প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাড়ছে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ডুবছে ডিএনডি

মনজুর অনিক: [২] তবে ডিএনডি বাসির দূর্ভোগ লাঘব করতে শিমরাইলে চালু করা হয়েছে দুটি পানি নিষ্কাশন পাম্প। পাম্প দুটি থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১১ হাজার লিটার পানি শীতলক্ষ্যায় পতিত হচ্ছে। এতে ডিএনডি’র অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ডিএনডি বাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

[৩] পাশাপাশি অবিরাম পানি নিস্কাশনের জন্য আরো দুটি পাম্প প্রস্তত রেখেছে সেনাবাহিনী। নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবেনা। গত দুই দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপদসীমার উপরে রয়েছে। ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হতে শুরু হয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে ফতুল্লার দুটি ইউনিয়নকে পুরো প্লাবিত করেছে আর বালু নদীর পানিও বাড়ছে দ্রুত। তব শীতলক্ষ্যা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে বিপন সিমানর উপর দিয়ে পবাহিত হচ্ছে। এদিকে শীতলক্ষ্যা নদী বৃদ্ধি পেলেও, ডিএনডি এলাকা ও সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত শিমরাইল পাম্প ষ্টেশন সচল রেখেছে সেনাবাহিনী সরেজমিন ঘুরে দেখা গেল এ চিত্র।

[৪] ডিএনডি প্রকল্পের ফেজ-২ এর প্রজেক্ট অফিসার ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মেজর সৈয়দ মোস্তাকীন হায়দার বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে ডিএনডিবাসীকে রক্ষা করতে দিনরাত কাজ চলছে। শিমরাইলে চালু করা হয়েছে দুটি পানি নিষ্কাশন পাম্প। আরো দুটি পাম্প প্রস্তত রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ডিএনডি’র মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপেরেশন এবং সেনাবাহিনী কাজ করছে। তবে প্রত্যেকেই পৃথক ভাবে নিজ নিজ দপ্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

[৫] বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ৫৫৮ কোটি টাকার ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শুরু করে। সরকার তাদের পেশকৃত বাজেট বরাদ্ধ দিলে ২০২২ সালের জুন-জুলাই মাসে ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে। তবে বিশ্ব দুর্বোগ কারণে প্রকল্প কাজ শেষ করার সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

[৬] এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় নিচু এলাকাগুলির পানি কমতে শুরু করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ জজ মিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ঘর বাড়ী তরিয়ে যাচ্ছে। ময়লার স্তুপ বাড়িঘরের চলে আসছে। তবে সেনাবাহিনী সে পাম্প চালু করেছে,যদি বৃষ্টি না হয় পানি চলে যাবে। এ বিষয়ে মেজর সৈয়দ মোস্তাকীন হায়দার জানান, ভুমি অধিগ্রহনের জটিলতায় বিশেষ বিশেষ জায়গায় পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে পানি সাময়িক আটকে থাকলেও বিকল্পভাবে এটি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানাগেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর পানি বিপদ সীমার সামান্য উপরে থাকলেও সমস্যা নেই। জেলায় বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। জেলা কৃষি বিভাগের মতে এ যাবত ১৮৬ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। নদ-নদীর পানি আরো কমতে পারে।

[৭] উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে কৃষি কাজের জন্য গড়ে তোলা হয় ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা ডিএনডি বাঁধ। কিন্তু এর ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে হাজারো বাড়ি ঘর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। দখল হয়ে যায় পানি নিস্কাশনের বেশির ভাগ খাল। অনেক জায়গায় পলিথিনসহ বিভিন্ন ময়লা আর্বজনা জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাধের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ দূর করতে ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ হয়েছে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত