প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুঁজি সংকট ও সংরক্ষণাগারের অভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে আত্রাইয়ের শুটকি ব্যবসায়ীদের

আশরাফুল নয়ন: [২] উত্তরাঞ্চলের মৎস ভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁ। নওগাঁর আত্রাইয়ে রয়েছে শুটকি পল্লী। তবে সংরক্ষণাগার ও যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরেই শুটকি সংরক্ষণ করতে না পেরে লোকসান গুনতে হয় উপজেলার শুটকি ব্যবসায়ীদের। এতে আর্থিক সংকটে পড়ে দিন দিন কমে যাচ্ছে শুটকি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা।

[৩] আত্রাই উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার ২৬ জন শুটকি ব্যবসায়ীর ২৬টি চাতালে ১ হাজার ২শ মাঁচাতে প্রতি বছর ৬শ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদন হয়। যার আনুমানিক মূল্য ছয় কোটি টাকা। উপজেলায় এবার কয়েক দফা বন্যায় হওয়ায় ছোট মাছের উৎপাদন ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শুটকি তৈরী করে এই মাছ প্রক্রিয়াজাত করণ করলে ব্যবসায় সাফল্য আসবে বলে মনে মৎস্য অফিস। আত্রাই স্টেশন এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শুটকি পল্লী। এখানে রাস্তার দুই ধার দিয়ে মাচাতে করে শুটকি শুকানো হয়।

[৪] ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুটকি পল্লী হিসেবে খ্যাতি লাভ করছে। প্রতি মৌসুমেই এখান থেকে ৬শ মেট্রিক টন শুটকি মাছ উৎপাদন হয়। শুটকি মাছের নায্য মূল্য পেতে এই মাছ সংরক্ষণ করতে হয়। সংরক্ষণ করতে পারলে বাজারে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে পারতো উপজেলার শুটকি ব্যবসায়ীরা। তবে আত্রাইয়ে শুটকি মাছ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার ও যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক কোন ব্যবস্থা নেই। তাই শুটকি সংরক্ষণ করতে না পেরে স্বল্প দামেই গড়ে ১শ টাকা কেজিতেই বিক্রি করতে হয় ব্যবসায়ীদের।

[৫] প্রতি বছর শুটকি পল্লীতে উৎপাদিত মাছ দেশের বিভিন্ন জেলা সৈয়দপুর, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর ও ঢাকায় শুটকি মাছ সরবরাহ করা হয়। এই মাছ সৈয়দপুর হয়ে ভারতে যায়। শুটকি ব্যবসা লাভজনক হলেও সেখানে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। অনেকে এই ব্যবসায় আসতে চাইলেও ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ না পেয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়তে হয়।

[৬] সেই সুযোগে ব্যবসার লাভের পুরো অংশ দাদন ব্যবসায়ীরা লুফে নেয়। পুঁজি সংকটের কারণে উপজেলার শুটকি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে এখানে ৪০ জনের বেশি ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত থাকলেও এখন তা কমতে কমতে ২৬ জনে এসেছে। একদিকে ব্যাংক লোন পরিশোধের দুশ্চিন্তা অন্যদিকে দাদন ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে হতাশায় রয়েছেন শুটকি ব্যবসায়ীরা। বছরের ৬ মাস এই শুটকির মাছ তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬শ পরিবার।

[৭] ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ী অহেদ প্রামানিক জানান, চলতি বছরে চার দফা বন্যা হওয়ায় উপজেলায় বাজারগুলোতে ছোট মাছের আমদানি বৃদ্ধি হচ্ছে। তার চাতালে ১’শ টি মাচা রয়েছে বর্তমানে শুটকির মাছ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শুটকি পল্লীর বাসিন্দারা। মাছগুলো ভারতে রপ্তানি করতে না পারলে শুটকি সংরক্ষণের অভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে শুটকি ব্যবসায়ীদের চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। এনিয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন পুঁজি সংকটে থাকা ব্যবসায়ীরা।

[৮] ভরতেঁতুলিয়া শুটকি সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক রামপদ শীল বলেন, নওগাঁয় কোনো শুটকি সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রতি বছর কম দামেই গড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে মাছ পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়। একদিকে পুঁজি সংকট অন্যদিকে শুটকি সংরক্ষণাগার না থাকায় আমরা সংরক্ষন করতে পারিনা। সংরক্ষন যদি করা যেতো এই মাছ বিক্রি করে আমরা দ্বিগুন দাম পেতাম।

[৯] ভরতেঁতুলিয়া শুটকি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, পুঁজি কম থাকায় দারদেনা করে মাছ কিনে তা দিয়ে শুটকি করতে হয়। সরকার যদি মৎস ভান্ডার খ্যাত এই আত্রাইয়ে একটি শুটকি মাছ সংরক্ষণাগার করে দিতো তাহলে কুয়াকাটা-কক্সবাজারের মতো এখানেও একটি সম্ভাবনাময়ী শিল্প এলাকার সৃষ্টি হতো।

[১০] আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, উপজেলায় শুটকি পল্লীতে প্রতি বছর ৬০০ মেট্রিকটন শুটকি উৎপাদন হয়। এখানে একটি শুটকি মাছ সংরক্ষণাগার করা যেতো তাহলে হয়তো আত্রাইয়ে শুটকি শিল্পের বিপ্লব ঘটতো। আমরা পরিষ্কার পানি সরবরাহের জন্য পাম্প ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেই মোতাবেক কাজ শুরু করে দিয়েছি। সরকার যদি এখানে একটি শুটকি সংরক্ষগাগার এর অনুমোদন দেন তাহলে শিল্পটি বিকশিত হতো। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত