প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রামে র‌্যাব’র পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক-৩

রাজু চৌধুরী: [২] চটগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া ও চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানা এলাকায় র‌্যাব-৭ এর সাঁড়াশি অভিযানে আনুমানিক ২,৬৫,১৩০ পিস ইয়াবাসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

[৩] র‌্যাব-৭, সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সংযোগ সড়কের পাশে আহাদ কনভেনশন হলের পাশে মেসার্স সৌরভ এন্টার প্রাইজ এর সামনে পাকা রাস্তার উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে।

[৪] গাড়ি তল্লাশি কালে ট্রাক থেকে নেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা, মো. জমির উদ্দিন (৩৬), পিতা- রশিদ আহম্মদ এবং ২। মোঃ রমজান আলী (২৫), পিতা- নুরুল হক উভয়ই থানা- রামু, জেলা- কক্সবাজারকে আটক করে। সিটের পিছনে ক্যাবিনে সু-কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১০ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের আনুমানিক ১,০০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ উক্ত ট্রাকটি জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য যে আসামি মো. জমির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার রামু থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে ০৪ টি মামলা রয়েছে।

[৫] অপর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে মো. কামরুজ্জামান (৩০), পিতা- নুরুল হক, মাতা- ছেনোয়ারা বেগম, সাং-ছুন্নাপাড়া, ৩নং ওয়ার্ড, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম’কে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন গহিরা দোভাষীর বাজারের খাজা আরশাদুজ্জামান স্টোর থেকে আটক করা হয়। তবে উক্ত সময় ২ জন আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

[৬] গ্রেফতারকৃত আসামীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন গহিরা দোভাষীর বাজারস্থ শাহজালাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এর পশ্চিম পাশের একটি ভাড়া করা গোডাউন এর ভিতর কার্টুনে রক্ষিত পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ৪০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে পলাতক আসামি মো. সরওয়ার আলম (৪১), পিতা- আব্দুল মোমেন, পলাতক আসামি সরওয়ার আলম এর বাড়ীর দোচালা টিনের ঘরের পূর্ব পাশের চালের উপর ড্রামের ভিতর হতে ধৃত আসামি মো. কামরুজ্জামান (৩০) এর দেখানো ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে ১,২৫,১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

[৭] দীর্ঘ ২২ ঘন্টা ব্যাপী অভিযানে মোট ১,৬৫,১৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত আসামী মো. কামরুজ্জামান (৩০) দীর্ঘদিন যাবত পলাতক আসামি মো. ইদ্রিস (৩০), পিতা- আবুল হোসেন, সাং দোভাষীরহাট, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম এর সহায়তায় মায়ানমার হতে সাগর পথে এবং আসামি মো. জমির উদ্দিন (৩৬) ও আসামি মো. রমজান আলী (২৫) কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে নানারকম অভিনব কৌশলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে।

[৮] উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৩ কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এবং আটককৃত ট্রাকের আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামি এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বাধিক পঠিত