প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কঠোর বার্তা আ.লীগে, তৃণমূলকে সুসংগঠিত ও অন্তর্কোন্দলমুক্ত করতে বিভাগীয় ৮টি টিম মাঠে

অনলাইন ডেস্ক : মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের শীর্ষ নেতারা এর নির্দিষ্ট কারণ না বললেও এমন সিদ্ধান্ত সারাদেশের নেতাকর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, দলের জেলা-উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে অনেকেই নিজস্ব বলয় তৈরি করেন। আর বলয় তৈরি করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। দলের ভেতর উপ-দল তৈরি করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এসব বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব জেলা উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময় দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হয়েছে সেসব এলাকায় বিশেষ নজরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তৃণমূল সংগঠনকে সুসংগঠিত ও অন্তর্কোন্দলমুক্ত করতে কাজ করছে বিভাগীয় ৮টি টিম। সে আলোকে যেসব কমিটিতে সমস্যা রয়েছে সেগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্তর্কোন্দল থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত থেকে তা মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃতু্যর পর সিরাজগঞ্জে দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বেশ কয়েকবার নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের এক কর্মী মৃতু্যবরণ করে। অহত হয় অসংখ্য নেতাকর্মী। গত শুক্রবার জেলার বেলকুচি উপজেলায় (সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকা) বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সমন্বয়হীনতায় জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। জেলা কার্যালয়সহ সাংগঠনিক অফিসসমূহ বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় রোববার সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. হাবিবে মিলস্নাতকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় সংগঠন। পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলীকে (হাসান) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উলেস্নখ করা হয়নি। দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপস্নব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতির নির্দেশক্রমে ও গঠনতন্ত্রের বিধিমোতাবেক এসব নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. হাবিবে মিলস্নাত স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেনের মেয়ের জামাই।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূইয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জি এম তালেবকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মো. আলীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অব্যাহতি পাওয়া নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এর আগে বিভিন্ন অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিলুপ্ত করে হয় ফরিদপুর জেলা যুবলীগের কমিটি। একই জেলার ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিকে, নরসিংদীতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এত দিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দ্বন্দ্বে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অন্যপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঁইয়া। দুই পক্ষই নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা আয়োজনে জাতীয় অনুষ্ঠান ও দলীয় কর্মসূচি পালন করত। জেলার শীর্ষ এই দুই নেতার গ্রম্নপিংয়ে ওই এলাকায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের ৮ মার্চ নরসিংদীর মনোহরদীতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের বাসভবনে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নিজেদের বিভেদ ভুলে দুজনকে একসঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলটির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। তখন দু’জন মিলে গেলেও পরবর্তী সময়ে তারা কেউই বিভেদ ভুলতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলের প্রয়োজনেই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এই দুই (নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ) জেলার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল যেখানে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করবে সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হবে। যায়যায়দিন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত