প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: একুশে আগস্ট, শেখ হাসিনা এবং সময়ের ঘুরে দাঁড়ানো

অজয় দাশগুপ্ত: সমালোচনা করা বাঙালির স্বভাব। যেকোনো কিছু নিয়ে কথা বলা বা মতামত দেওয়াও এখন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার পর এই প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। দেশের স্পর্শকাতর বিষয়েও দেদার মতামত আর সব জান্তাদের মন্তব্য পড়লে মনে হয়, তারা সব জানেন। আমি বলছি, এই দেশের সবচেয়ে নারকীয় আক্রমণের অন্যতম একুশে অগাস্ট বিষয়ে। আমি শুরুতেই বলে নিতে চাই এই বিষয়ে মতামত দেওয়া নিরর্থক। কারণ সবাই জানেন, কার নির্দেশে আর কার হাত থাকলে দিনদুপুরে রাজধানীর বুকে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার জন্য গ্রেনেডের মতো শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করার হিম্মত পায় কেউ।

১৫ অগাস্ট থেকে ২১ অগাস্টের দূরত্ব মাত্র ৬ দিন। খেয়াল করুন সেই অগাস্ট মাস। এই মাসে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে নির্মমভাবে বিদায় নেন আমাদের মহানায়ক। বাংলাদেশকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করেছিল সে ঘটনা। তারপরও দেশ-জাতি দমেনি। যৌবন থেকে যৌবনের শেষ অবদি আমরা রাজপথে লড়াই করা আওয়ামী লীগকে দেখেছি। সে ইতিহাসের কান্ডারি ছিলেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসার পর আওয়ামী লীগের পালে নতুন হাওয়া লাগে। তাদের নেতৃত্বের সংকট চলে যায়। ধীরে ধীরে তিনি দলকে নিয়ে যান দেশ শাসনে। ৯৬ সালে একুশ বছর পর আওয়ামী লীগ দেশশাসনে এসে প্রমাণ করে এই দেশ পাকিস্তানে পরিণত হয়নি। হবে না। এই ভয়টাই ২১ অগাস্টের হামলার মূল কারণ।

বিএনপির তরুণ নেতা-সহ যাদের প্রতি আঙুল তোলা হয় তাদের ভূমিকা বা সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কিছু বলার দরকার দেখি না। আমাদের এটা মনে রাখতে হবে সে দিনই নির্ধারিত হয়ে গেছিল দেশ আফগানিস্তনান হবার হাত থেকে বেঁচে গেছে। এটা বুঝিয়ে বলার দরকার পড়ে না সেদিন যদি শেখ হাসিনার কিছু হতো এইদেশ আজ মারামারি বোমা গ্রেনেড আর জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো। কারণ হত্যাকারীরা সাকসেসফুল হবার পর নিয়মানুযায়ী তাদের কথা তাদের চাওয়া রাখতে বাধ্য হতো তখনকার সরকার। আর তার মাশুল দিতে দিতে দেশ পরিণত হতো জঙ্গিরাষ্ট্রে।

আর একটি কথা বলা দরকার। সময় সবচাইতে বড় বিচারক। তার ধারে কাছে নেই কোনো বিচার। সে জান তো শেখ হাসিনাকে বাঁচতেই হবে। তিনি না বাঁচলে একাত্তরের খুনি দালাল পঁচাত্তরের ঘাতকদের বিচার হবে না। শাস্তি হবে না। সময় এটাও প্রমাণ করে দিয়েছে অনেক অপরাধের বিচার হয়তো হয় না কিন্তু পাপের বিচার মুক্ত হবার কোনো সুযোগ নেই। সে পাপের কারণেই এরা মরেছে আর পাপের মুখে ছাই দিয়ে বেঁচে আছেন শেখ হাসিনা।

এদিনে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি ও পরিবারের প্রতি জানাই সমবেদনা। মনে করিয়ে দিতে চাই আওয়ামী লীগের হাজার ভুল ভ্রান্তি আর আজকের অপসাসন বা ডাকাতির নামে কারো কারো আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও এটি সেই দল যাদের নেতারা নিজেদের জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই ভালোবাসাকেই তাদের নেতা প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন : আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম। একুশে আগস্ট ঘৃণায় নিমজ্জিত থাক অন্ধকারে।

লেখক : সিডনিপ্রবাসী কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত