প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কানাডা-ইউরোপে চাকরি দেয়ার নামে পতারণার অভিযোগে মিরপুরে ভিসা গাইড সেন্টার সিলগালা

পতারণার

সুজন কৈরী : [২] ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কানাডা, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ‘ভিসা গাইড সেন্টার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত দুই বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, পরামর্শক, কাউন্সিলর এবং আইটি স্পেশালিস্টকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।

[৩] প্রতারণার শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বেলা ২টা থেকে রাজধানীর মিরপুর শাহআলী মার্কেটে ৯ম তলায় অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

[৪] আদালতের নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ভিসা গাইড সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ গমনেচ্ছুকদের কানাডা, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের ভুয়া ভিসা, ওয়ার্ক পার্মিট দিয়ে অবৈধ পথে বিদেশে পাঠায়। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির রিক্রুমেন্ট লাইসেন্স নেই, বিদেশি কোম্পানিতে কাজের জন্য ডিমান্ড লেটার প্রয়োজন হলেও তা নেই। বিদেশে লোক পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও নেই। এরপরও তারা অসদুপায়ে বিভিন্ন কোম্পানির নামে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরি করে বিদেশ গমনেচ্ছুদের হাতে দেয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কোর টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযানকালেও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখ টাকা নিয়েছে।

[৫] শুধু ভিসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হলেও অনুমোদন না নিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করতো। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে বিদেশ গমনেচ্ছুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা প্রথমে বলেন, ভিসা করার আগ পর্যন্ত কোনো টাকা লাগবে না। কিন্তু যখন তারা ভিসা সেন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করে, তখন তারা কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করেন, মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখান। প্রথমে তারা বলেন, আপনার ভিসা সাবমিট করা হয়েছে আপনি আপাতত ২৫০ ডলার দেন। এরপর মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা বাবদ ১০ হাজার করে টাকা নেন।

[৬] এরপর কানাডা, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে গত দুই বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। চলতি বছরই প্রায় আড়াই হাজার লোকের কাছ থেকে কয়েক ধাপে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, বিদেশ যাওয়ার জন্য মেডিকেল পরীক্ষার নামে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। গত বছর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। প্রতিদিনই বিদেশ গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

[৭] র‌্যাবের এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ভুক্তভোগীদের অনেকে ভুয়া ভিসা নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। পরে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি, কখনো অস্ত্রের মুখে অথবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ কর্মকর্তারা।

[৮] পলাশ কুমার বসু বলেন, প্রতিষ্ঠানটি একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ মূলত বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়া। কিন্তু সেই জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে এসে অনুমোদন না নিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে প্রতারণা করছিল। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ গমনেচ্ছুদের কানাডা, জাপান, ফিজি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনের চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর সারাদেশে তাদের দালালদের মাধ্যমে বিদেশ গমনেচ্ছুদের যোগাযোগ করতে বলতো।

[৯] তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা বাবদ নেয়া ১০ হাজার টাকার মধ্যে তিনি মাত্র এক হাজার টাকায় শেওড়াপাড়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করান। এরপর ফাইল সাবমিট হলে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার, মন্ত্রণালয় অ্যাটাস্টেট বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা, এরপর ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখিয়ে আরও ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার নিতেন। আবার কখনো কানাডা বা জাপান দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্সের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেন। এভাবে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা পর্যন্ত একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

[১০] ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু বলেন, দায় স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সিএস আফিস এবং এমডি মোশারফ হোসেনকে অভিবাসী আইনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অফিসের কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম ও আইটি স্পেশালিস্ট সুজন রনিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সিলগালা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিও।

[১১] পলাশ বসু বলেন, অভিযানকালে প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালেই তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করেছি। আরও যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক মাসের মধ্যে তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত