প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ম অবমাননার দায়ে নাইজেরিয়ায় গায়কের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট : ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে অবমাননার দায়ে নাইজেরিয়ার এক গায়ককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কানো রাজ্যের একটি শরিয়া আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) রাজ্যের হাওসায় ফিলিন হোকি এলাকার উচ্চ শরিয়া আদালত ২২ বছরের ইয়াহিয়া শরিফ-আমিনুকে ধর্ম অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে। গত মার্চে নিজের গাওয়া একটি গান হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগ অস্বীকার করেননি আমিনু। তবে শরিয়া আদালতের বিচারক খাদি আলিয়ু মো. কানি জানিয়েছেন, দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ১২টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে শরিয়া বিচার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর অধীনে কেবল মুসলমানদেরই বিচার হয়। নিজস্ব আপিল আদালত থাকা শরিয়া ব্যবস্থায় মুসলমানদের সিভিল ও ক্রিমিনাল দুই ধরণের অপরাধেরই বিচার করা হয়ে থাকে। তবে এই আদালতের রায়কে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টেও চ্যালেঞ্জ করা যায়। আলকালিস নামে পরিচিত দেশটির শরিয়া আদালতের বিচারকেরা ইসলামিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ উভয় আইন সম্পর্কেই জ্ঞান রাখেন। যদি মুসলমান ও অমুসলমানের মধ্যকার কোনও মামলা সামনে আসে তাহলে অমুসলিম ব্যক্তি আদালত বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। অমুসলিম ব্যক্তির লিখিত অনুমতি পেলেই কেবল তার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি করতে পারে শরিয়া আদালত। এই আদালতের শাস্তির মধ্যে রয়েছে, বেত্রাঘাত, অঙ্গচ্ছেদ এবং মৃত্যুদণ্ড। ১৯৯৯ সালে পুনরায় চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় শরিয়া আদালতের দেওয়া একটি মাত্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

সোমবার শরিয়া আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া গায়ক ইয়াহিয়া শরিফ-আমিনু মার্চে গানটি কম্পোজ করার পরই আত্মগোপনে চলে যান। বিক্ষোভকারীরা তার পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দেশটির হিসবাহ নামে পরিচিত ইসলামিক পুলিশ বাহিনীর সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভও হয়। যদিও গানটি ছড়িয়ে পড়ার মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানায় দেশটির ইসলামিক পুলিশ।

পরে ইয়াহিয়া শরিফ-আমিনুকে আটক করা হয়। শরিয়া আদালতের রায় ঘোষণার সময়েও বন্দি রয়েছেন তিনি। সমালোচকেরা বলছেন, নিজের গানে দেশটির তাজানিয়া সম্প্রদায়ের এক ইমামকে হযরত মোহাম্মদ (সা) এর চেয়ে উপরে স্থান দিয়ে ইমামের প্রশংসা করেছিলেন আমিনু। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি ধর্ম অবমাননা করেন বলে প্রমাণ পায় শরিয়া আদালত।

গায়ক ইয়াহিয়া শরিফ-আমিনুকে গ্রেফতারের দাবির বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইদ্রিস ইব্রাহিম। রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইয়াহিয়ার পথ অনুসরণ করতে চাওয়া অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হবে এই রায়। তিনি বলেন, ‘রায় শোনার পর আমি খুবই খুশি হয়েছি কারণ এতে প্রমাণ হয়েছে আমাদের বিক্ষোভ বিফলে যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা মনে করে আমাদের ধর্ম এবং নবীকে অবজ্ঞা করে পার পেয়ে যাবে তাদের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে এই রায়।’

গত মার্চে গ্রেফতারের আগে নাইজেরিয়ার খু্ব অল্প মানুষই গায়ক ইয়াহিয়া শরিফ-আমিনুর কথা জানতো। ইসলামী সংগীত শিল্পী হিসেবে উত্তর নাইজেরিয়াতেও খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না তিনি। তাজানিয়া সম্প্রদায়ের বাইরেও জনপ্রিয় ছিলো না তার গান। দেশটির এই সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে আমিনুর মতো অনেক গায়ক রয়েছে।

নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেছে। এসবের মধ্যে বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কের মামলায় নারীদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তবে এনিয়ে দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছে। তবে এই আদালতের ঘোষণার পর মৃতুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ঘটে ২০০২ সালে। ওই বছর এক নারী ও তার দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

পরে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার দায়ে আবদুলাজেজ ইনিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত। কানো রাজ্যে এক গোপন বিচারে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি তাজানিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ইব্রাহিম নিয়াসিকে হযরত মোহাম্মদ (সা) এর চেয়েও বড় বলে অভিহিত করেছেন। পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে সেনেগালের বংশোদ্ভূত ইব্রাহিম নিয়াসির।

২০১৬ সালে আবদুলাজেজ ইনিয়াসের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। কারণ নাইজেরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে রাজ্যের গভর্নরের অনুমোদন পেতে হয়। দণ্ড ঘোষণার পর থেকেই এখনও আটক রয়েছেন ইনিয়াস।

সর্বাধিক পঠিত