প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উন্নয়ন কাজে আরো গতি আনতে উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামো চায় গণপূর্ত অধিদফতর

সুজিৎ নন্দী : [২] উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের যথাযথ তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামো চেয়েছে সরকারের অন্যতম প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদফতর। এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব প্রায় এক বছর আগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুমোদনের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন এই জনবল কাঠামো অনুমোদন হলে অধিপ্তরের জনবল দাঁড়াবে প্রায় ১৬ হাজারের বেশি।

[৩] গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেছেন, প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোর খুব দ্রুত অনুমোদন প্রয়োজন। কারণ অধিদপ্তরের কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় জনবল না বাড়ায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

[৪] প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থানা ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও সরকারের সব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন করে থাকে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এজন্যই মাঠ পর্যায়ে জনবল কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

[৫] নতুন জনবল কাঠামোয় ঢাকায় গণপূর্তের আরও কয়েকটি ডিভিশন ও সার্কেল ছাড়াও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জোন, সার্কেল, ডিভিশন ও সাব-ডিভিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে একজন সহকারী প্রকৌশলী এবং দুই উপজেলা মিলিয়ে একটি সাব-ডিভিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

[৬] সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এক সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরে জনবল ছিল প্রায় ২০ হাজার। ওয়ার্ক চার্জড, দৈনিকভিত্তিক ও ভাউচারভিত্তিক এসব জনবলের কারও অবসর ও মৃত্যুর কারণে শূন্য হলে ওই পদও বিলুপ্ত হতে থাকে। ২০১৮ সালে নতুন ৪৭৪টি পদের হলে তা বেশিরভাগই ছিল ইএম (ইলেকট্রিক্যাল) বিভাগের।

[৭] বিদ্যমান উন্নয়ন কাজের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন জনবল কাঠামো তৈরি করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় এটি অনুমোদন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদনের পর এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। তবে করোনার কারণে এই অনুমোদন প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

[৮] সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঝে কিছু পদ সৃষ্টি ছাড়া জনবল কাঠামো সেই ১৯৮৪ সালের এনাম কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রয়ে গেছে। এই জনবল দিয়ে একবিংশ শতাব্দীতে সার্ভিস দেয়া কঠিন। এখন ইলেকট্রিশিয়ান থেকে শুরু করে সুইপারের তীব্র সঙ্কট রয়েছে। জনবল কাঠামো অনুমোদন না হলে অধিদফতরের অনেক কাজই থমকে যাবে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

[৯] বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসাইন বলেন, গণপূর্ত অধিদফতর বাংলাদেশে নির্মাণ অঙ্গনের পথিকৃৎ। প্রায় দুশ বছর ধরে গণপূর্ত দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মান নির্ধারণ করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নেও এর ভূমিকা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা পেশাদারিত্ব ও কাজের মান গণপূর্ত অধিদফতরের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

[১০] এ বিষয়ে বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শওকত উল্লাহ জানান, সারা দেশে যেখানে রাজউক, সিডিএ, কেডিএ নেই সেসব জায়গায় গড়ে ওঠা বহুতল ভবনের ডিজাইন ভেটিংয়ের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরে আসে। আমাদের বিদ্যমান ডিজাইন ইউনিট আমাদের নিজস্ব চাহিদাই পূরণ করতে পারছে না। ফলে এ ইউনিট সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতদিন আমরা ৫-৬ তলা ভবন নির্মাণ করতাম। এখন ২০ তলা ভবন নির্মাণ করছি। কিন্তু এর ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য আলাদা কোনো ইউনিট নেই। নতুন প্রস্তাবনায় আধুনিক নির্মাণশৈলীর জন্য একটি গ্লাস ডিজাইন ইউনিটেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত