শিরোনাম
◈ হরমুজ প্রণালী নিয়ে পাল্টাপাল্টি ব্ক্তব্য, কোন পথে সমাধান ◈ গভীর রাতে লাইভ: সংসদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ (ভিডিও) ◈ ৬০ হাজার টন ডিজেল আসছে মালয়েশিয়া থেকে ◈ বৈশাখে ইলিশ আকাশছোঁয়া, সবজিতেও আগুন: মধ্যবিত্তের পান্তা-ইলিশ এখন স্বপ্ন ◈ সাতটি আইডি দিয়ে ছড়ানো হয় ভিডিও, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন রাজনৈতিক দলের নেতা ◈ মাত্র এক ইঞ্চি দূরে থাকা চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়: আরাগচি ◈ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭ ◈ প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে থাকছে সুড়ঙ্গ ও টানেল যা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে পরিবারকে সুরক্ষা দেবে ◈ ইরানে নতুন করে হামলার চিন্তা ট্রাম্পের, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ◈ আবারও রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন টনি ক্রুস

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৬:২৭ সকাল
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ০৬:২৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সবাই খুন : বেঁচে যাওয়া ৬ মাসের মারিয়া দুধ মনে করে নিহত মায়ের রক্ত খেয়েছিলো

ডেস্ক রিপোর্ট : মা, বাবা, ভাই, বোন সবাইকে খুন করলেও শিশু মারিয়াকে খুন না করার কারণ বর্ণনা দিয়েছে নিহতের ভাই খুনি রাহানুর রহমান। খাওয়ার খোটা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে রাহানুর তার বড় ভাই, ভাবি, ভাইপো ও ভাতিজিকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বড় ভাই শাহিনুরসহ পরিবারের ৪ সদস্যকে চাপাতি দিয়ে একাই হত্যা করে সে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে। রাহানুরের আঙ্গুলের ছাপ ও উদ্ধারকৃত আলামতের ছাপ মিলে যাওয়ায় তাকে এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাহানুরের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, রাহানুর বেকার ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় খাওয়ার খোটা দিয়ে তাকে ব্যাপক গালমন্দ করে ভাবী সাবিনা খাতুন। তখনই সে ভাবীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রাতে টিভি দেখার সময় বিদ্যুৎ বিল বেশি হবে বলে তাকে বকা দেয় বড় ভাই শাহিনুর। এ সময় সে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে সে কোমল পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভাই ও ভাবীকে খাওয়ায়। রাতে দরজা না দিয়ে বাইরের কলাপসিবল গেট লাগিয়ে শাহিনুরসহ পরিবারের সবাই ঘুমাতে যায়। রাতের শেষ ভাগে রাহানুর গাছ বেয়ে চিলে কোটা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে ঘুমন্ত ভাই ও ভাবীকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় ভাইপো সিয়াম ও ভাতিজি তাসনিম জেগে গেলে তাদেরকেও হত্যা করে। পরে সে চাপাতি পুকুরে ফেলে গোসল করে ঘুমাতে যায়। তবে ‘৬ মাস বয়সী শিশু মারিয়া এ ঘটনা কাউকে জানাতে পারবে না’ বলে তাকে হত্যা করেনি বলে জানায় সে।

 

শিশু মারিয়া এখন কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর নাসিমা খাতুনের কাছে রয়েছে।

নাসিমা খাতুন বলেন, ‘নিজের সন্তানের মতো করে তাকে লালন করছি। ঘটনার দিন মায়ের পাশে থাকার কারণে সে রক্তাক্ত ছিল। সম্ভবত সে দুধ মনে করে রক্ত খেয়েছিল। যে কারণে কয়েকদিন তার পেটে সমস্যা ছিল। এখন সুস্থ। খেলা করে, হাসে। ক্ষুধা পেলে খাওয়ার জন্য ইঙ্গিত দেয়। আমি তার ভাষা বুঝে নিয়েছি। সবার দোয়ায় তাকে আমি মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো।'

তিনি আরো বলেন, শিশুটি রাতে ঘুমের মধ্যে কাতরে উঠে। আমি তাকে বুকের উপরে রাখি বলে সেই কান্না অনুভূতি বুঝতে পারি। কান্নার মধ্যে বোঝা যায় তার কষ্ট। ওই দিন রাতে সব কিছু তার সামনে ঘটেছে কিন্তু কিছুই বলতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন, মারিয়ার প্রতি আমার খুব মায়া বসে গেছে। যদি তার স্বজনরা তাকে নিয়ে যায়, আমি থাকতে পারবো না-বলেই কাঁদতে থাকেন।

 

 

 

রাহানুরের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, ভাই-ভাবীকে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও বাচ্চাদের হত্যার পরিকল্পনা তার ছিল না তার। তারা জেগে চিৎকার করতে থাকে বলে তাদের হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে সে একাই ছিল। মারিয়া শিশু হওয়ায় তাকে কোমল পানীয় পান করানো হয়নি। ‘৬ মাস বয়সী শিশু মারিয়া এ ঘটনা কাউকে জানাতে পারবে না’ বলে তাকে হত্যা করা হয়নি বলে জানায় সে।

সিআইডি সাতক্ষীরা অফিসের বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, আমার চাকরি জীবনে এই রকম অপরাধী আগে কখনো দেখিনি। এ ঘটনার পর দুই দিন সে ঘুমায়নি। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বাভাবিক। সে কোনওভাবে বুঝতে দেয়নি এই বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে এবং ক্লু নষ্ট করার সবোর্চ্চ চেষ্টা করেছে।
সূত্র- কালেরকণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়