প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হল ফিরে পেতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

জবি প্রতিনিধি: [২] ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের নিকট দখলে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ‘তিব্বত হল’সহ বাকি ১১টি হল ফিরে পেতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসের ভিতর বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

[৩] এসময় তারা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বেদখলকৃত হল উদ্ধারের দাবি জানায়। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

[৪] জানা যায়, ৭১ এর স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পাটুয়াটুলীর ওয়াইজঘাট ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেইনের তিব্বত হলে আবাসিক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করায় ১৯৮৫ সালে হল ছাড়তে হয় তাদের। পরে ২০০১ সালে হলটি দখল করে হাজী সেলিম অবকাঠামো পরিবর্তন করে দোকান হিসাবে পজিশন বিক্রি করে দেয়। সেসময় হলটির নাম পরিবর্তন করে স্ত্রীর নামে ‘গুলশান আরা সিটি’ মার্কেট করেন সেলিম।

[৫] হলটি হাজী সেলিমের থেকে দখলমুক্ত করতে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তিব্বত হল আমাদের হলেও হাজী সেলিম দখল করে রেখেছে। হল থাকতে আমরা কেন মেসে থাকব। সরকারের কাছে দাবি জানায় আমাদের হল আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক, না হলে আমরা ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করব।

[৬] বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম মিশু বলেন, আগামী এক যুগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নতুন ক্যাম্পাসের কথা বলা হচ্ছে সেটা কবে হবে তার ঠিক নেই। হল থাকতেও কেন আমরা অনাবাসিক থাকব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা হলগুলো ফিরে পেতে চাই। ভূমিদস্যু হাজী সেলিমের থেকে যতদিন না আমরা হল উদ্ধার করতে পারব ততদিন আমাদের কর্মসূচি চলবে।

[৭] তৌসিব সোহান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে হল হাজী সেলিম দখল করে রেখেছেন সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবিলম্বে যেন উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়। ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলাব। আর ভূমিদস্যু হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।

[৮] উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৪ ও ২০১৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলটি দখলমুক্ত করতে ‘ঘেরাও কর্মসূচি’ করতে গেলে হাজী সেলিমের সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে এবং পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলি করে। ঐদিন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন গুলিবিদ্ধসহ তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। গত সোমবার ঢাকা -৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাসায় র‌্যাব অভিযান চালানোর পর তার দখলকৃত তিব্বত হলের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। শিক্ষার্থীরা বেদখলকৃত হল উদ্ধার আন্দোলনের ডাক দেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত