প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৩ কিশোরকে ‘পিটিয়ে’ মারা হয়

যশোর প্রতিনিধি: [২] যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে হতাহতের ঘটনা কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সৃষ্ট নয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। একই অভিযোগ এ ঘটনায় আহত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদেরও।

[৩] বৃহস্পতিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ ১০ জনেকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সমাজসেবা অধিদপ্তর এ ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন নিহত একজনের বাবা।

[৪] শুক্রবার সকাল থেকে হতাহতের অভিভাবকসহ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের অভিভাবকরা কেন্দ্রের সামনে ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করেন।

[৫] নিহত পারভেজের মা পারভীন বলেন, পরশু ছেলে তাকে মোবাইল ফোনে বলেছে ভেতরে স্যারেরা মারছে। খেতে দেয়নি, আমারে নিয়ে যাও মা।

[৬] নিহত নাইমের বড় ভাই শামীম বলেন, কেউ তাদের খবর দেয়নি। টেলিভিশনের খবরে নিহতদের মধ্যে ভাইয়ের ছবি ও নাম দেখে রাতেই বগুড়া দেখে রওনা দেন। তাদের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার তালিপপুর পূর্বপাড়ায়।

[৭] ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা যারা অপরাধ নিয়ে কাজ করি, তারা ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। যে কারণে মূল ঘটনা জানা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

[৮] তিনি বলেন, যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তারাই এই ঘটনার মূল সাক্ষি। মৃত্যুপথযাত্রী কেউই মিথ্যা কথা বলে না। তাদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে তাদের বিষয় গুরুত্ব পাবে। সবশেষ আমি বলতে চাই, বৃহস্পতিবারের ঘটনা একপক্ষীয়।

[৯] শুক্রবার সকালে যশোরের পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১০ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

[১০] তাদের মধ্যে কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুশফিক আহমেদ ও প্রধান নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলাম রয়েছেন।

[১১] এ ঘটনায় ১৫ কিশোরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে আনা হয় আরও একজনকে।

[১২] চিকিৎসাধীন চুয়াডাঙ্গার পাভেল বলে, ৩ আগস্ট কেন্দ্রের হেড গার্ড (আনসার সদস্য) নূর ইসলাম তার চুল কেটে দিতে বলেন। সেদিন কেন্দ্রের প্রায় দু শ জনের চুল কেটে দেওয়ায় হাত ব্যথা ছিল। সে কারণে তার চুল পরে কেটে দেওয়া হবে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে কয়েক কিশোর তাকে মারধর করে।

[১৩] পাভেল আরো জানায়, ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে তাদের অফিসে ডাকা হয় এবং এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা ঘটনা জানানোর একপর্যায়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুশফিকসহ অন্যান্য স্যাররা মারপিটে অংশ নেন।

[১৪] সে আরো অভিযোগ করে, প্রবেশন অফিসার মারধরের সময় বলেন- তোদের বেশি বাড় বেড়েছে। জেল পলাতক হিসেবে তোদের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।

[১৫] আহতরা জানায়, মারধর করে তাদের কেন্দ্রের খোলা চত্বরে এখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়। পরে একজন করে মারা গেলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে চার দফায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়।

[১৪] শুক্রবার দুপুরে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে।

[১৫] নিহত পারভেজ হাসানের বাবা রোকা মিয়া এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যশোর কোতয়ালি থানায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

[১৬] অপরদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম। এ কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম। তদন্তকারী দুজন হচ্ছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্মসচিব সৈয়দ মো. নূরুল বাসির ও উপপরিচালক এএম মাহমুদুল্লাহ। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত