প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, ময়মনসিংহের পাঁচ গ্রামবাসী পানিবন্দি

ডেস্ক রিপোর্ট: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনীলক্ষ্মীয়া ইউনিয়নে চিরনখালী ও কাঁটাখালী খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে এবং ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ করে চলছে মাছ চাষ। এতে চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের বাজিতপুর, বড়বিলা ও আলালপুর, চরনিলক্ষ্মীয়া ইউনিয়নের রশিদপুর এবং তারাকান্দা উপজেলার পুটামারা গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন পাঁচ গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া রশিদপুরে বাউশী বিলের পুরোটাই প্রভাবশালীরা দখল করে মাছের খামার গড়ে তুলছেন।

তিন মাস ধরে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকলেও সম্প্রতি এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামগুলোর অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খালের মুখ বন্ধ থাকায়নিস্কাশনের বিকল্প কোনো পথও নেই। এলাকার অনেক পরিবার এখন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে থাকার কারণে অনেকে পানিবাহিত রোগসহ নানা রোগে ভুগছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই পাঁচ গ্রামের পানি খাল ও বাউশী বিল হয়ে তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে নামত। কিন্তু অবৈধভাবে জায়গায় জায়গায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রামবাসীর কয়েকজন জানান, আট বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় পড়তে হয় তাদের। কিন্তু এ সমস্যা সমধানে কেউ আজও উদ্যোগী হয়নি।

আলালপুর গ্রামের গৃহিণী জরিনা খাতুন বলেন, পানির কারণে তার ঘরে চুলাও জ্বলে না। দ্রুত ওই অবস্থার পরিত্রাণ চান তিনি। আরেক বাসিন্দা আশরাফ আলী জানান, ফসলি জমি, খাল সব জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ হচ্ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রশিদপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা তিন মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি এ অবস্থায় গ্রামের কেউ মারা গেলে কবর দেওয়ারও জায়গা নেই।

সদর উপজেলার চরনীলক্ষ্মীয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম রতন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। কিছু মৎস্য খামারি অবৈধভাবে খালের মুখগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ওই মহলটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্রুতই খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরার জন্য খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিলটি দখলে চলে যাওয়ায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। বাঁধের কারণে পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই সমস্যা নিরসনে কাজ করছেন। এ ছাড়া যাদের কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে তাদের চিহ্নিহ্নত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে রশিদপুর গ্রামের ফিশারি মালিক সুরুজ মিয়া জানান, তিনি তিন একর জায়গায় মাছ চাষ করছেন। শুধু এ কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি।

আরেক ফিশারি মালিক বাবুল মিয়া বলেন, ফিশারির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক নয়। কাটাখালী খাল সরু হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় ওই অবস্থা। তবে খালটি খনন করা হলে গ্রামবাসীর এই কষ্ট থাকবে না বলে জানান তিনি।

সূত্র : সমকাল

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত