প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হোয়াইট হাউসে ‘ঘুষ দিয়ে ক্ষমা’, তদন্ত চলছে

রাশিদুল ইসলাম : [২] ঘুষের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়ার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজে অর্থ সরবরাহ দেয়ার বড় রকমের এক অপরাধের তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়। ফেডারেল কোর্টে এ বিষয়ক ডকুমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ বেরিল হাওয়েল খুব বেশি সম্পাদনা করা এক অর্ডারে ওই ডকুমেন্ট প্রকাশ করেন। একে তিনি ‘ব্রাইবারি ফর পারডন’ বা ঘুষের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেয়া বিষয়ক তদন্ত বলে অভিহিত করেছেন। রয়টার্স

[৩] ১৮ পৃষ্ঠার ওই ডকুমেন্টের প্রায় অর্ধেকটা ‘ব্লাকড আউট’ করে দেয়া হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে সামান্য অংশ। তাতে এই দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে খুব কমই বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। জড়িতদের নাম প্রকাশ করা হয় নি।

[৪] ওয়াশিংটনে ফেডারেল প্রসিকিউটররা বলেছেন, তারা ঘুষ গ্রহণের বড় রকমের একটি স্কিম সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন। এতে প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমা অথবা শাস্তি উপশমের বিনিময়ে কেউ একজন উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ‘কন্ট্রিবিউশন’ প্রস্তাব করে থাকতে পারেন।

[৫] বিচারক বেরিল হাওয়েল তার অর্ডারে বলেছেন, একটি ‘সিক্রেট লবিং স্কিম’ নিয়ে তদন্ত করছেন প্রসিকিউটররা। অজ্ঞাত দু’জন ব্যক্তি হোয়াইট হাউজের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এক্ষেত্রে ‘লবিং ডিসক্লোজার অ্যাক্ট’ আইন মানা হয়নি।

[৬] আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা এই তদন্তের টার্গেটে নেই অথবা ছিলেনও না। এই মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিচারক বেরিল হাওয়েলের কাছে অনুমোদন চেয়েছে একজন আইনজীবী এবং তার ক্লায়েন্টদের সুনির্দিষ্ট ইমেইল চেক করার। তবে ওই আইনজীবী এবং ক্লায়েন্টদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আগস্টে এ অনুরোধ অনুমোদন করেছেন বেরিল হাওয়েল।

[৭] প্রসিকিউটররা বলেছেন, এই যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে তারা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মুকোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং তাদের তদন্ত শেষ করেন। বেরিল হাওয়েলের অর্ডার অনুযায়ী, সরকারি অনুসন্ধানকারীরা তাকে বলেছেন যে, তারা ৫০টিরও বেশি ডিজিটাল মিডিয়া ডিভাইস জব্দ করেছেন। এর মধ্যে আছে আইফোন, আইপ্যাড, ল্যাপটপ, থাম্ব ড্রাইভ, কম্পিউটার এবং এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ।

[৭] যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে ফেডারেল ক্রাইমের দায়ে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার রাখেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে যে তদন্ত হয়েছে, তাতে তিনি দু’বার এফবিআইয়ের কাছে মিথ্যা বলার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে ক্ষমতার মেয়াদের শেষের দিকে এসে ক্ষমা করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এ সময়ে যাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তার মধ্যে মাইকেল ফ্লিন প্রথম।

[৮] বিচারক বেরিল হাওয়েলের নির্দেশ অনুযায়ী, আইন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তাকে বলেছেন, তারা তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। কারণ, এতে অজ্ঞাত মানুষের নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এখনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত