শিরোনাম
◈ অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও কোনোটিতেই বসেনি যানবাহন চলন্ত অবস্থায় ওজন মাপার যন্ত্র ডব্লিউআইএম স্কেল ◈ সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না: মাহদী আমিন ◈ প্রবাসীরা ই-মেইলে অভিযোগ দিলেই সমাধান পাবেন ◈ স্টুডিওতে লুটপাটের পর ‍সালমান মুক্তাদির বললেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গ্রেট জব, বিএনপি জোস কাজ করছে’ ◈ ভুলের সুযোগে ইংল্যান্ডকে হারাল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ◈ ঢাকার মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের কারণ কী? ◈ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আবারও আটক ২৫৪ ◈ বৃদ্ধাশ্রমে সা‌বেক ক্রিকেটার বি‌নোদ কাম্বলি, কেমন আছেন জানালেন নিজেই ◈ বেকারত্ব থেকে অনলাইন জুয়া, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে অপরাধ ◈ ইউএনজিএ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ০৪:০৫ সকাল
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ০৪:০৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিল পাস, ‘ধর্ষিতা’ নয় বলতে হবে ‘ধর্ষণের শিকার’

মনিরুল ইসলাম: [২] ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০’ পাস হয়েছে।

[৩] মঙ্গলবার রাতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা সংসদীয় কমিটির সুপারিশ আকারে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কন্ঠভোটে সর্বসম্মতত্রুমে পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে।

[৪] স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিলটি পাসের সময় জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব আনেন বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ ও ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীর ফজলুর রহমান। হারুনুর রশীদ বলেন, শুধু কঠোর আইন করলেই ধর্ষণের মহামারি বন্ধ হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

[৫] জাতীয় পার্টির সদস্যরা বলেন, এই আইনকে আমরা সমর্থন করি। মৃত্যুদণ্ড ছাড়া ধর্ষণ বন্ধ হবে না।

[৬] মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা বিল পাসের আগে বলেন, নারী ও শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। এই আইন ধর্ষণ বন্ধ কার্যকর হবে। বিএনপির ২০০১ সালে নির্বাচনে বিজয়ের রাতে পূর্ণিমা রানীকে সারারাত গণধর্ষণ করা হয়। গণধর্ষণ দিয়েই বিএনপি ক্ষমতায় আসে। আজ তারাই এ নিয়ে কথা বলছে।

[৭] বিলে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২(ক) শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বিলে।

[৮] সেখানে বলা হয়, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।

[৯] অন্যদিকে, বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বিদামান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মধ্যে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে আইনে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান যুক্ত করতে এই বিলটি আনা হয়েছে। বিলটি পাসের আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

[১০] সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে ধর্ষণ-নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানান। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এরআগে ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হয়। আর বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয় গত ৮ নভেম্বর।

 

  • সর্বশেষ