প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনিয়োগ বাড়বে ৫ বন্ডে

জনকণ্ঠ: করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থনীতি আরও সবল করতে পাঁচ বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে প্রবাসীদের। বিশ্বব্যাপী করোনা সঙ্কটের মধ্যেও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা বন্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনিয়োগ আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের। এলক্ষ্যে প্রবাসীদের জন্য তিনটি এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য দুটিসহ মোট পাঁচটি বন্ডে বিনিয়োগের অবাধ সুযোগ দিতে চায় সরকার। নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগে প্রবাসীরা ভাল মুনাফা লাভের পাশাপাশি সিআইপির মর্যাদা পাবেন। বন্ডের এই আয়ে সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা দেয়া হবে অভিবাসীদের। এছাড়া বিনিয়োগ সহজ করতে ডলার থেকে মাল্টি কারেন্সি সঞ্চয়পত্রে প্রবর্তন করা হচ্ছে বন্ড। এতে করে পাউন্ড ও ইউরোসহ যেকোন মুদ্রায় বন্ডে সহজে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

বৈদেশিক মুদ্রা আহরণকে উৎসাহিত করতে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড-এ প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারী ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে দেশী উদ্যোক্তাদের। প্রচার ও রোড শোর অভাবে বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এত দিনেও তেমন সাফল্য আসেনি। করোনা মহামারীর কারণে আরও বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বন্ডের বিনিয়োগ। এ কারণে করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রচার করা হবে। অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এ সংক্রান্ত বৈঠকে জানিয়েছেন, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন খুব জরুরী হয়ে পড়ছে। যেখানেই প্রবাসীরা রয়েছেন সেখানেই সরকারের এই উদ্যোগের কথা জানাতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ-ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে সরকারের সম্ভাব্য বন্ডের অর্থপ্রাপ্তির লক্ষ্যে ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাশ ফরকাস্টিং সংক্রান্ত একটি পৃথক মডিউল সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, যেসব দেশে বাংলাদেশী অভিবাসী বেশি সেসব দেশে আগামী নবেম্বর মাস থেকে রোড শো করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই রোড শোর মূল লক্ষ্য হলো বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ানো। যে সকল দেশে বাংলাদেশী শ্রমিক ও অভিবাসী বেশি রয়েছে যেমন মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ইতালি প্রভৃতি দেশে রোড শো করে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রচার চালানো হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ-ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক করা হয়। অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদাদের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকের প্রতিনিধি, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, বিপুলসংখ্যক প্রবাসীরা প্রতিবছর দেশে বিপুল অঙ্কের রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার পর রেমিটেন্স আহরণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এখন যদি তাদের (প্রবাসী) বন্ডে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা যায় তাহলে তাতেও সাড়া দেবেন প্রবাসীরা। একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। এমনভাবে রোডম্যাপ করা উচিত যাতে প্রবাসীরা আগ্রহ ও দেশপ্রেম নিয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করেন।

এদিকে দেশে প্রচলিত পাঁচ ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সঞ্চয় অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে- বর্তমান বৈশ্বিক কোভিড মহামারীর কারণে বেশকিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক হলে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে প্রচার চালানো সম্ভব না হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বন্ডে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। অন্যথায় বন্ড সম্পর্কে মানুষ সম্যক ধারণা পাবে না।

বাংলাদেশী প্রবাসীরা তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এগুলো হচ্ছে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড। কেউ যদি ছয় মাসে মুনাফা না তোলেন, তবে মেয়াদপূর্তিতে মূল অঙ্কের সঙ্গে ১২ শতাংশ মুনাফা পাবেন। ব্যাংকে টাকা রেখে বাংলাদেশের মতো এত মুনাফা উন্নত দেশগুলোতে পাওয়া সহজ নয়। বিদেশে অবস্থান করেন, এমন যেকোন বাংলাদেশী চাইলেই প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ করে মুনাফা নিতে পারেন। এর সবই বাংলাদেশ সঞ্চয় অধিদফতরের চালু করা বন্ড।

জানা গেছে, প্রবাসীদের তিন বন্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ। একজন প্রবাসী কী পরিমাণ বন্ড কিনতে পারবেন, এ নিয়ে কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে প্রবাসী বন্ডে বেশির ভাগ বিনিয়োগই হাতেগোনা কয়েকজনের। এসব বন্ড পাওয়া যায় বিদেশী এক্সচেঞ্জ হাউস, দেশী ব্যাংকের বিদেশী কোন শাখা ও বাংলাদেশের ব্যাংক শাখায়। আবার এসব বন্ডে বিপরীতে দেশী ব্যাংক থেকে ঋণও পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত অর্থ চাইলে আবার বিদেশেও ফেরত নেয়া যায়। এসব বন্ডের বিনিয়োগ করে সিআইপি সুবিধা পাওয়া যায়। আবার এই আয়ে আবার সম্পূূর্ণ করমুক্ত সুবিধাও মেলে। সঞ্চয়পত্র অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাঁচ বছর মেয়াদী। এ বন্ডে ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগ রয়েছে।

প্রবাসী বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে সিআইপি মর্যাদা দেয়া হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এক্ষেত্রে ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া এই আয়ের পুরোটাই করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে প্রবাসীরা বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াবেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রবাসী ছাড়াও এই বন্ড কিনতে পারেন বিদেশে লিয়েনে কর্মরত বাংলাদেশী সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাসে কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন-ভাতা পান। মুনাফার হার বেশি হওয়ায় প্রবাসে অবস্থান করা বেশির ভাগই এ বন্ড ক্রয় করছেন।

এছাড়া ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড তিন বছর মেয়াদী। এ বন্ডে ৫০০ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৭ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস অন্তর সরল সুদে মুনাফা তোলা যায়। এছাড়া আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও তিন বছর মেয়াদী। এতে সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য সরকারের তিন ধরনের বন্ড রয়েছে। ব্যাংকগুলো এ বন্ড বিক্রি করে। এর মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে। প্রবাসীরাও লাভবান হচ্ছেন। তবে করোনা মহামারীর কারণে বন্ডে বিনিয়োগ কিছুটা হ্রাস পেলেও সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগে এ খাতে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বেশকিছু কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক, যেকোন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ভবিষ্যৎ তহবিল, পেনশন তহবিল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া অনিবাসী বা বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধু ট্রেজারি বন্ড কিনতে পারেন। তবে এজন্য যে কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সিকিউরিটিজ হিসাব খুলতে হবে। ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ট্রেজারি বিভাগের সহায়তায় প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে ট্রেজারি বিল বা বন্ড কেনা যাবে। প্রয়োজনে মেয়াদ পূর্তির আগেই সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রাইমারি ডিলার, অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। বর্তমানে ২১টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে কাজ করছে। সেকেন্ডারি মার্কেটে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের কেনাবেচা এখনও তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। ট্রেজারি বিল স্বল্পমেয়াদী হয়। মেয়াদ এক বছরের কম। বর্তমানে ১৪, ৯১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদী ট্রেজারি বিল বাজারে চালু আছে। পক্ষান্তরে, ট্রেজারি বন্ড দীর্ঘমেয়াদী। বর্তমানে ২, ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ড বাজারে প্রচলিত আছে। ১ লাখ টাকা বা এর গুণীতক যে কোন অঙ্কের অভিহিত মূল্যের সমপরিমাণ সরকারী ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগ করা যায়।

জানা গেছে, বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। ব্যাংক নির্ভরতা কমাতে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রির ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। যাতে করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজে গবর্নমেন্ট সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে করে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের ঋণের চাপ কমবে। এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বড় অঙ্কের অর্থ আসে বন্ড থেকে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড। অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকাতে করোনা মহামারীতেও বন্ড বিক্রি কার্যক্রম বাড়িয়েছে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। অর্থনীতিতে বন্ড বিক্রির পরিমাণ এখন ৬০ হাজার কোটি ইউরোর পরিবর্তে ১ দশমিক তিন পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় ইসিবি। সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্ড বিক্রি কার্যক্রম চলবে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

অথচ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই তলানিতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত নীতিমালার অভাবে দেশে এখনও বন্ড মার্কেট তেমন সচল হয়নি, সীমিত আকারে বাজারে চালু রয়েছে। এগুলো লেনদেন হয় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে। সাধারণের হাতে বন্ড আসার সুযোগ নেই। ইস্যুকৃত অধিকাংশ বন্ড ব্যাংক কর্তৃক কেনা ও ধারণ করা হয়। কিছুসংখ্যক ব্যক্তি এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতেও কিছু বন্ড রয়েছে। ফলে এরাই বাংলাদেশের বন্ড বাজারের প্রধান ক্রেতা। এ প্রসঙ্গে বিআইবিএম’র অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী বলেন, সরকারের তাগিদ অবকাঠামো খাতে প্রচুর বিনিয়োগের। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাইলে ব্যাংকের যে ডিপোজিট আছে, তার মেয়াদ স্বল্পকালীন। সেই অর্থ দিয়ে আমরা কখনই এসব ক্ষেত্রে বেশি করে বিনিয়োগ করতে পারব না। এক্ষেত্রে আমরা যদি বন্ড ইস্যু করে দীর্ঘকালীন ফান্ড গ্রহণ করি, সেটা আমরা চমৎকারভাবে ব্যবহার করতে পারব।

বন্ড মার্কেট নিয়ে দেশে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই। আর এ কারণে বন্ড মার্কেট বড় হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মূলধন সংগ্রহে ব্যাংক ঋণের ওপর কোম্পানিগুলোর অতি বেশি নির্ভরতার কারণে এই বাজার বড় হয়নি। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বন্ড মার্কেটের বিকল্প আর কিছই নেই। টাকার অঙ্কে বন্ডের ইউনিট ছোট ও পুঁজিবাজারে লেনদেনযোগ্য হলে বিপুল অর্থের বিনিয়োগ আসবে বন্ড মার্কেটে। কারণ বন্ড হচ্ছে এক ধরনের ঋণ চুক্তিপত্র। যার মাধ্যমে কোন কোম্পানি মূলধন ঘাটতি পূরণে অন্য পক্ষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি রয়েছে বন্ড মার্কেটের শক্ত অবস্থান। বড় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সরকারও বন্ড ছাড়ে। আর বন্ডে নির্ধারিত হারে সুদ পাওয়া যায় বলে সাধারণ শেয়ারের তুলনায় এতে বিনিয়োগ ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক শাহজাহান মিনা বলেন, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই কোন বন্ড মার্কেট সেভাবে গড়ে ওঠেনি। যেসব পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির অনুমতি দিচ্ছি তারা কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। তবে এই ঋণের প্রয়োজন হতো না, যদি একই সঙ্গে বন্ড ইস্যু করার কথা বলা হতো।

বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোঃ খুরশিদ আলমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কর্ম-কমিটি গঠন করা হয়েছে গত জুন মাসে। ওই কমিটিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই কমিটি সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এছাড়া এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবার বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ করার কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা আর্থিক খাতে কোন ধরনের বন্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বন্ডের বাজার সম্প্রসারণে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সেসব প্রতিবন্ধকতা কিভাবে দূর করা যাবে তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন কোন বন্ড ব্যবস্থাপনায় কোন কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদারকি করবে, সে বিষয়টিও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত