প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাফুফে নির্বাচনে ঘুম হারাম প্রার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট : ভোটের লড়াইয়ে এক প্যানেল হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীদের ধারণা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে একতরফা নির্বাচন হবে। তরফদার মো. রুহুল আমিন প্রচারণা থেকে সরে যাওয়ায় সভাপতি পদে কাজী সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আবদুস সালাম মুর্শেদী ছাড়া অন্য কারোর নাম শোনা যাচ্ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার হয়ে গেলে সেই নির্বাচনে কোনো আকর্ষণ থাকে কি? না শেষ পর্যন্ত কেউ ফাঁকা মাঠে পার হচ্ছেন না। ২১টি পদেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এখন কেউ যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করে লড়াই হবে জমজমাট। বাফুফের নির্বাহী কমিটির ২১ পদের জন্য ৪৯ জন প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

নির্বাচন আরও উপভোগ্য হতো যদি সভাপতি পদে তরফদার নির্বাচন করতেন। কী কারণে তিনি যে হঠাৎ করে প্রচারণা বন্ধ করে নির্বাচন থেকে সরে গেলেন তা রহস্যময়। তারপরও সভাপতি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নাম প্রত্যাহার না হলে এবারই প্রথম সভাপতি পদে তিন প্রার্থী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। সালাউদ্দিন এক যুগ ধরে সভাপতি চেয়ারে বসে থাকলেও এবার তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তার বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন ফুটবলে খুবই পরিচিত মুখ বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক।

মানিকের মনোনয়নপত্র কেনাটা চমকই ছিল। তাছাড়া কোনো সময় নির্বাচনকে ঘিরে তার আগ্রহও ছিল না। বাদল কিন্তু অনেক আগে থেকেই বলে আসছিলেন ফুটবল বাঁচাতে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতেই হবে। যদি কেউ প্রার্থী না হন সালাউদ্দিন দাঁড়ালে তিনি তার বিরুদ্ধে লড়বেন। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থীও হয়েছেন। যদি কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ না করে তাহলে নির্বাচন করবেনই। আর মানিক যদি নাম প্রত্যাহার করে নেন সালাউদ্দিন না বাদল জিতবেন তা বলা মুশকিল। মানিক থাকলে সুবিধাটা হবে সালাউদ্দিনেরই। দুজনার মধ্যে ভোট কাটাকাটি হবে এ সুবিধায় সালাউদ্দিন বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
টানা এক যুগ ফুটবলের অভিভাবকের দায়িত্বে থাকলেও এ খেলার উন্নয়নের বদলে অবনতি হয়েছে এ মন্তব্য অনেকেরই। বাদল গত দুই মেয়াদে সালাউদ্দিনের প্যানেলে থাকলেও তাকে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় ফেডারেশনে এলেও তাকে স্টাফ দিয়ে অপমানের কথাও শোনা যায়। তাছাড়া বাদল স্পষ্টবাদী। যা বলেন সরাসরি বলেন। তিনি যে মেধাসম্পন্ন সংগঠক এ নিয়ে সংশয় নেই।

অন্যদিকে সালামও কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি। গতবার বিনা যুদ্ধে পার হয়ে গেলেও এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শেখ মো. আসলাম। যদিও আসলাম কখনো বড় পদে প্রার্থী হননি। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও সদস্যপদে বার বার জিতে এসেছেন। অতীতে চুন্নু ও হেলালদের মতো তারকা ফুটবলারকে হারিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেও এবার হিসেবটা ভিন্ন। অনেকের ভিতর ক্ষোভ বিরাজ করছে। যা বিস্ফোরণ হতে পারে নির্বাচনের দিনেই।

সহ-সভাপতি পদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পদ চারটি হলেও এই পদে প্রার্থী হয়েছেন আটজন। তবে নতুন মুখ হলেও বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানকে নিয়ে আলোচনাটাই বেশি হচ্ছে। সংগঠক হিসেবে তিনি যে সফল তা প্রমাণ করেছেন। পরীক্ষিত সংগঠক ফুটবলে আসুক কে না চায়। বিশেষ করে ফুটবলের দুঃসময়ে যোগ্য লোকের দরকার রয়েছে। তবুও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এ পদে। নাবিল আহমেদ, তাবিথ আউয়াল, মহিউদ্দিন আহমেদ বা আমিরুল ইসলাম বাবু ও মারুফ শক্তিশালী প্রার্থী। নির্বাচনী হাওয়া ইমরুলের অনুকূলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন চারজন যে বিজয়ীর হাসি হাসবেন বলা মুশকিল। ১৫ সদস্যপদে ৩৬ জন প্রার্থী। এখানে হারুনুর রশিদের মতো যেমন অভিজ্ঞ সংগঠক রয়েছেন। আছেন শওকত আলী খান জাহাঙ্গীরও। জনপ্রিয় ফুটবলাররাও লড়বেন। সুতরাং সবারই ঘুম হারাম। বিডি প্রতিদিন

সর্বাধিক পঠিত