প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জায়েদুল আহসান পিন্টু: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জায়েদুল আহসান পিন্টু: ১। সেপ্টেম্বর ১৯৫৬। পিরোজপুর গোপালকৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠ। মন্ত্রী হিসেবে জনসভায় ভাষণ।
‘…কোনো অফিস-আদালতে দুর্নীতি হলে এবং আপনাদের নিকট কেউ ঘুষ চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তিন পয়সার একটি পোস্ট-কার্ডে লিখে আমাকে জানাবেন। আমি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে দুর্নীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।’

২। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
… কর্মচারীদের বলে দেবার চাই, একজনও ঘুষ খাবেন না, ঘুষখোরদের আমি ক্ষমা করব না।’

৩। ৫ এপ্রিল ১৯৭২। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ। জনসভা।
‘…আপনাদের কাছে আমার আরেকটা অনুরোধ হলো যে, দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করতে রাজি আছেন কিনা?’

৪। ১১ জানুয়ারি ১৯৭৫। কুমিল্লা সেনানিবাস।
‘…আর এই চোরের দল আমার দুঃখী মানুষের সর্বনাশ করে এভাবে লুটতরাজ করে খায়। …এই বাংলার মাটি থেকে এই দুর্নীতিবাজ, এই ঘুষখোর, এই মুনাফাখোরী এই চোরাচালানকারীদের নির্মূল করতে হবে।’

৫। ১৫ জানুয়ারি ১৯৭৫। রাজারবাগ পুলিশ লাইন। পুলিশ সপ্তাহ।
“একদল লোকের পয়সার লোভ অত্যন্ত বেড়ে গেছে। পয়সার জন্য তাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। মৃত্যুর পর এ পয়সা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। …প্রতিজ্ঞা করুন, ‘আমরা দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকব।’ প্রতিজ্ঞা করুন আমরা দুর্নীতিবাজ খতম করব।”

৬। ৮ মার্চ ১৯৭৫। কাগমারীতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের উদ্বোধন।
“বাংলাদেশের শতকরা ২৫ ভাগ দুঃখ দূর হয়ে যাবে যদি দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যায়। …। আজ দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হয় যে, আজকে যারা আমরা অনেকে দুর্নীতিবাজ হয়ে গেছি। তারপর আমরা দুর্নীতিবিরোধী বক্তৃতা করি। লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায় আমার। আমি অনুরোধ করব যে, আত্মশুদ্ধি করে মানুষ হও। …দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চাই।”

৭। ২৬ মার্চ ১৯৭৫। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। জীবনের শেষ জনসভায় ভাষণ।
‘…আজ কে দুর্নীতিবাজ? যে ফাঁকি দেয় সে দুর্নীতিবাজ। যে ঘুষ খায় সে দুর্নীতিবাজ। যে স্মাগলিং করে সে দুর্নীতিবাজ। যে ব্ল্যাকমার্কেটিং করে সে দুর্নীতিবাজ। যে হোর্ড করে সে দুর্নীতিবাজ। যারা কর্তব্য পালন করে না তারা দুর্নীতিবাজ। যারা বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করে তারাও দুর্নীতিবাজ। যারা বিদেশের কাছে দেশকে বিক্রি করে তারাও দুর্নীতিবাজ। এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম শুরু করতে হবে।’

৮। ২১ জুলাই ১৯৭৫। জেলা গভর্নরদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন।
“শুধু নিজেরা ঘুষ খাওয়াই করাপশন নয়। এ সম্বন্ধে আমার কথা হলো-করাপ্ট পিপলকে সাহায্য করাও করাপশন। নেপোটিজমও কিন্তু এ টাইপ অব করাপশন। স্বজনপ্রীতিও কিন্তু করাপশন। আপনারা এসব বন্ধ করুন। …।”

৯। ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫। জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর শেষ ভাষণ।
“যদি সকলে মিলে আপনারা নতুন প্রাণে নতুন মন নিয়ে খোদাকে হাজির-নাজির করে, নিজের আত্মসংশোধন করে, আত্মশুদ্ধি করে, ‘ইনশাআল্লাহ্’ বলে কাজে অগ্রসর হন, তাহলে জানবেন, বাংলার জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে…। ইনশাআল্লাহ্ আমরা কামিয়াব হবোই।”

ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত