শিরোনাম
◈ ইরান সরকার পতনে বিশ্ববাসীর সহায়তা চাইলেন রেজা পাহলভি ◈ গ্রিনল্যান্ড দখলে মরিয়া ট্রাম্প: বিরোধিতা করলে নতুনভাবে শুল্ক আরোপের হুমকি ◈ পিএসএলভি ব্যর্থতায় ধাক্কা, মহাকাশ মিশনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে ভারত ◈ জামায়াত আমিরের ‘রহস্যময়’ পোস্ট! ◈ বাংলাদেশকে যে সুখবর দিয়েছে কুয়েত সরকার ◈ ১৩তম সংসদ নির্বাচন: বিএনপির দাবির পর পোস্টাল ব্যালটের নকশা বদলাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ◈ নির্বাচনি ইশতেহার: প্রতিশ্রুতির কাগজ, নাকি জবাবদিহিতার হাতিয়ার? ◈ হাড্ডাহা‌ড্ডি লড়াই‌য়ে সিলেট টাইটান্স‌কে হারিয়ে ‌বি‌পিএ‌লের কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ◈ মির্জা ফখরুলকে দেখেই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ ১০ দলীয় জোটে ভাঙন: ইসলামী আন্দোলন সরে দাঁড়ানোয় ৪৭ আসনে সমঝোতার নতুন হিসাব

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৬:১৮ সকাল
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৬:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাবলু ভট্টাচার্য্য: জন্মদিনে স্মরণ, কবি বিনয় মজুমদার

বাবলু ভট্টাচার্য্য: ‘পারাবত, বৃক্ষচূড়া থেকে পতন হলেও/তুমি আঘাত পাওনা, উড়ে যাবে/প্রাচীন চিত্রের মতো চিরস্থায়ী হাসি নিয়ে তুমি চলে যাবে/ ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় স্তব্ধ হব আমি।’
পঞ্চাশের দশকের এক কবির মুখে এরকম বাণী নিশ্চিতভাবেই কবিতার জগতে আলাদা জায়গা করে নেয়, তাঁর গুনমুগ্ধ পাঠক, সমালোচক আকর্ষিত হয়েছিলেন বিনয় মজুমদারে। কবিতাটি ‘তোমরা’ থেকে ‘তুমি’-তে নেমে আসে। বেদনার সহজ অনুরণন। ভাবতে হয় এখানেও। বেদনা-ই বিনয় মজুমদারকে আক্রান্ত করে আর ওই বেদনার জোরেই ভালোবাসা প্রাণ পায় দ্বিগুণ। ‘তুমি’-তে নেমে এসে এখানে ফের বলা হয়েছে, ‘গ্রহণে সক্ষম নও।’
ভালোবাসা যাকে তিনি দিতে চান সে যে কেন তা গ্রহণে সক্ষম নয় ইঙ্গিতটি অল্প বোঝা যায় শেষে এসে। বিনয় মজুমদার এবং দুঃখ মাঝে মাঝে পরিপূরক মনে হয়। বিনয় মজুমদারের মধ্যে দুঃখ কিংবা দুঃখের মধ্যে বিনয়।
কবি বিনয় মজুমদারর বাবার নাম বিপিনবিহারী মজুমদার। মায়ের নাম বিনোদিনী। তাঁরা ছিলেন ছয় ভাই-বোন এবং তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর ডাক নাম মংটু। ১৯৪২ সালে তাকে বাংলাদেশের একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি প্রথম বিভাগে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় পাশ করেন। ১৯৪৬ সালে তাকে বৌলতলী উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়।
১৯৪৮ সালে দেশভাগের সময় তাঁরা সপরিবারে ভারতের কলকাতায় চলে যান। এখানে, ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট (বউবাজার ব্রাঞ্চ)-এ নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হবার পরে, ১৯৫১ সালে আইএসসি (গণিত) পড়ার জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে তিনি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে পাশ করেন।
একজন বিশিষ্ট কবি ছাড়াও ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে, অর্থাৎ ছাত্রজীবন সমাপ্ত হবার কয়েকমাস পরেই এনবিএ থেকে প্রকাশিত হয় ‘অতীতের পৃথিবী’ নামক একটি অনুবাদ গ্রন্থ। এই বছরেই গ্রন্থজগৎ থেকে বের হয় তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘নক্ষত্রের আলোয়’। তিনি মোট বিশটি কাছাকাছি কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন। যার মধ্যে ‘ফিরে এসো চাকা’ তাঁকে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি দিয়েছে।
২০০৫ সালের মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কবি বিনয় মজুমদারকে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ প্রদান করেন। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকারের ‘সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার’ অর্জন করেন তিনি। এছাড়া ‘কবিতীর্থ পুরস্কার’, ‘সুধীন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার’, যামিনীভূষণ স্মৃতি ‘যমুনা-মতি’ পুরস্কার, পোয়েট্রি ফাউন্ডেশন পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কবি বিনয় মজুমদার।
বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত একমাত্র গণিত-প্রভাবিত দার্শনিক কবি বিনয় মজুমদার। তিনি লোকান্তরিত হয়েছেন ১১ ডিসেম্বর, ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে। প্রয়াণের পর থেকেই তিনি সাহিত্য বোদ্ধামহলে ব্যাপক আলোচিত, সমালোচিত, আদ্রিত ও আশ্রিত হয়েছেন এবং এ ধারা ক্রমবহমান।
কবি বিনয় মজুমদার ১৯৩৪ সালের আজকের দিনে (১৭ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের মিকটিলা জেলার তেডো নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ফেসবুক থেকে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়