শিরোনাম
◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী ◈ প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে ‘যৌক্তিক’ দাবি করা সেই এএসআই প্রত্যাহার ◈ এলপিজির নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নজরদারির নির্দেশ ◈ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি, চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবৃদ্ধি ◈ কাশ্মীরে ৬০০ ‘বাংলাদেশি’ শনাক্তের দাবি ভারতের, ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে ‘পুশ ইন’ প্রস্তুতি! ◈ প‌থে থাকা ২০ লাখ শিশু নেই সরকারের খাতায় ◈ ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়া চ‌্যা‌ম্পিয়ন ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনে দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, তারেক রহমানকে দিল্লি নিতে ভারতের তৎপরতা! ◈ ‌ফ্রা‌ন্সের বা‌জিমাত, ১৪ মিনিটে বেল‌জিয়াম‌কে দি‌লো চার গোল ◈ বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বন্ধের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে লাওস

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ০৯:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাদিয়া নাসরিন: জীবন যে গড়তে জানে, সে মৃত্যুকে গড়তে জানবে না এও হয় নাকি !

সাদিয়া নাসরিন: ইদানিং একটা কথা প্রায়ই মনে হতো, "একটা জীবন অপচয় হয়ে গেলো!"। কাল শেষ রাতে, বারান্দায় বসেছিলাম। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস, চোখের সামনে বেশ অনেকগুলো রঙ বেরঙ এর ফুল। চন্দ্রমল্লিকার ঝোপ আর ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ পাশে নিয়ে বিবশ করা ভালোলাগায় ডুবে গিয়ে আমি চুপচাপ নিজের জীবনটা দেখছিলাম।

হঠাৎ মনে হলো কী ভয়ংকর অসত্যকে উচ্চারণ করতে শুরু করেছি এতোদিন আমি!! আমার এই জীবনের চারপাশে ফুল ফোটানো। এই জীবনের কোথাও অর্ধসত্য নেই তো! যা আছে তার পুরোটাই সত্য, পুরোটাই সুন্দর, পুরোটাই পূর্ণ। "ছুটিনি মোহন মরীচিকা পিছে, ভুলাইনি মন সত্যেরে করি মিছে"।

একটা জীবন নিজের ইচ্ছায়, নিজের মতো করে, নিজের স্বাধীনতায়, ইচ্ছা বিলাসে কাটিয়ে দিতে পেরেছি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপোষ করতে হয়নি কখনো। জীবনকে এরকম করে কয়জনই বা যাপন করতে পারে!!! কী অমূল্য এই জীবন আমার!

ভুল টুল অনেকই আছে এই জীবনে, কিন্তু তার জন্য রিগ্রেট নেই। কতোজন কতো কথা বলেছে! আমার কেশাগ্র স্পর্ষও করেনি সেসব। বরং জীবনকে উলটে পালটে দেখেছি যখন মন চেয়েছে। নাড়াচাড়া করতে গিয়ে হরদম 'ব্লু-হোয়েল' নামক জুয়া খেলেছি এই জীবনকেই বাজি রেখে।

মরেছিও বহুবার। এই মরাতে সুখ আছে। যতোবার মরেছি নিজের ইন্সট্রাকশনেই মরেছি। অন্যের ইন্সট্রাকশনে বাঁচার চেয়ে নিজের মতো করে মরা অনেক স্বস্তির। সেই স্বস্তি আমি সারাজীবন পেয়েছি। যতোটুকু মরেছি, বেঁচে ওঠেছি তার চেয়েও বেশি করে। সেই বাঁচাও নিজের ইন্সস্ট্রাকশনেই। যেনোতেনো বাঁচা নয়, প্রাণপনে বাঁচা।

বাঁচতে বাঁচতে জেনেছি এই জীবন আমার। বাঁচতে জানলে, এই জীবন জুয়ার চ্যালেঞ্জ কিছুইনা। বুঝেছি, ভুলের সাথে কানামাছি খেলে জীবনের কাছে ফিরে আসার নামই "আমি"... "সাদিয়া"।

কয়েকদিন আগে Yeaseer, আমার ভাইটা, বললো, “আপু, এতো সুন্দর, এতো রঙীন জীবন তোমার, এবার মৃত্যুকে রাঙানোর আয়োজন শুরু করো। মৃত্যুর চেয়ে মিষ্টি আর কিছু নেই। ওর জন্য এমন প্রস্তুতি দরকার যেন ঐ মূহুর্তে এমন বোধ আসে মনে যেন জামা পাল্টাচ্ছো। সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করো আপু, নিজের মধ্যে ঢুকে যাও”।

ইয়াসিরের এই কথাগুলো মোহগ্রস্থ করে রেখেছে আমাকে এই কয়দিন। নেশা নেশা লাগছে। মৃত্যুকে রাঙাতে হবে। ধন ধান্য পুষ্পে ভরা একটা জীবন তো উদযাপন করলাম। এবার মৃত্যুকে উদযাপনের যোগ শুরু করতে হবে। মহাজীবনের পথ চিনে নিতে হবে। অনেক আয়োজন তার। অনেক কাজ।

পারবো আমি? পারতে তো হবেই। জীবন যে গড়তে জানে, সে মৃত্যুকে গড়তে জানবে না এও হয় নাকি !! ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ