প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতের আসামে গণপিটুনিতে নিহত ৩ বাংলাদেশীর ২ জনের পরিচয় শনাক্ত

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :[২] ভারতের আসাম রাজ্যে গণপিটুনিতে নিহত ৩ বাংলাদেশীর দুইজনের পরিচয় মিলেছে। বিজিবি’র মাধ্যমে বিএসএফের কাছে পাঠানো ছবি দেখে সোমবার বিকেলে দুই জনের লাশ শনাক্ত করেছে তাদের স্বজনরা। শনিবার রাতে করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি সীমান্ত এলাকার বুবরীঘাট চা বাগানের শ্রমিকনা গরুচোর সন্দেহে তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করে।

[৩] পরিচয় পাওয়া বাংলাদেশীরা হচ্ছে বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ (২৬) ও আকদ্দছ মিয়ার ছেলে নুনু মিয়া (৩২)। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা এবং পেশায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক।

[৪] বিয়ানীবাজার বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল গাজী শহীদুল্লাহ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ভারতে নিহত অপর বাংলাদেশীর পরিচয় জানার চেষ্ঠা চলছে। অপর দিকে শনাক্ত ২ বাংলাদেশীর লাশ দেশে আনার জন্য বিএসএফের সাথে যোগাযোগ হয়েছে।

[৫] সীমান্ত এলাকার সূত্রে জানা যায়, ভারতের পাথারকান্দি বুবরীঘাট চা বাগানে শনিবার রাতে গরু চোর সন্দেহে বাগান শ্রমিকরা কয়েক ব্যক্তিকে আটক করে। গণটিুনিতে তিন জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিএসএফ ১৩৪ ব্যাটালিয়নের আধিনায়ক সহ করিমগঞ্জ সীমান্ত শাখার অতিরিক্ত পুলিশ অধিক্ষক প্রশান্ত দত্ত। প্রশাসনের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৩ মৃত দেহের পকেটে থাকা বিড়ি, দেয়া শলাই, বিস্কুট, মশার কয়েল, ফেন্সিং কাটার যন্ত্রসহ কিছু নথিপত্র দেখে নিহতদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে তারা নিশ্চিত হন।

[৬] প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করেন মৃত ব্যক্তিরা মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজলার জামকান্দি এলাকার বাসিন্দা। জুড়ী বিজিবি ও থানা পুলিশ জামকান্দি এলাকায় খোঁজ করেও বিএসএফের পাঠানো তথ্যমতে কাউকে পায়নি। অবশেষে সোমবার বিকেলে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়।

[৭] নিহত জুয়েল আহমদের ভাই সোয়েল আহমদ জানান, ‘তার ভাই ও চাচা সিএনজি চালান। গত কয়েক দিন থেকে বাড়ি ফিরছেন না। ভারতে ৩ বাংলাদেশী মারা যাওয়ার খবর শুনে জুড়ী থানায় যোগাযোগ করি। ৩ জনের লাশের ছবির মধ্যে চাচাকে শনাক্ত করি। বাকিগুলো অস্পষ্ট হওয়ায় ওসি সাহেব অন্য এঙ্গেলের ছবি যোগাড় করে দেখালে ভাইকেও শনাক্ত করি। তারা কবে কিভাবে ভারতে গেছে বলতে পারছি না।’

[৮] জুড়ী থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, রোববার বিজিবি থেকে ছবি পেয়ে জামকান্দি এলাকায় তন্ন তন্ন করেও ৩ জনের লাশের কারো পরিচয় উদ্ধার করতে পারেননি। কোন মানুষ মিসিং রয়েছে বলেও কেই বলেনি। পরে বড়লেখা থানার ওসির কাছেও ছবি পাঠিয়ে দেই।

[৯] বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ছবি পেয়েই তিনি বিভিন্ন জায়গায় খোজ নিতে শুরু করেন। বিকেলে কাঞ্চনপুর গ্রামের সোয়েল আহমদ নামে এক ব্যক্তি দুইজনের ছবি শনাক্ত করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত