প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হোসেনপুরে আমন খেতে স্বল্প খরচে আগাছা মুক্ত করছে কৃষক

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর প্রতিনিধি : [২] কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি আমনে কৃষকরা ধান খেতে আগাছা দমনে আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগ করে আগাছা নির্মূল করতে পারছেন।এতে ধান খেতের আগাছা পরিষ্কারে শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। ফলে স্বল্প খরচেই জমির আগাছা মুক্ত করতে পেরে বেজায় খুশি স্থানীয় কৃষকরা।

[৩] সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে ৮ হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।ধানখেতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য অধিক অর্থ দিয়েও কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধানখেতে আগাছার কারণে ধানের চারাগুলো স্বাভাবিকভাবে পরিপক্ক হতে পারে না। তাই কৃষক বিভিন্ন কোম্পানির আগাছা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করে খেতের আগাছা দমন করেন। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

অপরদিকে এক একর জমির আগাছা পরিষ্কার করতে ৫/৬ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে এক একর জমির আগাছা পরিষ্কার করতে কৃষকের ২ থেকে ২হাজার ৫‘শ টাকা প্রয়োজন হতো কিন্তু কৃষক বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ,যেমন: ইনতেফা কোম্পানির লুবাদা ১০০গ্রাম মূল্য ১৮০ টাকা, পেট্রোকেম কোম্পানির অল মিক্স ১০০ গ্রাম মূল্য ১৮০ টাকা, আলফা কোম্পানির সিরিয়াস ৭৫গ্রাম ২০০ টাকা, সিনজেনটা কোম্পানির লেজার ১০০গ্রাম ,এসিআই কোম্পানির সুপারপাওয়ার ১০০গ্রাম,সেমকো কোম্পানির সাথী ৮০ গ্রাম প্রভৃতি কোম্পানিগুলোর ওষুধ প্রয়োগ করলেই ধান ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এক একর জমিতে শ্রমিকের বাবদ খরচ যেখানে ২৫০০ টাকা ,সেখানেই ১৮০ টাকার আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করেই ওই জমির আগাছা পরিষ্কার করতে পারছেন কৃষক।ফলে কৃষকরা শ্রমিকের চেয়ে আগাছা নাশক ওষুধ জমিতে প্রয়োগ করে, আগাছা নির্মূল করতে পেরে ধানের উৎপাদন খরচ কমাতে পারছেন।

[৪] উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের কৃষক রোকনউদ্দিন, সিদলা গ্রামের মফিজউদ্দিন, আড়াইবাড়িয়া গ্রামের লোকমান সহ অনেকেই জানান, শ্রমিকের অভাবে আমরা ধানক্ষেতে আগাছা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করে অনেক সাশ্রয়ী হতে পারছি।

[৫] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল কায়েস জানান, সঠিক সময়ে ধান ক্ষেতে আগাছা নাশক ঔষধ প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে যে কোনো ধরনের বালাই নাশক ঔষধ পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকারক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সম্পাদনা : হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত