প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুন্নি সাহার মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন! : চোখের জলে বুক ভাসে, আহা স্পর্শ! আহা মা.. জয়তু শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট : মুন্নী সাহা- একটি নাম, একজন সংবাদকর্মী কিংবা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে একটি মিথ, একটি প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকতাকে নিয়ে গেছেন অন্যমাত্রায়, প্রমাণ করেছেন- মেধা, পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় সম্ভব সবই। মানবিকতা, সচেতনতা এবং দেশের কল্যাণেই সাংবাদিকতা- এমন বিশ্বাসেই এগিয়ে চলেছেন একনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের এই প্রবাদকন্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে নিয়ে তার ভ্যারিফাইড ফেসবুকে শুক্রবার(৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় একটি আবেগঘন ষ্ট্যাটাস দেন। আমাদেরসময়.কমের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি নিচে দেওয়া হলো :

শুক্রবারের অলস দুপুরে খাবার টেবিলে মায়ের সাথে আড্ডা। প্রতিবেশী মানা আপা ঝুম্ প্রশংসা করছিলেন, আপেল রানীর হাতের ছানার পুড় এর পটল আর নারকেল দিয়ে ছোলার ডালের। দুপুরের গল্পের ক্যারেক্টার বোধহয় এমনই হয়, এক ঝটকায় জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো। সেখানে স্মৃতির নিকোনো উঠোনে, সারি সারি লক্ষ্মীর পায়ের ওপর পা টিপে টিপে গল্প ঘরে প্রবেশ করা। তিন প্রজন্মের, তিন রকমের বাস্তবতার তিন কন্যা আমরা দাঁতে- চোখে- মুখে গল্পের মিষ্টি মশলা মাখি। মা- আমি আর প্রতিবেশী মানা আপা।
হঠাৎ আমার সরল মা অনেকদিন পর মেমোরি ফিরে পাওয়ার মতো খুশীতে বলে উঠলো– ” ও মুন্না… আমারে তো শেখ হাসিনা ফোন করছিলো”…
এক সেকেন্ড দ্বিধা না করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, একটু নাটুকে এক্সপ্রেশনে… “তাই নাকি? ক্যান? কখন করলো? কিছু জিগাইছে”?
আপেলার জবাব— কালকে দুপুরে, তুই মাত্র অফিসে বাইর হইছস… তখই। দেখি ফোনটা বাজতাছে। ধরছি, আর কইলো “আমি শেখ হাসিনা বলছি”। ধরতে ধরতেই… শুরুতে মাসি, কেমন আছেন কইল কিনা বুঝতে পারি নাই।
ওহ! আমি গম্ভীর গলায় ( এ্যাক্টটিং) বললাম— তুমি কি কইলা?
আমি আর কি কমু, উনি অনেক কথা কইতাছে, আমি জিগাইলাম আপনার শরীরটা ভাল আছে নাকি? কইলাম, মুন্নাটায় ফোন ধরে না, ব্যাগে ফোন বাজতেই থাকে…
আমার সরল সিধা মা টা কে ‘বাকারা’ বানানোর জন্য কিছুক্ষন অভিনয় চালালাম।
“মা, তুমি চান্স পাইছো আর শেখ হাসিনার কাছে আমার নামে নালিশ কইরা দিসো? তুমি … না…”!
বাংলাদেশের অন্তত ১২ কোটি মোবাইল গ্রাহকের অনেকেই ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার ফোন পেয়েছেন, আর টিভি, খবরের কাগজের কারনে সবাই এই ফোনের রহস্য জেনেও গেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই করোনাকালে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, এবং রেকর্ডেড বার্তায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের অাহবান জানিয়েছেন। এর আগেও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর কন্ঠটি নিজ ফোনে, নিজ কানে শুনেছেন, নানান উৎসব পার্বনে।
কিন্তু সেগুলোর চাইতে এবারের টা যেন কিছুটা আলাদা। ভয়েস রেকর্ডে শুভেচ্ছা বানীতে শুরুতেই তিনি সালাম জানিয়ে বলেছেন— “আমি শেখ হাসিনা বলছি”। বলার ভঙ্গিটা এমন— যখন মা শুনবেন, তখন মনে হবে তাঁর কন্যাটিই কাছ থেকে এমন আপন করে বলছেন… সন্তান শুনবে মায়ের মায়া, ভাই শুনবে প্রিয় বোনকে, বোন তার আব্দারের দিদির ডাক বুঝতে পারবেন। পদ পদবী, রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের কোনো আঁচ পরেনি, গলায়- বলায়। প্রতিটি মানুষকে কানের পাশে আদর করেই তিনি বলতে চেয়েছেন, এই করোনাকালে ভালো থাকুন, সাবধানে থাকুন। সে কারনেই আমার মায়ের মত সহজ সরল ৭৬ বছর বয়েসী এক মহিলার এক বিন্দুও সন্দেহ হয়নি, ওটা সত্যি প্রধানমন্ত্রী? নাকি তাঁর রেকর্ডেড গলা।
আর, আমার মা আজকাল সব কথা সব সময় চট্ করে বোঝে না। মুখ নাড়া বা কোনো শব্দ শুনলে, তার ধারনামত অন্যকিছু বলতেই থাকে।
একটু আগেই জিজ্ঞেস করছিলাম— মা… ওমা আ আ, ঝাড়ুটা কই রাখছো?
উনি উত্তর দেন— “হ্যা, এখন তরে ডাইলের বড়ি কে কইরা দিবো… “এমন আর কি!
কে জানে শেখ হাসিনাকে, আমার মা, আপেল রানী সাহা, হাংলি পাংলি কী বলেছে, এক তরফা নিজের মতো! ভাগ্যিস ফোনের ওপারে শেখ হাসিনার রেকর্ডেড ভয়েস।
তো এমন সরল মানুষটার শিশুর মত আনন্দ আমরা সবাই উপভোগ করছিলাম। হলবল করে মা বলে যাচ্ছে… “আমারে শেখ হাসিনা কইছে করোনার সময় আপনারা সাবধানে থাকবেন, দোয়া করবেন, ঈদ মোবারক”।
অনেকক্ষন চুপ করে থেকে মা কে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মা, শেখ হাসিনা তোমারে ফোনটা করলো ক্যান? ক্যান করলো? তোমার কি মনেহয়?
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মার্ট মহিলার মতো উত্তর —” কী জানি, তোরে ফোনে পায় নাই দেইখ্খ্যা মনেহয়”।
তোর অফিসের কতজন, তোর বান্ধবীরা তোরে ফোনে না পাইলে তো, আমার ফোনেই করে…”
“সেজন্য শেখ হাসিনা! প্রধানমন্ত্রী! তোমার নাম্বারে ফোন করবো… ক্যান মনে হইলো”?— একটু বোকামোকে কটাক্ষ করে পাল্টা জানতে চাই।
তাতে কি? আমি মুন্নী সাহার মা, জানতেই পারে আমার নাম্বার… আপেল রানীর এ বাক্যটি শেষ হতে না হতে, করোনার সাবধানতার দেয়াল ভেঙ্গে দুজন দুজনকে বুকে চেপে ধরে থাকলাম। চোখের জলে বুক ভাসে। আহা স্পর্শ! আহা মা… জয়তু শেখ হাসিনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত