয়েছিলাম। তখন তারা ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার এনে বাংলাদেশিদের সিএনজি কনভার্সন শেখাচ্ছিল। আমার স্ত্রী দোভাষীর কাজ করায় রহিম-আফরোজ অফিসে যেতে হয়েছিল। সেখানে পাকিস্তানি এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার সাথে পরিচয় হয়েছিল। তার মানে পাকিস্তানিরাও বাংলাদেশে কাজ করে। তবে সেটা ছিল বিএনপির আমল। হয়ত এই আমলে পাকিস্তানিরা ওয়ার্ক পারমিট পাবে না। কিন্তু মেসেজটা হলো আমাদের এমনই শিক্ষা ব্যবস্থা যে আমাদের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার অথচ প্রচুর বিদেশী মোটা বেতনের চাকুরী করে। অর্থাৎ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যোগ্য শিক্ষিত তৈরী করতে পারছে না।
ফরিদ জাকারিয়া নামের ভারতীয় ভারতে পড়াশুনা করে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় গিয়ে পড়াশুনা শেষে সিএনএনে একজন হোস্ট হিসাবে কাজ করছে। একই সাথে সে ওয়াশিংটন পোস্টের একজন নিয়মিত কলামিস্ট। এছাড়া ভারতে পড়াশুনা করে আমেরিকার বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির বড় বড় পদে বহু ভারতীয় কর্মরত। আমি গত বছর আমেরিকার নিউ ইয়র্কে গিয়ে যত টেক্সি ক্যাবে উঠেছি তার প্রায় সবগুলো চালাচ্ছিল বাংলাদেশী। আমরা এইসব ছোটখাটো কিছু করার মত করেই শিক্ষিত করি। আমরাও মিডলইস্টে পাঠায়, ভারত, শ্রীলংকা নেপালও পাঠায়। আমাদের কর্মীরা সেখানে সবচেয়ে কম বেতনে সবচেয়ে মানবেতর কাজ করে কারণ তাদের কোন স্কিল নাই। ওদিকে ভারতের কথা না হয় বাদই দিলাম। শ্রীলংকা নেপালের ওরাও ভালো বেতনে একটু বেশি সম্মানীত অবস্থানে আছে।
অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার দিক থেকে মাশাল্লাহ আমরা ওদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছি। আমরা সংখ্যাই চিনি। আমরা ধোঁকা দিতে জানি। কিন্তু আমরা নিজেরাই যে নিজেদের বোকা বানাচ্ছি সেইটা বোঝার ক্ষমতা পর্যন্ত আমাদের নেই। আমাদের মন্ত্রী আমলারা যখন বিদেশে যায় তারা মুখ দেখায় কিভাবে? আমি সত্যিই ভেবে পাই না। অনেকদিন আগে একটি সংবাদ শেয়ার করেছিলাম। সেখানে বিশ্বের ১২৫ দেশের লিস্ট ছিল যারা গবেষণা ও উন্নয়নে ১ মিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ দেয়। সেই লিস্টে নেপাল ছিল কিন্তু আমার সোনার বাংলা ছিল না। সংবাদটি পড়ে খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। তারপরেও বাজেট এসেছে কিন্তু শিক্ষায়ও বরাদ্দ বাড়েনি আর “গবেষণা ও উন্নয়ন” নামে কোন খাতই রাখে না।
প্রতিবছর নেপাল থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ৫০০০ ছাত্র বেশি আমেরিকায় পড়াশুনা করতে যায়। অথচ ওদের মাত্র দুই তিনটা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতপক্ষে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র বলা যায়। আর আমাদের শত শত। পঙ্গপালের মত মানুষ আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়িয়ে কোন লাভ আছে যদি মান সম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে সত্যিকারের মানুষ না বানাতে পারি। না পারলে কি হবে আমাদের দাম্ভিকতা কিন্তু ঠিকই আছে। আমাদের ফাঁপরের ঠেলায় থাকা মুশকিল। শিক্ষায় উন্নতি করলে আমাদের কত সমস্যা যে সমাধান হয়ে যেত তা হয়ত আমরা জানিই না। শিক্ষায় উন্নতি করলে এর একটা ক্যাসকেডিং ইফেক্ট আছে। সেই ইফেক্টের সুফল গিয়ে লাগে সকল কিছুর মধ্যে।
আমাদের সরকাররা কি কখনো চেয়েছে যে আমরা সাধারণের সন্তানরা সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হউক? আমার উত্তর: না। বরং উল্টোটা চেয়েছে। চেয়েছে তারা দলান্ধ হউক, চেয়েছে তারা ধর্মান্ধ হউক। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত