প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অনলাইন জুয়া ‘শিলং তীর’ ঢাকায়, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা চলে যায় ভারতে

সুজন কৈরী : [২] অনলাইন জুয়া ‘শিলং তীর’। সিলেট-নেত্রকোণা হয়ে এই জুয়া ছড়িয়েছে রাজধানীতেও। এক টাকায় লাভ ৮০ টাকা, টার্গেট নিম্ন আয়ের মানুষ।

[৩] ভারতের শিলংয়ে চালু হওয়া ইন্টারনেট জুয়া শিলং তীরে এ জড়িয়ে পড়ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। অল্প আয়ের মানুষকে মূল টার্গেট করে পুঁজি কম হওয়ার ফাঁদে ফেলে এজেন্টরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

[৪] এ জুয়া খেলার উৎপত্তি ভারতের শিলং-এ। খেলার সরঞ্জাম তীর। তাই নাম শিলং তীর। খেলা হয় অনলাইনে। এর ওয়েবসাইট ‘তীরটুডে ডটকম’। ১৯৯০ সালে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা শিলং ও গৌহাটিতে চালু হওয়ার পর খেলাটি সীমানা পেরিয়ে সিলেটের কিছু এলাকাতেও শুরু হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্রান্তে। সেখান থেকে পাশের নেত্রকোণা জেলা হয়ে এখন রাজধানীতেও ছড়িয়ে পড়ে।

[৫] গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দার বড়ুয়াপনা বাজারে অভিযান চালিয়ে এ অনলাইন জুয়া চক্রের চার বাংলাদেশী এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তার চারজন হলেন- মো. শামিম মিয়া (৩০), মো. আব্দুল আলী (৩১), মো. এরশাদ মিয়া (২৯) ও মো. সোহাগ মিয়া (২৭)। তাদের কাছ থেকে ৬টি মোবাইল, ১টি রেজিস্টার খাতা, ১-৯৯ পর্যন্ত নম্বর বিশিষ্ট ৪টি চার্ট সম্বলিত ব্যবহৃত শীট এবং ৫টি অব্যবহৃত চার্ট সম্বলিত শীট জব্দ করা হয়েছে।

[৬] গোয়েন্দা অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হক বলেন, ১৯৯০ সালে সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের শিলং ও গৌহাটি এলাকা থেকে চালু হওয়া এই জুয়া খেলাটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে। সিলেটের অনেককে সর্বশান্ত করে জুয়াটি বিস্তার করে নেত্রকোনা জেলায়। সেখান থেকে শিলং তীরের থাবা রাজধানীতে পরার তথ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে সোমবার কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে জুয়ার এজেন্ট শামিম ও আব্দুল আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে মঙ্গলবার বড়–য়াপনা বাজার থেকে অপর দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৭] গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ভারতের শিলংয়ের জুয়াড়ীরা বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ দেয়। এজেন্টরা আবার বিভিন্ন এলাকায় তাদের সেলসম্যান নিয়োগ করেন। এই সেলসম্যানদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের লোভ দেখিয়ে ভয়ানক শিলং তীর নামক জুয়ায় আসক্ত করে সর্বশান্ত করে। শিলং ভিত্তিক ওয়েবসাইট (WWW.TEERTODAY.COM) ব্যবহার করে সেখান থেকে পাওয়া তথ্যে ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত নম্বরগুলো বিক্রি করে। ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত নম্বরগুলো যারা কেনেন, তাদের সঙ্গে সেলসম্যানরা যোগাযোগ করেন। তখন জুয়াড়ীরা সেলসম্যানের কাছে নম্বর ও বিভিন্ন অংকের টাকা দেয়। সেলসম্যানরা বিক্রিত এই নম্বরের বিপরীতে টাকা এজেন্টের কাছে দেয়। ভারতের শিলংয়ে রোববার ছাড়া সপ্তাহের ৬দিন বাংলাদেশ সময় সোয়া ৪টায় এই জুয়া খেলার ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১ থেকে ৯৯ এর মধ্যে একটি নম্বর বিজয়ী হয়। যারা ওই নম্বরটি কেনেন, তারা বিজয়ী হিসেবে গণ্য হন এবং বিজয়ীরা নম্বরের ক্রয়মূল্যের ৮০ গুণ টাকা এজেন্টের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ জুয়াড়ীরা বিজয়ী হতে না পেরে তাদের পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। জুয়াড়ী, সেলসম্যান এবং এজেন্টের মধ্যে সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

[৮] তিনি আরও জানান, সেলসম্যানরা জুয়াড়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন রেখে বাকি টাকা ঢাকার এজেন্ট শামিম ও আব্দুল আলীকে পাঠায়। এ দুজন তাদের কমিশন রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেত্রকোনার এজেন্ট এরশাদ ও সোহাগকে পাঠায়। নেত্রকোনা থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা চলে যায় সিলেটের জাফলংয়ে। সেখান থেকে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতের শিলংয়ে চলে যায় বলে জানা যায়। এভাবে প্রতিদিন এই চক্রটি সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত