প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইরানের ওপর হামলা হলেই আক্রান্ত হবে আমিরাত, ফাখরিজাদেহের দাফন সম্পন্ন (ভিডিও)

রাশিদুল ইসলাম : [২] আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে মিডিল ইস্ট আই ডটনেট এক প্রতিবেদনে বলছে তেহরান সরাসরি আমিরাতের মোহাম্মদ বিন জায়েদকে বলে দেয়া হয়েছে ইরান আক্রান্ত হলেই তার দেশে হামলা চালানো হবে। আবুধাবিকে এ বার্তা পৌঁছে দিতে তেহরান সরাসরি আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে।

[৩] ক্রাউন প্রিন্সকে তেহরান থেকে ফোন করার এক ঘন্টা আগে ইরানি বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহেকে হত্যার নিন্দা জানায় আমিরাত। এবং বলে এধরনের হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

[৪] ইরানের পক্ষ থেকে ফাখরিজাদেহেকে হত্যার জন্যে আমিরাতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। আমিরাতের অবস্থান ইরান থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর তেলআবিব আবুধাবিকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

[৫] মিডিল ইস্ট আইয়ের পক্ষ থেকে লন্ডনে আমিরাতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

[৬] ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ বলছে আমিরাতের সঙ্গে তেলআবিবের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করছে।

[৭] এদিকে ইরানি বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখারিজাদেহেকে তেহরানে দাফন করা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, শত্রুরা গত ২০ বছর ধরে ইরানের এই বিজ্ঞানীকে হত্যা করার চেষ্টা করে এসেছে। দুঃখজনকভাবে ফাখরিজাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শিথিলতা এসেছিল এবং শত্রুরা সেই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করেছে। তবে শত্রুরা ফাখরিজাদে’দের শিখিয়ে যাওয়া জ্ঞান ও প্রযুক্তি এদেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

[৮] এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রাক্তন সহকারি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চাক ফ্রেইলিখ বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক সিদ্ধান্ত নেন, এটাই সত্য। কিন্তু, যখন একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন এবং তার সাথে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উপায় তার সামনে আসবে, তখন তিনি কী করতে পারেন? তিনি তখন এমন নাটকীয় কোনো পরিস্থিতি তৈরি করবেন; যার মাধ্যমে নিজেকে অদ্বিতীয় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে সবার কাছে তুলে ধরা যায়। ফখারিজাদেহ হত্যার পেছনে তাই একাধিক অনুঘটককেই প্রধান চালিকাশক্তি মনে করছেন এ বিশেষজ্ঞ। ফ্রেইলিখ মনে করেন, এই সুযোগে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রকে বাঙ্কার বিদ্ধংসী বোমা ব্যবহার করার প্ররোচনা দিতে পারবেন নেতানিয়াহু। আর সেটা করা যাবে বাইডেন পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার আগেই। ইরানের পরমাণু জ্বালানি তৈরির সেন্ট্রিফিউজ ট্রাম্প হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিলে, তাতে বাইডেন আমলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ঝুঁকিও চিরতরে দূর হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত