প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনিস আলমগীর: নবীদের ছাড়া সাধারণ মানুষের অনেক ভুলত্রুটি থাকে, আহমদ শফী সাহেবেরও হয়তো অনেক ভুল ছিলো

আনিস আলমগীর: হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একজন ওলী-আল্লাহর তিরোধান হয়েছে। তিনি একজন দ্বীনদার মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মার অপূরণীয় ক্ষতি হলো। ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার দুপুরে অসুস্থ অবস্থায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনার পর সন্ধ্যে ৬ টায় একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘ ৭০ বছর তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছেন। ত্রিশ বছর ধরে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান ছিলেন। তার আগে সেখানে সাধারণ শিক্ষক ছিলেন।
আল্লামা শফী ওই মাদ্রাসাটির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। সরকার মাদ্রাসার পাশে রেলওয়ের পতিত জমি তার মাধ্যমে হাটহাজারী মাদ্রাসাকে লিজ দিয়েছে। তিনি রাজাকার ছিলেন না, অসৎ ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ কিংবা চারিত্রিক দোষের কথাও আমি শুনিনি কোনোদিন।

নিজের মাদ্রাসায় অনুগত লোকদের দ্বারা অপমানিত হয়ে বেঁচে থাকার থেকে আল্লাহর কাছে চলে যাওয়াই উত্তম। তিনি শতায়ু পেয়েছেন। কয়জন এতো দীর্ঘ হায়াত পেয়ে থাকেন। সমাজের সবাই আমরা একইরকম শিক্ষায় শিক্ষিত হব, একই রকম মতাদর্শের হবোÑ সেটি কখনো কামনা করি না। এই পৃথিবীতে নবীদের ছাড়া সাধারণ মানুষের ভুলত্রুটি অনেক থাকে। শফী সাহেবেরও হয়তো অনেক ভুল ছিল। ভুল থাকা বিচিত্র নয়। কিন্তু উনার গুণাবলী যা ছিলো সাধারণ মানুষের নেই। তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে আনার জন্য পরিশ্রম করেছেন। তার বিশ^াসের প্রতি অনুগত ছিলেন।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েত আল্লামা শফী সাহেবের একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি সভাতে যাননি বা যেতে পারেননি। সমাজে মাহমুদুর রহমান, ফরহাদ মজহারদের মতো ক্রিমিনালরা হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর মতো রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের হাত করে শাপলা চত্বরের আয়োজন করেছিলো, রাজাকারদের বিচার বানচাল করার জন্য,গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে।
আবার প্রায় ১৪ হাজার কওমি মাদ্রাসার ১৪ লাখ ছাত্রের শিক্ষাকে রাষ্ট্রের মূল স্রোতে আনার জন্য শফী সাহেব যখন সরকারকে সহযোগিতা করেছেন-মাহমুদুর-মজহাররা শফী সাহেবকে মন্দ কথা বলে কলাম লিখেছেন। তাদের মতলব আরও প্রকাশ্য করেছেন। বাবুনগরী নামের আরেক হুজুর আল্লামা শফী সাহেবের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত খারাপ আচরণ করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরাজনৈতিক থাকাই উত্তম। হাটহাজারী মাদ্রাসায় কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসী ব্যক্তি থাকলে তাদের সবাইকে বিদায় করে প্রতিষ্ঠানটিকে তার মতো চলতে দেওয়া উচিত সরকারের। আল্লামা শফীর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত