প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হতাশা কাটেনি পর্যটনশিল্পে

ডেস্ক রিপোর্ট : হতাশা কাটেনি দেশের পর্যটনশিল্পে। যদিও ১৭ আগস্ট খুলছে পর্যটননগর ও বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এর আগে খুলেছে দেশের আরেক সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। আগামী মাসে আকাশপথে অধিক যাত্রী পরিবহনের আভাসও মিলেছে। তার পরও হা-হুতাশ করছেন পর্যটনের ১৬ উপখাতের অংশীজনেরা। পর্যটন খাত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা আর কর্মচারীরা নিদারুণ কষ্টে আছেন।

জানা গেছে, মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখা পর্যটনশিল্পে করোনার আঘাতে গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। পুরোপুরি উড়ছে না উড়োজাহাজ। আসছেন না বিদেশিরা। দেশি পর্যটকরাও নিরাপদ দূরত্ব মেনে আছেন ঘরে। ফলে বিনোদন কেন্দ্র, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে নেই ভ্রমণপিয়াসীরা। আগামী দিনে কী হবে- এই ভেবে সবাই হা-হুতাশ করছেন।

পর্যটন খাতের অভিজ্ঞ বিশ্লেষক ও ভ্রমণবিষয়ক ইংরেজি মাসিক পত্রিকা ‘দ্য মনিটর’ সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম গতকাল বলেন, ২০২২ সালের আগে অ্যাভিয়েশন খাত ঘুরে দাঁড়াবে না। ফলে পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিপদ বাড়বে।

তার মতে, শুধু পর্যটনশিল্প নয়, এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষ যখন আস্থা পাবে, তখনই পর্যটনে আসবে। এ ক্ষেত্রে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে সামাজিক মাধ্যমে প্রমোশন করতে হবে। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেশির ভাগ হোটেলে অতিথির সংখ্যা নেমে এসেছে ২ থেকে ৩ শতাংশে। এটি স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে না পারায় এরই মধ্যে বেশ কিছু হোটেল তাদের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম গতকাল বলেন, ‘করোনার কারণে গত চার মাসে পুরো ব্যবসা বন্ধ ছিল। তবে খুশির কথা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৭ আগস্ট খুলে দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। তাই আমরা এখন সব প্রতিষ্ঠান ধুয়েমুছে চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

পর্যটনশিল্পে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ার তথ্য দিয়ে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, আপাতত পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জনজীবন যখন স্বাভাবিক হবে, স্বস্তি ও শান্তিময় হবে, তখনই ঘুরে দাঁড়াবে এ শিল্প। স্থানীয় পর্যটকরা ভালো নেই। মানুষের হাতে টাকার সরবরাহ বাড়লেই তারা ঘুরতে বেড়াবে। লকডাউন প্রত্যাহার হলেই মানুষ ঘুরতে বেড়াবে না। আগামীতে ১ কোটির বদলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ঘুরতে বেড়াবে।

টোয়াব চলমান সংকট মোকাবিলায় আপৎকালীন সুপারিশে বলেছে- এক. পর্যটনে আপৎকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। দুই. প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীর বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য লোকসান সমন্বয় করতে হবে। মূলধন সংকট নিরসনে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় পরবর্তী দুই বছরের জন্য সহজ শর্তে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি ঋণের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে। তিন. পর্যটনের এই কঠিন সময়ে আগামী তিন অর্থবছরের বাজেটে পর্যটন খাতের সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের যথেষ্ট বরাদ্দ দিতে হবে। চার. অগ্রিম আয়কর এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ফি, পস মেশিন ট্রানজেকশন ফি ও ইউলিটি বিল, হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ করা এবং চলমান ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ও সুদ মওকুফ করা জরুরি।

অন্যদিকে করোনায় বিপর্যয়ের মুখে দেশের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হোটেল খাত বাঁচাতে সম্প্রতি সরকারের কাছে ছয় দফা সুপারিশনামা দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন-বিআইএইচএ। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদানে ৫০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছে। এর সঙ্গে কর ও বিভিন্ন পরিষেবা বিল পরিশোধে ছাড় চেয়ে বলেছে, করোনার প্রভাবে তারকা হোটেল খাতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি চলতি বছরই ৭ হাজার কোটি ছাড়াবে। বেশির ভাগ হোটেলের অতিথি সংখ্যা ২-৩ শতাংশে নেমেছে, যা স্মরণকালে সর্বনিম্ন।

বিআইএইচএ সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী বলেন, এয়ারলাইনসগুলো পুরোপুরি চালু না হলে বুঝতে পারছি না পর্যটন খাতের কী হবে। আসলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশে কেউ আসবেও না, যাবেও না। অনেক দেশই পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণ করছে। ইউরোপের দেশগুলোও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন খাতের ব্যবসা।বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত