প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হামার রংপুরের ছাওয়াল সজীব ওয়াজেদ জয়

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ : তৎকালীন বৃহত্তর রংপুর শিক্ষা-দীক্ষায় দেশের অন্যান্য জেলা থেকে বেশ এগিয়ে ছিলো। রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। আর তারই এক মাত্র পুত্র সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়, যার জন্ম হয় ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই। সজীব ওয়াজেদ জয়ের আরও নানা পরিচয় রয়েছে। তিনি হলেন একজন বাংলাদেশি আইসিটি পরামর্শক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সজীব ওয়াজেদ জয় তার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগানকে সামনে নিয়ে আসেন এবং ঘোষণা করেন ‘দিন বদলের সনদ’। ‘দিন বদলের সনদ’ দেশের তরুণ সমাজকে আকর্ষণ করে এবং নির্বাচনে বিপুল বিজয়ে সহায়ক হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করার পরপরই সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
জয়ের মেধা ও দক্ষতায় আজ ইন্টারনেট সেবা দেশের গ্রামের মানুষের হাতের মুঠোয় এসে পৌঁছেছে এবং দেশ এখন ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ ২০১৯ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের বিগত মেয়াদের সরকারে ২০১৪ সালেও প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয়। তবে কেমন ছিলো জয়ের শিশুকাল? ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়াতে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি এখনো এক বিশাল বাস্তবতা। একই সঙ্গে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং নির্মম নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকান্ড তার চেয়েও আরও বড় বাস্তবতা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করার কারণে এই বাস্তবতা জয় এড়িয়ে যেতে পারেনি। মাত্র চার বছর বয়সে আপন নানা-নানী, মামা-মামী-সহ পরিবারের অনেক কাছের জনকে নির্মমভাবে হত্যা হতে দেখেছেন। উদবাস্তুর মতো জীবন কাটাতে হয়েছে বিদেশে। স্বদেশ তার কাছে ছিল এক অলীক স্বপ্ন। আর আশ্রিত হয়ে জীবন কাটানোর যে কষ্ট তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেই চার বছর বয়স থেকেই।

অমানবিক মনস্তাত্বিক চাপের মাঝে বেড়ে ওঠা তার। পরিচয় গোপন করে বাবা-মার সঙ্গে ভারতে বসবাস, জীবনের অনিশ্চয়তা, অর্থাভাব, বাবা-মা র অপরিসীম জীবন যুদ্ধ অনেক কিছুকে উতরেই তাকে পথ চলতে হয়েছে। মেনে নিতে হয়েছে নিয়তির অন্যায্য পরিহাস। এক মাত্র খালার দায়িত্ব রেখে মা শেখ হাসিনা যখন ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন করলো তখন তার বয়স মাত্র দশ। দশ বছরের শিশুটি জানতোও না, মায়ের সঙ্গে আর দেখা হবে কিনা। কী নিষ্ঠুর বাস্তবতা। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য মায়ের থেকে দূরত্ব মেনে নিয়েছিলেন সেদিনের ছোট্ট জয়। জীবনের বন্ধুর পথ জয়কে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে তুলেছে। জয় নিজেকে গড়ে তুলেছে নানা প্রতিবন্ধকতায় আর ঘাত-প্রতিঘাতে।

একাকীত্ববোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়নি। বরং বাংলাদেশকে আরও বেশি করে বুঝতে সাহায্য করেছে। নানা, মা আর বাবার মতো দেশকে নিয়ে স্বপ্ন জয়ও দেখতেন। অপেক্ষা শুধু সময় আর বাস্তবায়নের। পড়ালেখায় ঘাটতি ছিলনা চেষ্টার। নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ হতে স্নাতক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এ্যট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করেন। পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক-প্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ বহুবিধ। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ার জন্য তার কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশ্চুম্বি। একই কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধাও রয়েছে প্রচুর। মাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসতে দেখেছেন বহুবার।

ছোটকাল থেকেই ‘হারানোর’ যন্ত্রণা কী সেটা বুঝেছেন। রাজনৈতিক রক্তপিপাসুদের মাঝ দিয়েই তাকে হেঁটে যেতে হবে বহু বহু দূর। চাটুকারদের অহেতুক সর্বনাশা মিষ্টি কথা অগ্রাহ্য করে সামনের পথ তৈরি করে নিতে হবে জয়কে। বড্ড ভয় হয় তবুও। খুনি হায়েনারা ওঁৎ পেতে বসে আছে সবখানে। সুযোগ পেলেই একাত্তরের প্রতিহিংসা নিতে পিছুপা হবে না, যেমনটি ঘটেছিলো ১৯৭৫ কিংবা ২০০৪ সালে। তবে আমার আস্থা আছে জয় পারবে। পারবে নতুন কোন স্বপ্নে ভাসাতে আমাদেরকে। পারবে আমাদের নতুন দিক নির্দেশনা দিতে। আমি নিজে তিস্তা পাড়ের মেয়ে; রংপুর আমারও আদি নিবাস। নদীর ভাঙ্গনে ভয় পাই না আমরা, মঙ্গা আমাদের দমাতে পারেনি, এক কাপড়ে দিনের পর দিন ভাতের মাড় খেয়ে বেঁচে থাকতে জানা আছে আমাদের। আসলে বানভাসি মানুষেরা প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই মাটি কামড়ে বেঁচে থাকে। আর হামার অংপুরের ছাওয়াল সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়িবার না পাইবে? ঠিকে পাইবে। লেখক : আইনজীবী ও আইনের শিক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত