প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মানিকগঞ্জে তিতাস কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের উদাসিনতায় অপচয় হচ্ছে গ্যাস

সোহেল হোসাইন: [২] মানিকগঞ্জের তিতাস গ্যাস অফিস কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের উদাসিনতায় রাষ্ট্রীয় জ্বালানী সম্পদ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে বড় ধরণের দুর্ঘটনার পরেও গ্যাস নিয়ে এমন উদাসিনতার কারণে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। একাধিক আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সংযোগের রাইজার দিয়ে অনবরত গ্যাস বেরুলেও কোনো সচেতনতা নেই সাধারণ গ্রাহকদের। রাইজার ক্রটির বিষয়টি অজানা থাকার কারণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে বলে দাবি গ্যাস কর্তৃপক্ষের।

[৩] মানিকগঞ্জ গ্যাস অফিসের আওতাধীন এলাকা হচ্ছে ধামরাই উপজেলার ইসলামপুর থেকে মানিকগঞ্জের আরিচা ঘাট পর্যন্ত। আর এই এলাকায় আবাসিক গ্যাসের গ্রাহক রয়েছে ১২ হাজারের বেশি। গ্যাসের অভাবে নাকাল মানিকগঞ্জবাসী। আর সেই এলাকাতেই আবাসিক অনেক গ্রাহকের সংযোগের রাইজার দিয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই বেরুচ্ছে গ্যাস। বিষয়টি জানা সত্বেও অনেক গ্রাহক অনিহা করে ত্রুটির বিষয়টি অবগত করেনি গ্যাস অফিসকে। ফলে একদিকে রাইজারের মাধ্যমে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে অপরদিকে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিপূর্ণ এই গ্যাস সংযোগগুলো মেরামতের দাবি জানান এলাকাবাসী।

[৪] মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়রা এলাকার বাসন্দিা মাহতাব মিয়া। তার বাসার রাইজার সংযোগ দিয়ে অনবরত গ্যাস বেরুচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার মত্ত এলাকার সিরাজুল ইসলামসহ আরও বেশকয়েক জন গ্রাহকের আবাসিক গ্যাস সংযোগের রাইজার দিয়েও গ্যাস বেরুচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলমান থাকলেও তিতাস গ্যাস অফিসে কোনো সাধারণ গ্রাহকই অভিযোগ করেননি।

[৫] মত্ত এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় সাত মাস ধরে তার সংযোগের রাইজার দিয়ে গ্যাস বের হলেও অলসতার কারণে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে দ্রুতই তিনি এই বিষয়টি গ্রাস অফিসকে অবগত করবেন বলে জানান তিনি।

[৬] নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই এলাকার আরেক প্রতিবেশী বলেন, চলাচলের প্রধান সড়কের পাশেই তার (সিরাজুল ইসলাম) গ্যাস সংযোগ। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী নতুন কোন পথচারি গেলে গ্যাস বের হওয়ার শব্দে চমকে উঠবে। বড় ধরণের দুর্ঘনার এড়াতে সিরাজুল ইসলামসহ ওই এলাকার আরও অনেকেরই গ্যাস সংযোগ রাইজারের বিষয়টি একাধিকবার জানালেও কোনো গুরুত্ব নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

[৭] মানিকগঞ্জ পৌরসভার জয়রা এলাকার বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন বলেন, বন্যার পানিতে তার বাড়ির গ্যাসের সংযোগ ডুবে যায়। এরপর পানি কমে যাওয়ার পর থেকেই তার গ্যাস সংযোগের রাইজার দিয়ে গ্যাস বের হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি তিনি তিতাস গ্যাস অফিসকে জানাবেন।

[৮] মানিকগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপক ইঞ্জনিয়ার আতিকুল হক জানান, বিশাল এলাকা নিয়ে মানিকগঞ্জ গ্যাস অফিস। এই অফিসের আওতায়ধীন ১২ হাজারের কিছু বেশি পরিমানে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। কোনো গ্রাহকের সংযোগে কোন সমস্যা হলে অফিসে বসে বুঝার উপায় নেই। তবে রাইজার দিয়ে গ্যাস বের হওয়া ছাড়াও গ্রাহকের অন্য যে কোন বিষয়ে অভিযোগ থাকলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় বলেও জানান তিতাসের এই কর্মকর্ত। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত